গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ভারত জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়গুলো দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কাঠামোর আওতায় আলোচনা করা হবে। এদিকে নতুন চুক্তি বা সংশোধিত চুক্তির বিষয়ে দিল্লির আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তির আওতায় পানি ও নদীসংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের আলোচ্যসূচির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠকগুলোও কারিগরি পর্যায়ে চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের নতুন চুক্তি প্রস্তুতির উদ্যোগ
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতায় যেতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, অভিন্ন নদীগুলো থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন একটি চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের জন্য বাংলাদেশ একটি দল গঠন করেছে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। এখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
১৯৯৬ সালের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটি নবায়ন, সংশোধন কিংবা নতুন কাঠামোয় নেওয়ার বিষয়টি এখন দুই দেশের পানি কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগে মরিশাসে নবম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ নিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন অথবা সংশোধিত চুক্তি প্রয়োজন। তাঁর মতে, দুই দেশের অভিন্ন নদী, অভিন্ন ঐতিহ্য ও স্বার্থের কারণে দীর্ঘমেয়াদি এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম একটি সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি তৈরিতেও এ ধরনের একটি টেকসই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বিস্তৃত পর্যালোচনা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন চুক্তিতে যাওয়ার আগে বর্তমান চুক্তির ব্যাপক পর্যালোচনা ও সংস্কার প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ায় অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খানও গঙ্গা চুক্তি নবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, প্রায় তিন দশক আগে করা চুক্তিটি বর্তমান বাস্তবতার আলোকে সংশোধন করা প্রয়োজন।
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা, দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















