দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে খুচরা ব্যবসার জগতে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন ম্যাসির প্রধান নির্বাহী টনি স্প্রিং। ১৯৮৭ সালে দোকানের প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে ব্লুমিংডেলের শীর্ষ পদে পৌঁছান। ২০২৪ সালে ম্যাসির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন তিনি।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তরুণ ও নতুন কর্মীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন স্প্রিং। তাঁর মতে, কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শুধু দক্ষতা নয়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বিনয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমে শুনুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন
নতুন কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েই সবকিছু বদলে ফেলার চেষ্টা না করার পরামর্শ দিয়েছেন স্প্রিং। তাঁর মতে, নতুন কর্মীদের প্রথম দিকে বেশি করে শোনা ও শেখার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
নতুন কেউ প্রতিষ্ঠানের সবকিছু জানেন না। তাই শুরুতেই নিজের মতামত চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে সহকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ মানুষদের কথা শোনা জরুরি। একই সঙ্গে নতুন কর্মীরা বাইরের চোখে এমন কিছু বিষয় দেখতে পারেন, যা দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে থাকা মানুষদের চোখে আর ধরা পড়ে না।
স্প্রিং নিজেও গ্রাহকদের মতামতকে গুরুত্ব দেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিটি মন্তব্য তিনি পড়ার চেষ্টা করেন।
কাজের পাশাপাশি হৃদয় দিয়েও মানুষের সঙ্গে যুক্ত হোন
কর্মজীবনের শুরুতে স্প্রিংয়ের ধারণা ছিল, মাথা নিচু করে কাজ করতে হবে, দায়িত্ব শেষ করতে হবে এবং অন্যদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করতে হবে।
কিন্তু একসময় তাঁর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে বোঝান, কর্মক্ষেত্রে শুধু কাজের দক্ষতা দেখালেই হয় না—মানুষের কাছে নিজের মানবিক দিকটিও তুলে ধরতে হয়।
সহকর্মীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, তাঁদের জীবনের বিষয়ে আগ্রহ দেখানো এবং নিজের কিছু অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মতো ছোট ছোট আচরণ কর্মক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন স্প্রিং।
প্রথম দেখাই অনেক কিছু নির্ধারণ করে
মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্গার কিংয়ে কাজ শুরু করার সময় স্প্রিংকে প্রথম দিনই প্রতিষ্ঠানের গাড়ি রাখার জায়গা পরিষ্কার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
কাজটি কেন করতে হচ্ছে, তা প্রথমে বুঝতে পারেননি তিনি। পরে সহকর্মীরা তাঁকে জানান, গাড়ি রাখার জায়গাটিই অনেক সময় একজন গ্রাহকের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রথম পরিচয় তৈরি করে। তাই সেই জায়গাটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই স্প্রিং শিখেছিলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ছোট কাজেরও গুরুত্ব রয়েছে। কোনো দায়িত্বকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।
আত্মবিশ্বাস থাকুক, কিন্তু বিনয় হারাবেন না
স্প্রিংয়ের মতে, বিনয় মানে আত্মবিশ্বাস বা যোগ্যতার অভাব নয়। বরং নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন থেকেও অন্যদের সম্মান করা এবং নিজেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে না ভাবাই প্রকৃত বিনয়।
প্রধান নির্বাহী হওয়ার পরও তিনি কর্মীদের সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পছন্দ করেন। কর্মীদের নিজের নাম ধরে ডাকতে দেন, কখনো সাধারণ পোশাকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর খোঁজ রাখেন।
তাঁর বিশ্বাস, কর্মীরা যদি নিজেদের একটি পরিবারের অংশ মনে করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের প্রতিও তাঁদের যত্ন আরও বাড়বে।
চার দশকের অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা
টনি স্প্রিংয়ের ক্যারিয়ার পরামর্শের মূল কথা হলো—শুধু কঠোর পরিশ্রম করলেই দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া যায় না। মন দিয়ে শুনতে হবে, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে হবে, ছোট কাজের গুরুত্ব বুঝতে হবে এবং সাফল্যের সঙ্গে বিনয় ধরে রাখতে হবে।
একজন কর্মী যত ওপরে উঠবেন, তাঁর নেতৃত্ব তত বেশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও আস্থার ওপর নির্ভর করবে—স্প্রিংয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতায় এই বার্তাই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















