১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
চীন, পাকিস্তান ও আমেরিকার অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য যে সতর্কবার্তা ‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’ সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ৭; নিখোঁজ ২৩ জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন হুমায়ুন কবির রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৩ বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের প্রাসঙ্গিকতা কি কমছে? কক্সবাজারে সৈকতের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ, আমদানি ব্যয় বেড়ে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার মানুষের বদলে রক্ত নেবে রোবট, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনুমোদন পেল ‘আলেত্তা’

‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে জানতে চেয়েছেন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সরকার এই প্রক্রিয়া সহজ করতে আর কত সময় নেবে।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন রবিবার (৩০ আগস্ট) জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব ও সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

ই-টেন্ডার সহজীকরণে সরকারের অবস্থান

নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। তবে আইন ও বিধি মেনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের উন্নয়নকাজ, বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন সংস্থা, জেলা-উপজেলা ও অন্যান্য ক্রয়কারী কার্যালয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫ অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্রয়কাজে মূলত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি বা এলটিএম এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বা ওটিএম অনুসরণ করা হয়। এলটিএমের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রাক্কলিত মূল্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর যেকোনো পরিমাণ মূল্যের জন্য ওটিএম প্রযোজ্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, সর্বক্ষেত্রে পিপিআরের আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাবটি জনগণের স্বার্থে বিবেচনায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে যথাসময়ে তা অনুমোদন করা হবে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি

সম্পূরক প্রশ্নে মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

তার দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশাপাশি চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি একদিন বা সাত দিনের মধ্যে এমন উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাস পার হওয়ার পরও প্রক্রিয়াটি সহজ করতে আর কত সময় লাগবে।

ডেপুটি স্পিকার হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে যেসব সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল, বর্তমান সরকার একইভাবে কাজ করার সুযোগ পায়নি। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন-কানুন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

তিনি বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। আইন ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যকে তিনি ‘অত্যন্ত যুক্তিসংগত’ বলে উল্লেখ করেন।

আইনি প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ

আইনমন্ত্রী জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সংশোধন করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে রাখার একটি প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর রাতারাতি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগোতে মন্ত্রিসভা একটি সাব-কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও রুলস যুগোপযোগী করে সিন্ডিকেট এবং তাদের তৈরি বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে খসড়া সংসদের সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সিন্ডিকেট ভাঙার ব্যবস্থা করা হবে।

ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণ

সংসদের আলোচনায় সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডার, শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং টেন্ডারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সরকারের পক্ষ থেকে আইন ও বিধি মেনে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন, পাকিস্তান ও আমেরিকার অভিজ্ঞতা ভারতের জন্য যে সতর্কবার্তা

‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

০৯:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন ৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে জানতে চেয়েছেন, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সরকার এই প্রক্রিয়া সহজ করতে আর কত সময় নেবে।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন রবিবার (৩০ আগস্ট) জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব ও সম্পূরক প্রশ্নে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

ই-টেন্ডার সহজীকরণে সরকারের অবস্থান

নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। তবে আইন ও বিধি মেনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোতে হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের উন্নয়নকাজ, বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন সংস্থা, জেলা-উপজেলা ও অন্যান্য ক্রয়কারী কার্যালয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫ অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ক্রয়কাজে মূলত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি বা এলটিএম এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বা ওটিএম অনুসরণ করা হয়। এলটিএমের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রাক্কলিত মূল্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর যেকোনো পরিমাণ মূল্যের জন্য ওটিএম প্রযোজ্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, সর্বক্ষেত্রে পিপিআরের আইন ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাবটি জনগণের স্বার্থে বিবেচনায় রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে যথাসময়ে তা অনুমোদন করা হবে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি

সম্পূরক প্রশ্নে মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন।

তার দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হলে শিক্ষিত বেকার যুবকদের পাশাপাশি চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি একদিন বা সাত দিনের মধ্যে এমন উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাস পার হওয়ার পরও প্রক্রিয়াটি সহজ করতে আর কত সময় লাগবে।

ডেপুটি স্পিকার হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে যেসব সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল, বর্তমান সরকার একইভাবে কাজ করার সুযোগ পায়নি। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন-কানুন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

তিনি বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। আইন ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিলে সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যকে তিনি ‘অত্যন্ত যুক্তিসংগত’ বলে উল্লেখ করেন।

আইনি প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ

আইনমন্ত্রী জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সংশোধন করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে রাখার একটি প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর রাতারাতি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগোতে মন্ত্রিসভা একটি সাব-কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও রুলস যুগোপযোগী করে সিন্ডিকেট এবং তাদের তৈরি বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে খসড়া সংসদের সামনে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সিন্ডিকেট ভাঙার ব্যবস্থা করা হবে।

ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজীকরণ

সংসদের আলোচনায় সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডার, শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং টেন্ডারে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সরকারের পক্ষ থেকে আইন ও বিধি মেনে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।