০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বন্যায় নিখোঁজ বন্ধু, ভেসে গেল গ্ল্যান্সির পরিচিত গ্রাম ভারতে খ্রিস্টানদের উদ্বেগ, ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনে বাড়ছে হয়রানির আশঙ্কা গঙ্গা পানি চুক্তি কি ডিসেম্বরে নবায়ন না হওয়ার টানেলে ঢুকে যাচ্ছে? ওয়েলসের লিঙ্গ পরিবর্তন-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারে নতুন ও পুরোনো রেফারেল সাময়িক বন্ধ বিদেশে থাকা মানেই কি আপনজন থেকে দূরে থাকা? বৃদ্ধ বাবার কাছে ফিরতে গিয়ে যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এক মেয়ে ‘মেয়েদের হাত টানাটানি করেন নিতাই রায়’: অভিযোগ যুবদল নেতা নয়নের টেলর সুইফটের অনুপ্রেরণায় ক্যাটলিন ক্লার্কের নতুন জুতা, ভক্তদের জন্য যেন স্বপ্নপূরণ পাকিস্তানে জনপ্রিয় হচ্ছে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল, তবে বাধা এখনো অনেক পাকিস্তানের খনিজ সম্পদ: সম্ভাবনার আড়ালে বড় চ্যালেঞ্জ

৫৫ বছর বয়সে প্রযুক্তি খাত ছেড়ে শিক্ষকতা, জেন জি-র কাছ থেকে নতুন জীবনের পাঠ

তিন দশকের বেশি সময় প্রযুক্তি খাতে জনসংযোগের কাজ করেছেন তিনি। দ্রুত নিয়োগ, দ্রুত সাফল্যের প্রত্যাশা আর আরও দ্রুত কর্মী বদলের সেই জগৎ থেকে ৫৫ বছর বয়সে এসে সম্পূর্ণ নতুন এক পেশায় পা রেখেছেন। হয়েছেন উচ্চবিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষক। আর শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই তিনি আবিষ্কার করছেন, শিক্ষকতা শুধু শিক্ষার্থীদের শেখানোর বিষয় নয়—এখানে শিক্ষককেও প্রতিদিন নতুন করে শিখতে হয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে শিক্ষকদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বসে নিজেকে বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় আবিষ্কার করেন তিনি। কক্ষে থাকা অন্যদের তুলনায় তাঁর শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষদের একজন।

প্রযুক্তি খাতে তিন দশকে তিনি যা তৈরি করেছেন, সেখানে তাঁর পরিচিতি, অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের যথেষ্ট মূল্য ছিল। জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সেটি ভেঙে আবার নতুন করে দাঁড় করানো—সবই তাঁর পেশাগত জীবনের অংশ। কিন্তু শিক্ষকদের সেই প্রশিক্ষণ কক্ষে এসবের কোনো গুরুত্ব ছিল না। সেখানে তিনি শুধুই একজন নতুন শিক্ষক।

অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার দুই রকম অর্থ

প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। একসময় যাঁরা নাম জানতেন, তাঁদের সংখ্যা কমে যায়। মনে হতে পারে, ধীরে ধীরে হয়তো সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়ার সময় এসে গেছে।

কিন্তু শিক্ষকতার নতুন অভিজ্ঞতা তাঁকে অদৃশ্য হওয়ার অন্য একটি অর্থও দেখিয়েছে।

তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের পরিচয় তাঁকে নতুন দরজা দিয়ে ঢোকার সুযোগ দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু শ্রেণিকক্ষে গিয়ে সেই পরিচয় দিয়ে কাউকে শেখানো সম্ভব নয়। সেখানে তাঁকে আবার শিখতে হবে। একজন নতুন শিক্ষক হিসেবে তাঁর সামনে রয়েছে সম্পূর্ণ নতুন একটি জগৎ।

তাঁর কাছে এই দ্বিতীয় ধরনের অদৃশ্য হয়ে যাওয়াই যেন বেশি ইতিবাচক। কারণ এখানে অতীতের সাফল্য নয়, সামনে কী শেখা ও অর্জন করা সম্ভব—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

দশ মিনিটের পাঠ, অথচ নিজেরই আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা

প্রশিক্ষণে তাঁকে মাত্র দশ মিনিটের একটি পাঠ দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হলো, দশ মিনিট বলার মতো উপকরণও হয়তো তাঁর কাছে নেই।

তিনি নার্ভাস হয়ে পড়লেন, ভুল করলেন, ঘামলেন। কিন্তু অন্য শিক্ষকদের লক্ষ্য করলেন। তাঁরা কীভাবে পুরো কক্ষের মনোযোগ ধরে রাখছেন, কোনো বিষয় ঠিকমতো উপস্থাপন না হলে কীভাবে সামলে নিচ্ছেন এবং কীভাবে একে অপরকে অহংবোধ ছাড়াই পরামর্শ দিচ্ছেন—এসব তাঁর কাছে ছিল নতুন অভিজ্ঞতা।

সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন, ভালো শিক্ষকতা একটি নির্দিষ্ট কৌশল ও দীর্ঘ অনুশীলনের বিষয়। আর সেই দক্ষতা তাঁর এখনও অর্জন করা হয়নি। অস্বস্তির মধ্য দিয়েই নতুন শিক্ষকের বাস্তব যাত্রা শুরু হলো।

হঠাৎ করেই বদলে গেল জীবনের পরিকল্পনা

শিক্ষক হওয়ার সিদ্ধান্তটি তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ ছিল না। জুলাইয়ের মাঝামাঝি এক পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনে তিনি শুধু বলেছিলেন, কোনো একদিন হয়তো শিক্ষকতা করতে পারেন।

এর মাত্র তিন দিন পর কঠিন এক সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষে তিনি একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আর্থিক শিক্ষাবিষয় ও উদ্যোক্তা হওয়ার পাঠ পড়ানোর চাকরির প্রস্তাব পান।

এর আগে তিনি সংশ্লিষ্ট পেশাগত শিক্ষার সনদ অর্জন করেছিলেন। তবে সেটি কাজে লাগাতে আরও এক-দুই বছর সময় লাগবে বলেই ভেবেছিলেন। এমনকি সাক্ষাৎকারের কয়েক দিন পরও তিনি তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে নিজেদের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

তারপর হঠাৎ করেই তিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণে বসে ভাবছিলেন—জীবনের এত বড় পরিবর্তন নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তিনি আদৌ ঠিক করেছেন কি না।

শিক্ষার বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য

যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য কমানো এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা।

প্রশিক্ষণে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাজের প্রতি গভীর নিষ্ঠা দেখতে পান। কোনো শিক্ষক একটি পাঠ ভালোভাবে দিতে না পারলে অন্যরা তাঁকে পরামর্শ দিচ্ছেন, নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন এবং পরস্পরকে উন্নত হতে সাহায্য করছেন।

এই শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় ডেনভার ও অরোরা অঞ্চলের ১৬টি বিদ্যালয়ে সাত হাজার পাঁচশর বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছাড়ার সময় প্রত্যেকেই ভবিষ্যতের জন্য কোনো না কোনো পরিকল্পনা নিয়ে বের হয়—কেউ কারিগরি শিক্ষা, কেউ মহাবিদ্যালয়, কেউ সামরিক বাহিনী, আবার কেউ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।These Professors Are Retiring Early. AI Was the Last Straw.

অভিজ্ঞতা আছে, ভয়ও আছে

নতুন শিক্ষক হিসেবে তিনি শ্রেণিকক্ষে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে চান ব্যবসাজগতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তাঁর পরিচিত এমন অনেক মানুষও আছেন, যাঁরা কিশোর শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন।

তবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি অহংকারী হতে চান না। বরং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকেরা যে পাঠ্যক্রম তৈরি ও পরিমার্জন করেছেন, তার প্রতি রয়েছে তাঁর গভীর শ্রদ্ধা।

এর পাশাপাশি ভয়ও রয়েছে। তিনি ভয় পাচ্ছেন, হয়তো শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট ভালো শিক্ষক হতে পারবেন না।

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি একটি কথাই বারবার শুনেছেন—প্রথম বছরেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কারণ প্রথম বছর সবার জন্যই কঠিন। দক্ষ শিক্ষক হয়ে উঠতে সময় লাগে।

প্রযুক্তির দ্রুততার বিপরীতে শিক্ষকতার ধৈর্য

প্রযুক্তি খাতে তিনি এমন এক পরিবেশে অভ্যস্ত ছিলেন, যেখানে কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়োগ হয়ে যেত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের মূল্য প্রমাণ করতে হতো। কোনো ক্লায়েন্টও অল্প সময়ের নোটিশে চলে যেতে পারতেন।

শিক্ষকতা তাঁকে সম্পূর্ণ বিপরীত একটি শিক্ষা দিচ্ছে। এখানে অসাধারণ শিক্ষক হয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে—এবং সেটিই স্বাভাবিক।

অর্থাৎ ব্যবসাজগৎ যেখানে দ্রুত নিয়োগ করে এবং আরও দ্রুত ফলাফল বিচার করে, শিক্ষকতা সেখানে ধৈর্য ও ধারাবাহিক উন্নতির সুযোগ দেয়।

জেন জি-র আত্মবিশ্বাস তাঁকে নতুন করে ভাবাচ্ছে

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করছেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। জেন জি প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের শান্ত ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস দেখতে পাচ্ছেন, যা তাঁকে বিস্মিত করছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, আবাসনের সামর্থ্য কমছে এবং কর্মজীবনের সুযোগও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এসব বাস্তবতা তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। তবু অনেক তরুণই বিশ্বাস করে, আগামী এক বছরে তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।

তাঁর উপলব্ধি হলো, এই তরুণেরা হয়তো চারপাশের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখে না, কিন্তু নিজেদের ওপর আস্থা রাখে। আর এই আত্মবিশ্বাসের মূল্য তিনি এখন নতুন করে বুঝতে শুরু করেছেন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও শিখছেন শিক্ষক

প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই একদল কিশোর-কিশোরী তাঁর শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। প্রত্যেকেই নিজের গল্প লিখছে, নিজের সামর্থ্য আবিষ্কার করছে এবং নিজেদের শক্তিকে ভবিষ্যতের পথে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

তাঁদের ভাষা, অভিজ্ঞতা ও শেখার ধরনকে তিনি দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন না; বরং এগুলোকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

তাঁর সবচেয়ে বড় উপলব্ধি সম্ভবত এখানেই—তিনি থাকুন বা না থাকুন, এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের যাত্রায় পাশে থাকার সুযোগ পাওয়াটাই এখন তাঁর কাছে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, লড়াই হবে ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে

৫৫ বছর বয়সে প্রযুক্তি খাত ছেড়ে শিক্ষকতা, জেন জি-র কাছ থেকে নতুন জীবনের পাঠ

০৭:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

তিন দশকের বেশি সময় প্রযুক্তি খাতে জনসংযোগের কাজ করেছেন তিনি। দ্রুত নিয়োগ, দ্রুত সাফল্যের প্রত্যাশা আর আরও দ্রুত কর্মী বদলের সেই জগৎ থেকে ৫৫ বছর বয়সে এসে সম্পূর্ণ নতুন এক পেশায় পা রেখেছেন। হয়েছেন উচ্চবিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষক। আর শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই তিনি আবিষ্কার করছেন, শিক্ষকতা শুধু শিক্ষার্থীদের শেখানোর বিষয় নয়—এখানে শিক্ষককেও প্রতিদিন নতুন করে শিখতে হয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে শিক্ষকদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বসে নিজেকে বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় আবিষ্কার করেন তিনি। কক্ষে থাকা অন্যদের তুলনায় তাঁর শ্রেণিকক্ষের অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি বয়সী মানুষদের একজন।

প্রযুক্তি খাতে তিন দশকে তিনি যা তৈরি করেছেন, সেখানে তাঁর পরিচিতি, অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের যথেষ্ট মূল্য ছিল। জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সেটি ভেঙে আবার নতুন করে দাঁড় করানো—সবই তাঁর পেশাগত জীবনের অংশ। কিন্তু শিক্ষকদের সেই প্রশিক্ষণ কক্ষে এসবের কোনো গুরুত্ব ছিল না। সেখানে তিনি শুধুই একজন নতুন শিক্ষক।

অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার দুই রকম অর্থ

প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। একসময় যাঁরা নাম জানতেন, তাঁদের সংখ্যা কমে যায়। মনে হতে পারে, ধীরে ধীরে হয়তো সেই জায়গা থেকে সরে যাওয়ার সময় এসে গেছে।

কিন্তু শিক্ষকতার নতুন অভিজ্ঞতা তাঁকে অদৃশ্য হওয়ার অন্য একটি অর্থও দেখিয়েছে।

তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের পরিচয় তাঁকে নতুন দরজা দিয়ে ঢোকার সুযোগ দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু শ্রেণিকক্ষে গিয়ে সেই পরিচয় দিয়ে কাউকে শেখানো সম্ভব নয়। সেখানে তাঁকে আবার শিখতে হবে। একজন নতুন শিক্ষক হিসেবে তাঁর সামনে রয়েছে সম্পূর্ণ নতুন একটি জগৎ।

তাঁর কাছে এই দ্বিতীয় ধরনের অদৃশ্য হয়ে যাওয়াই যেন বেশি ইতিবাচক। কারণ এখানে অতীতের সাফল্য নয়, সামনে কী শেখা ও অর্জন করা সম্ভব—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

দশ মিনিটের পাঠ, অথচ নিজেরই আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা

প্রশিক্ষণে তাঁকে মাত্র দশ মিনিটের একটি পাঠ দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হলো, দশ মিনিট বলার মতো উপকরণও হয়তো তাঁর কাছে নেই।

তিনি নার্ভাস হয়ে পড়লেন, ভুল করলেন, ঘামলেন। কিন্তু অন্য শিক্ষকদের লক্ষ্য করলেন। তাঁরা কীভাবে পুরো কক্ষের মনোযোগ ধরে রাখছেন, কোনো বিষয় ঠিকমতো উপস্থাপন না হলে কীভাবে সামলে নিচ্ছেন এবং কীভাবে একে অপরকে অহংবোধ ছাড়াই পরামর্শ দিচ্ছেন—এসব তাঁর কাছে ছিল নতুন অভিজ্ঞতা।

সেই মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন, ভালো শিক্ষকতা একটি নির্দিষ্ট কৌশল ও দীর্ঘ অনুশীলনের বিষয়। আর সেই দক্ষতা তাঁর এখনও অর্জন করা হয়নি। অস্বস্তির মধ্য দিয়েই নতুন শিক্ষকের বাস্তব যাত্রা শুরু হলো।

হঠাৎ করেই বদলে গেল জীবনের পরিকল্পনা

শিক্ষক হওয়ার সিদ্ধান্তটি তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ ছিল না। জুলাইয়ের মাঝামাঝি এক পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে কথোপকথনে তিনি শুধু বলেছিলেন, কোনো একদিন হয়তো শিক্ষকতা করতে পারেন।

এর মাত্র তিন দিন পর কঠিন এক সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষে তিনি একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আর্থিক শিক্ষাবিষয় ও উদ্যোক্তা হওয়ার পাঠ পড়ানোর চাকরির প্রস্তাব পান।

এর আগে তিনি সংশ্লিষ্ট পেশাগত শিক্ষার সনদ অর্জন করেছিলেন। তবে সেটি কাজে লাগাতে আরও এক-দুই বছর সময় লাগবে বলেই ভেবেছিলেন। এমনকি সাক্ষাৎকারের কয়েক দিন পরও তিনি তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে নিজেদের জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

তারপর হঠাৎ করেই তিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণে বসে ভাবছিলেন—জীবনের এত বড় পরিবর্তন নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তিনি আদৌ ঠিক করেছেন কি না।

শিক্ষার বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য

যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছেন, তার মূল লক্ষ্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্য কমানো এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা।

প্রশিক্ষণে গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাজের প্রতি গভীর নিষ্ঠা দেখতে পান। কোনো শিক্ষক একটি পাঠ ভালোভাবে দিতে না পারলে অন্যরা তাঁকে পরামর্শ দিচ্ছেন, নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন এবং পরস্পরকে উন্নত হতে সাহায্য করছেন।

এই শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় ডেনভার ও অরোরা অঞ্চলের ১৬টি বিদ্যালয়ে সাত হাজার পাঁচশর বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় ছাড়ার সময় প্রত্যেকেই ভবিষ্যতের জন্য কোনো না কোনো পরিকল্পনা নিয়ে বের হয়—কেউ কারিগরি শিক্ষা, কেউ মহাবিদ্যালয়, কেউ সামরিক বাহিনী, আবার কেউ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়।These Professors Are Retiring Early. AI Was the Last Straw.

অভিজ্ঞতা আছে, ভয়ও আছে

নতুন শিক্ষক হিসেবে তিনি শ্রেণিকক্ষে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে চান ব্যবসাজগতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তাঁর পরিচিত এমন অনেক মানুষও আছেন, যাঁরা কিশোর শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বাস্তব কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারেন।

তবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি অহংকারী হতে চান না। বরং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকেরা যে পাঠ্যক্রম তৈরি ও পরিমার্জন করেছেন, তার প্রতি রয়েছে তাঁর গভীর শ্রদ্ধা।

এর পাশাপাশি ভয়ও রয়েছে। তিনি ভয় পাচ্ছেন, হয়তো শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট ভালো শিক্ষক হতে পারবেন না।

অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি একটি কথাই বারবার শুনেছেন—প্রথম বছরেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। কারণ প্রথম বছর সবার জন্যই কঠিন। দক্ষ শিক্ষক হয়ে উঠতে সময় লাগে।

প্রযুক্তির দ্রুততার বিপরীতে শিক্ষকতার ধৈর্য

প্রযুক্তি খাতে তিনি এমন এক পরিবেশে অভ্যস্ত ছিলেন, যেখানে কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়োগ হয়ে যেত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের মূল্য প্রমাণ করতে হতো। কোনো ক্লায়েন্টও অল্প সময়ের নোটিশে চলে যেতে পারতেন।

শিক্ষকতা তাঁকে সম্পূর্ণ বিপরীত একটি শিক্ষা দিচ্ছে। এখানে অসাধারণ শিক্ষক হয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে—এবং সেটিই স্বাভাবিক।

অর্থাৎ ব্যবসাজগৎ যেখানে দ্রুত নিয়োগ করে এবং আরও দ্রুত ফলাফল বিচার করে, শিক্ষকতা সেখানে ধৈর্য ও ধারাবাহিক উন্নতির সুযোগ দেয়।

জেন জি-র আত্মবিশ্বাস তাঁকে নতুন করে ভাবাচ্ছে

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করছেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। জেন জি প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে তিনি এমন এক ধরনের শান্ত ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস দেখতে পাচ্ছেন, যা তাঁকে বিস্মিত করছে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে, আবাসনের সামর্থ্য কমছে এবং কর্মজীবনের সুযোগও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এসব বাস্তবতা তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। তবু অনেক তরুণই বিশ্বাস করে, আগামী এক বছরে তাদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।

তাঁর উপলব্ধি হলো, এই তরুণেরা হয়তো চারপাশের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখে না, কিন্তু নিজেদের ওপর আস্থা রাখে। আর এই আত্মবিশ্বাসের মূল্য তিনি এখন নতুন করে বুঝতে শুরু করেছেন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও শিখছেন শিক্ষক

প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই একদল কিশোর-কিশোরী তাঁর শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। প্রত্যেকেই নিজের গল্প লিখছে, নিজের সামর্থ্য আবিষ্কার করছে এবং নিজেদের শক্তিকে ভবিষ্যতের পথে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

তাঁদের ভাষা, অভিজ্ঞতা ও শেখার ধরনকে তিনি দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন না; বরং এগুলোকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

তাঁর সবচেয়ে বড় উপলব্ধি সম্ভবত এখানেই—তিনি থাকুন বা না থাকুন, এই শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের যাত্রায় পাশে থাকার সুযোগ পাওয়াটাই এখন তাঁর কাছে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।