রক্ত পরীক্ষার জন্য এবার থেকে মানুষের হাতে সূঁচ ফোটানোর বদলে কাজটি করতে পারে রোবট। যুক্তরাষ্ট্রে রোগীর হাত থেকে নিজে নিজেই রক্ত সংগ্রহ করতে সক্ষম প্রথম রোবটকে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন।
‘আলেত্তা’ নামের এই রোবটটি প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষিত রক্ত সংগ্রহকারী কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকবে। তাকে রোবটের কাজ শুরু করে কাছেই অবস্থান করতে হবে, যাতে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এক কর্মী দেখভাল করতে পারবেন তিন রোবট
রক্ত সংগ্রহের প্রশিক্ষিত কর্মীর সংকট মোকাবিলাই এই প্রযুক্তি অনুমোদনের অন্যতম কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত সাধারণ একটি চিকিৎসা কার্যক্রম হলেও প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতির কারণে অনেক রোগীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় একজন প্রশিক্ষিত কর্মী একই সময়ে সর্বোচ্চ তিনটি রোবটের কার্যক্রম তদারক করতে পারবেন। ফলে স্বল্পসংখ্যক কর্মী দিয়ে তুলনামূলক বেশি রোগীর রক্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
কীভাবে রক্ত নেবে রোবট
প্রথমে রোবট রোগীকে হাত কীভাবে রাখতে হবে তা নির্দেশ দেবে। এরপর রোগী অথবা তদারককারী কর্মী একটি বোতাম চাপলে রোবট কাজ শুরু করবে।
কাছাকাছি অবস্থিত শিরা শনাক্ত করতে এতে অবলোহিত আলোকরশ্মি ও শব্দতরঙ্গভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে এটি শিরা ও ধমনির পার্থক্যও নির্ণয় করতে পারে। উপযুক্ত শিরা খুঁজে না পেলে রোবট নিজেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
শিরা শনাক্ত হলে রোবটই বাহুতে চাপ দেওয়ার বন্ধনী লাগানো, ত্বক জীবাণুমুক্ত করা, সূঁচ প্রবেশ করানো, রক্তের নল পরিবর্তন, ব্যবহৃত সূঁচ অপসারণ এবং শেষে ব্যান্ডেজ লাগানোর কাজ সম্পন্ন করে।
রক্ত সংগ্রহ শেষে তদারককারী কর্মী পরীক্ষা করে দেখবেন, নলগুলো সঠিক ক্রমে এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণে রক্ত দিয়ে পূর্ণ হয়েছে কি না।
রোগী নড়াচড়া করলে থেমে যাবে
রোবটটিতে রোগীর নিরাপত্তার জন্য একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রক্ত সংগ্রহের সময় রোগী বেশি নড়াচড়া করলে সূঁচ আলাদা হয়ে যাবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে।
এ ছাড়া রোবটের ভেতরের বিভিন্ন সংবেদক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে রক্ত সংগ্রহ সাময়িকভাবে থামিয়ে তদারককারী কর্মীকে সতর্ক করতে পারে। রক্তনালি শনাক্ত করার সময়ও ত্বকে জীবাণুনাশক প্রয়োগ করা হয়। একজন রোগীর কাজ শেষ হওয়ার পর প্রশিক্ষিত কর্মীকে যন্ত্রটি পরিষ্কার করতে হয়।
মানুষের মতোই সফলভাবে শিরা খুঁজে পায়
অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিচালিত চিকিৎসা পরীক্ষার তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তথ্য অনুযায়ী, রোবট যখন সূঁচ প্রবেশ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন শিরায় সফলভাবে পৌঁছানোর হার প্রশিক্ষিত মানবকর্মীদের সমান বা কিছু ক্ষেত্রে বেশি ছিল।
বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার রোগী, ভিন্ন ত্বকের রঙ এবং শিরা খুঁজে পেতে সমস্যার কথা জানিয়েছেন—এমন রোগীদের ক্ষেত্রেও ফলাফল একই রকম ছিল।
রোবট ব্যবহারের পর দেখা দেওয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ছিল বিরল এবং সাধারণত মৃদু।
ইউরোপেও ব্যবহৃত হচ্ছে
‘আলেত্তা’ তৈরি করেছে নেদারল্যান্ডসের উট্রেখটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিতেস্ত্রো। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রোবটটি ইতোমধ্যে ইউরোপে অনুমোদন পেয়েছে এবং সেখানে ব্যবহারও হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনকে প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ত সংগ্রহের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে। ভবিষ্যতে রক্ত পরীক্ষার মতো নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রমে মানুষের পাশাপাশি রোবটের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে বলে এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















