গতকাল দৈনিক কালবেলা আয়োজিত একটা টকশোতে গিয়েছিলাম। সেখানে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেছি। লিংক কমেন্টে। এটি দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
মোটাদাগে যেটা বলেছি সেটা হল মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আগের কোন সরকারকে আমি এত কঠিন সমালোচনার সম্মুখীন হতে দেখিনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে গ্যাস সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি কোন কিছুই এই সরকার ঠিকমতো সামাল দিতে পারছে না।

পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আচরণ ও বিতর্কিত বেসামাল বক্তব্য। গতকাল টেকনোক্র্যাট কোটায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের যা বলেছেন সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সরাসরি হ্যাঁ-না প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তার নাগরিকত্ব নিয়ে কোন পত্রিকা লিখেছে তাদের উপর বিশোধগার করছেন। সংবিধানে পরিষ্কার উল্লেখ আছে কোন ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে তিনি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হতে পারবেন না। এখানে কোন এমবিগুইটি নাই। তার বক্তব্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে তিনি তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি। প্রশ্ন হল তারেক রহমান এই ধরনের ব্যক্তিদেরকে লাভজনক পদে নিয়োগ দিয়ে অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি কেন করছেন? এর আগের দিন দেখলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করায় এক সাংবাদিকের উপর বিরক্ত হয়েছেন। সাংবাদিকের কাজই তো প্রশ্ন করা। তাই সেটার যথাযথ উত্তর না দিয়ে অসহিষ্ণু মনোভাব দেখালে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়।

এছাড়াও প্রথম মন্ত্রিসভায় দুজনের বিরুদ্ধে খুন- আত্মহত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছিল। এরা হলেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া শেখ রবিউল আলম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বহু বিতর্কিত খলিলুর রহমান। মন্ত্রিসভায় নিয়োগ পাওয়ার পর রবিউল আলমকে খুনের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা কিভাবে একের পর এক বেআইনি কাজ করে জনগণের অনাস্থা অর্জন করছে। এর সঙ্গে রয়েছে অর্থনীতির বেহাল অবস্থা এবং অসহনীয় জ্বালানি সংকট।
এ কারণে এই সরকারের প্রথমে নেওয়া দুটো জনকল্যাণমুখী প্রশংসনীয় পদক্ষেপ- ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড–নিয়ে তেমন কোন আলোচনা শুনতে পাই না। এর সুবিধাভোগীদের বর্তমান মনোভাব কি বা কি তাদের অবস্থা সেটা নিয়েও কোন সংবাদ কোথাও দেখি না।

গতকাল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যা বলেছেন তা মোটেও সুখকর নয়। মোটা দাগে তিনি বলতে চেয়েছেন, আরো কম করে দুই থেকে পাঁচ বছর লাগবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে। তিনি এ ব্যাপারে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার ছাড়াও দায়ী করেছেন সদ্য বিদায় নেওয়া ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে। এই প্রথমবারের মতো দেখতে পেলাম বর্তমান বিএনপি সরকারের কোন প্রভাবশালী মন্ত্রী এভাবে ইউনুস সরকারের সমালোচনা করছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশন নিতে দেখছি না। উল্টো দেখতে পাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুযোগ পেলেই ঘৃণিত মুহাম্মদ ইউনুসকে তার পাশে বসিয়ে জনগণকে এই বার্তাই দিচ্ছেন যে তার সম্পর্কে যত সমালোচনা করা হোক না কেন আমরা তাকে প্রটেক্ট করব।

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে কতটা খারাপ সেটা দেখলাম গতকাল গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বক্তব্যে। তারা বলছে গত ছয় মাসে ৯৫ টা শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে এবং এজন্য চাকরি হারিয়েছে ৬২০০০ এর উপর শ্রমিক। যে দেশে বেকারত্ব একটা বড় সমস্যা এবং দৃশ্যমান কোন কর্মসংস্থান নেই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য সেখানে নতুন করে চাকরি হারানো বা মিলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া তো অত্যন্ত গুরুতর অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

এরকম একটা পরিস্থিতিতে যখন সরকারের মন্ত্রীরা সূট-টাই পরে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে সাধারণ জনগণকে ধৈর্য ধরতে বলেন তখন তাদের কাছে এটা প্রহসন মনে হয়। এধরনের বক্তব্য দেওয়ার আগে ক্ষমতাসীনদের অনুরোধ করবো অনুগ্রহ করে স্যুট-টাই ছেড়ে এয়ারকন্ডিশন রুম থেকে বের হয়ে তাদের সত্যিকার কষ্টটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন।
আরশাদ মাহমুদ 



















