০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ৭; নিখোঁজ ২৩ জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন হুমায়ুন কবির রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৩ বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের প্রাসঙ্গিকতা কি কমছে? কক্সবাজারে সৈকতের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ, আমদানি ব্যয় বেড়ে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার মানুষের বদলে রক্ত নেবে রোবট, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনুমোদন পেল ‘আলেত্তা’ প্রতিদিন রান্নার জটিলতা নয়, সহজ-সাদাসিধে খাবারেই ফিরছেন অনেকে তেল-গ্যাসের যৌথ অনুসন্ধানে কি কমবে চীন-ফিলিপাইন উত্তেজনা?

প্রতিদিন রান্নার জটিলতা নয়, সহজ-সাদাসিধে খাবারেই ফিরছেন অনেকে

কাজের ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর প্রতিদিন নতুন নতুন রান্না করার চাপ—সব মিলিয়ে অনেকের কাছেই রাতের খাবার তৈরি করা এখন বড় এক ঝামেলা। অথচ কয়েক দশক আগের রান্নাঘরের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিদিনের খাবার এতটা জটিল ছিল না। সীমিত কিছু পদ, পরিচিত উপকরণ আর সহজ রান্নার মধ্যেই চলে যেত পুরো সপ্তাহ।

একজন লেখক নিজের শৈশবের ১৯৮০-এর দশকের নরওয়ের রান্নাঘরের অভিজ্ঞতা থেকে এমনই এক উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বাবা-মায়ের রান্নার ধরন ছিল খুবই সাধারণ—দ্রুত তৈরি করা যায়, বারবার করা যায় এবং পেট ভরানোর জন্য যথেষ্ট। সময়ের সঙ্গে সেই পুরোনো অভ্যাসই তাঁর কাছে নতুন করে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

দুই ডিমেই রাতের খাবারের শুরু

এক শীতের রাতে লেখক প্রচণ্ড ক্লান্ত অবস্থায় রান্নাঘরে গিয়ে মাত্র দুটি ডিম ভেজে নেন। সঙ্গে টোস্ট করা রুটি ও সামান্য টমেটোর সস। ফ্রিজে তখন নানা উপকরণ পড়ে ছিল। পরিকল্পনা ছিল ডাল, সবজি ও মসলা দিয়ে পুষ্টিকর একটি পদ রান্না করার। কিন্তু রাত বাড়ায় এবং ক্ষুধা ও ক্লান্তি বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

তবু সাধারণ সেই খাবারেই পেট ভরে যায়। তখনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—প্রতিদিনের রাতের খাবার কি সত্যিই এতটা জটিল হওয়া প্রয়োজন?

শৈশবের একটি দৃশ্য তাঁর মনে পড়ে যায়। মা বাড়িতে না থাকলে বাবা কয়েকটি মাংসের পাট্টি ভেজে রুটির মধ্যে দিয়ে টমেটোর সস যোগ করতেন। আলু নেই, সবজি নেই, বিশেষ আয়োজনও নেই। রান্নাঘরের কাঠের পাটাতনের পাশে বসেই বাবা-মেয়ে খাবার ভাগ করে নিতেন। খাবার ছিল সাদামাটা, কিন্তু সেই মুহূর্তের উষ্ণতা ছিল গভীর।9 Old Kitchen Trends Younger Generations Are Abandoning

একই খাবার বারবার, তবু সমস্যা ছিল না

লেখক পরে তাঁর মায়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন। মা জানান, তাঁদের সময়ের খাবারের তালিকা মূলত কয়েকটি পরিচিত পদের মধ্যেই ঘুরত। মাংসের কেক, ঝোলে রান্না করা গরুর মাংসের বল, সাদা সসে মাছের বল, বাদামি সসে মাছের কেক—এ ধরনের খাবারই ছিল নিয়মিত।

দুধ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের জাউ, ঠান্ডা মাংসের টুকরা, মাংসের সস দিয়ে স্প্যাগেটি কিংবা প্রয়োজনের সময় টমেটোর স্যুপের সঙ্গে সেদ্ধ ডিমও থাকত তালিকায়।

তখনকার গ্রামীণ নরওয়ের রান্নার ধরন এমনই ছিল। খাবারকে প্রতিদিন নতুন করে আবিষ্কার করার প্রয়োজন কেউ অনুভব করত না। সপ্তাহের মাঝের একটি সাধারণ দিনে রান্নাঘরে সৃজনশীলতার প্রতিযোগিতাও চলত না।

রান্না মানেই প্রতিদিন নতুন পরীক্ষা নয়

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রান্নার নানা বইয়ের কারণে ঘরে খাবার তৈরির প্রত্যাশাও বদলে গেছে। প্রতিদিন সুন্দর, বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার তৈরির চাপ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু লেখকের মা মনে করেন, সব খাবারে অনেক উপকরণ ব্যবহার করতেই হবে এমন নয়। কয়েকটি পরিচিত উপকরণ দিয়েও ভালো খাবার তৈরি করা সম্ভব।

শৈশবের খাবার হয়তো খুব নতুন বা অভিনব ছিল না, বরং কিছুটা ভারীও ছিল। কিন্তু সেগুলো ছিল নির্ভরযোগ্য। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার তৈরি হতো, সবাই পেট ভরে খেত এবং রান্নার জন্য অযথা দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হতো না।

সপ্তাহে একবার বাজার, কম চিন্তা

লেখকের মা জানান, তাঁদের সময় সাধারণত সপ্তাহে একবার বাজার করার চেষ্টা করা হতো। পুরো সপ্তাহের খাবারের জন্য আগে থেকেই কিছুটা পরিকল্পনা থাকত। একদিন মাংস, একদিন মাছ, আরেক দিন জাউ—এভাবেই বৈচিত্র্য রাখা হতো।

সেই সময় বাজারেও আজকের মতো অসংখ্য বিকল্প ছিল না। ফলে কী রান্না করা হবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে হতো না।

কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় দ্রুত কিছু রান্না করাই ছিল মূল লক্ষ্য। রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নতুন পদ বেছে নেওয়ার সুযোগ বা প্রয়োজন—কোনোটিই ছিল না।Is It Bad to Eat After 6 PM? Debunking The Myth | GSN

মুখস্থ রান্নার বড় সুবিধা

এই পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করে লেখক নিজের জন্যও প্রায় এক ডজন সহজ খাবারের তালিকা তৈরি করার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁর উপলব্ধি হয়, কোনো খাবার মুখস্থ থাকলে রান্না অনেক দ্রুত করা যায়।

তিনি ডাল ও পাস্তা, তৈরি পেস্টের সঙ্গে সবজি, রসুন, লেবু ও মরিচের মতো সহজ উপকরণ ব্যবহার করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাংসের সসের একটি সহজ ভিত্তি তৈরি করে তা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রান্না করার সুযোগও তৈরি করেন।

মাছের খাবারের জন্য ফ্রিজে আগে থেকে রাখা মাছের কেকও কাজে লাগান। অর্থাৎ প্রতিটি খাবারের জন্য নতুন করে বাজার করা বা নতুন রেসিপি খোঁজার প্রয়োজন কমে আসে।

ব্যস্ত দিনের জন্য তৈরি খাবারও চলবে

লেখকের মা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেন। প্রতিদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু রান্না করার পরিকল্পনা করাও ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ নিয়ম মেনে রান্না করার পর কোনো একদিন শরীর বা মন সায় নাও দিতে পারে। তখন আগে থেকে রাখা তৈরি খাবার, সংরক্ষিত খাবার কিংবা টিনজাত খাবারের সাহায্য নেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই।

এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিই হয়তো পুরোনো রান্নার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

‘আজ কী খাব?’ থেকে ‘ঘরে কী আছে?’

লেখক এখন আর প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করেন না—আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে? বরং তাঁর প্রশ্ন বদলে গেছে—ঘরে কী আছে?

ফ্রিজে যা আছে, সেখান থেকেই রাতের খাবারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিকল্পনায় ভুল হলে ডাল ও পালং শাক দিয়ে দ্রুত একটি খাবার তৈরি করা যায়। তাজা শাকসবজি ভালো হলেও সংরক্ষিত সবজিও প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এতে রান্নার সময় কমছে, খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমছে এবং বাইরে থেকে খাবার কিনে আনার খরচও কমছে।

পুরোনো অভ্যাসের নতুন মূল্য

আধুনিক সময়ে রান্নাকে অনেক সময় সৃজনশীলতা, নতুনত্ব ও সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারের ক্ষেত্রে সব সময় সেরা বা অভিনব কিছু তৈরি করা প্রয়োজন নেই।

কখনো কখনো সাধারণ, পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য খাবারই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে। সপ্তাহের বিশেষ দিনে নতুন রান্না করা যেতে পারে, কিন্তু ব্যস্ত কর্মদিবসে কয়েকটি সহজ খাবারের ওপর নির্ভর করাও বুদ্ধিমানের কাজ।

১৯৮০-এর দশকের সেই নরওয়ের রান্নাঘর তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়। বরং বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে রান্নার চাপ কমানোর একটি কার্যকর শিক্ষা—প্রতিদিন অসাধারণ খাবার নয়, নিয়মিতভাবে সহজে খাওয়া যায় এমন খাবারই অনেক সময় যথেষ্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ৭; নিখোঁজ ২৩

প্রতিদিন রান্নার জটিলতা নয়, সহজ-সাদাসিধে খাবারেই ফিরছেন অনেকে

০৭:৫৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

কাজের ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর প্রতিদিন নতুন নতুন রান্না করার চাপ—সব মিলিয়ে অনেকের কাছেই রাতের খাবার তৈরি করা এখন বড় এক ঝামেলা। অথচ কয়েক দশক আগের রান্নাঘরের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিদিনের খাবার এতটা জটিল ছিল না। সীমিত কিছু পদ, পরিচিত উপকরণ আর সহজ রান্নার মধ্যেই চলে যেত পুরো সপ্তাহ।

একজন লেখক নিজের শৈশবের ১৯৮০-এর দশকের নরওয়ের রান্নাঘরের অভিজ্ঞতা থেকে এমনই এক উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বাবা-মায়ের রান্নার ধরন ছিল খুবই সাধারণ—দ্রুত তৈরি করা যায়, বারবার করা যায় এবং পেট ভরানোর জন্য যথেষ্ট। সময়ের সঙ্গে সেই পুরোনো অভ্যাসই তাঁর কাছে নতুন করে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

দুই ডিমেই রাতের খাবারের শুরু

এক শীতের রাতে লেখক প্রচণ্ড ক্লান্ত অবস্থায় রান্নাঘরে গিয়ে মাত্র দুটি ডিম ভেজে নেন। সঙ্গে টোস্ট করা রুটি ও সামান্য টমেটোর সস। ফ্রিজে তখন নানা উপকরণ পড়ে ছিল। পরিকল্পনা ছিল ডাল, সবজি ও মসলা দিয়ে পুষ্টিকর একটি পদ রান্না করার। কিন্তু রাত বাড়ায় এবং ক্ষুধা ও ক্লান্তি বেড়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

তবু সাধারণ সেই খাবারেই পেট ভরে যায়। তখনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—প্রতিদিনের রাতের খাবার কি সত্যিই এতটা জটিল হওয়া প্রয়োজন?

শৈশবের একটি দৃশ্য তাঁর মনে পড়ে যায়। মা বাড়িতে না থাকলে বাবা কয়েকটি মাংসের পাট্টি ভেজে রুটির মধ্যে দিয়ে টমেটোর সস যোগ করতেন। আলু নেই, সবজি নেই, বিশেষ আয়োজনও নেই। রান্নাঘরের কাঠের পাটাতনের পাশে বসেই বাবা-মেয়ে খাবার ভাগ করে নিতেন। খাবার ছিল সাদামাটা, কিন্তু সেই মুহূর্তের উষ্ণতা ছিল গভীর।9 Old Kitchen Trends Younger Generations Are Abandoning

একই খাবার বারবার, তবু সমস্যা ছিল না

লেখক পরে তাঁর মায়ের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন। মা জানান, তাঁদের সময়ের খাবারের তালিকা মূলত কয়েকটি পরিচিত পদের মধ্যেই ঘুরত। মাংসের কেক, ঝোলে রান্না করা গরুর মাংসের বল, সাদা সসে মাছের বল, বাদামি সসে মাছের কেক—এ ধরনের খাবারই ছিল নিয়মিত।

দুধ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের জাউ, ঠান্ডা মাংসের টুকরা, মাংসের সস দিয়ে স্প্যাগেটি কিংবা প্রয়োজনের সময় টমেটোর স্যুপের সঙ্গে সেদ্ধ ডিমও থাকত তালিকায়।

তখনকার গ্রামীণ নরওয়ের রান্নার ধরন এমনই ছিল। খাবারকে প্রতিদিন নতুন করে আবিষ্কার করার প্রয়োজন কেউ অনুভব করত না। সপ্তাহের মাঝের একটি সাধারণ দিনে রান্নাঘরে সৃজনশীলতার প্রতিযোগিতাও চলত না।

রান্না মানেই প্রতিদিন নতুন পরীক্ষা নয়

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রান্নার নানা বইয়ের কারণে ঘরে খাবার তৈরির প্রত্যাশাও বদলে গেছে। প্রতিদিন সুন্দর, বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার তৈরির চাপ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু লেখকের মা মনে করেন, সব খাবারে অনেক উপকরণ ব্যবহার করতেই হবে এমন নয়। কয়েকটি পরিচিত উপকরণ দিয়েও ভালো খাবার তৈরি করা সম্ভব।

শৈশবের খাবার হয়তো খুব নতুন বা অভিনব ছিল না, বরং কিছুটা ভারীও ছিল। কিন্তু সেগুলো ছিল নির্ভরযোগ্য। নির্দিষ্ট সময়ে খাবার তৈরি হতো, সবাই পেট ভরে খেত এবং রান্নার জন্য অযথা দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হতো না।

সপ্তাহে একবার বাজার, কম চিন্তা

লেখকের মা জানান, তাঁদের সময় সাধারণত সপ্তাহে একবার বাজার করার চেষ্টা করা হতো। পুরো সপ্তাহের খাবারের জন্য আগে থেকেই কিছুটা পরিকল্পনা থাকত। একদিন মাংস, একদিন মাছ, আরেক দিন জাউ—এভাবেই বৈচিত্র্য রাখা হতো।

সেই সময় বাজারেও আজকের মতো অসংখ্য বিকল্প ছিল না। ফলে কী রান্না করা হবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবতে হতো না।

কাজ শেষে বাড়ি ফিরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় দ্রুত কিছু রান্না করাই ছিল মূল লক্ষ্য। রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নতুন পদ বেছে নেওয়ার সুযোগ বা প্রয়োজন—কোনোটিই ছিল না।Is It Bad to Eat After 6 PM? Debunking The Myth | GSN

মুখস্থ রান্নার বড় সুবিধা

এই পুরোনো পদ্ধতি অনুসরণ করে লেখক নিজের জন্যও প্রায় এক ডজন সহজ খাবারের তালিকা তৈরি করার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁর উপলব্ধি হয়, কোনো খাবার মুখস্থ থাকলে রান্না অনেক দ্রুত করা যায়।

তিনি ডাল ও পাস্তা, তৈরি পেস্টের সঙ্গে সবজি, রসুন, লেবু ও মরিচের মতো সহজ উপকরণ ব্যবহার করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাংসের সসের একটি সহজ ভিত্তি তৈরি করে তা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের রান্না করার সুযোগও তৈরি করেন।

মাছের খাবারের জন্য ফ্রিজে আগে থেকে রাখা মাছের কেকও কাজে লাগান। অর্থাৎ প্রতিটি খাবারের জন্য নতুন করে বাজার করা বা নতুন রেসিপি খোঁজার প্রয়োজন কমে আসে।

ব্যস্ত দিনের জন্য তৈরি খাবারও চলবে

লেখকের মা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেন। প্রতিদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু রান্না করার পরিকল্পনা করাও ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ নিয়ম মেনে রান্না করার পর কোনো একদিন শরীর বা মন সায় নাও দিতে পারে। তখন আগে থেকে রাখা তৈরি খাবার, সংরক্ষিত খাবার কিংবা টিনজাত খাবারের সাহায্য নেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই।

এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিই হয়তো পুরোনো রান্নার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

‘আজ কী খাব?’ থেকে ‘ঘরে কী আছে?’

লেখক এখন আর প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করেন না—আজ কী খেতে ইচ্ছে করছে? বরং তাঁর প্রশ্ন বদলে গেছে—ঘরে কী আছে?

ফ্রিজে যা আছে, সেখান থেকেই রাতের খাবারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিকল্পনায় ভুল হলে ডাল ও পালং শাক দিয়ে দ্রুত একটি খাবার তৈরি করা যায়। তাজা শাকসবজি ভালো হলেও সংরক্ষিত সবজিও প্রয়োজনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এতে রান্নার সময় কমছে, খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমছে এবং বাইরে থেকে খাবার কিনে আনার খরচও কমছে।

পুরোনো অভ্যাসের নতুন মূল্য

আধুনিক সময়ে রান্নাকে অনেক সময় সৃজনশীলতা, নতুনত্ব ও সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু প্রতিদিনের খাবারের ক্ষেত্রে সব সময় সেরা বা অভিনব কিছু তৈরি করা প্রয়োজন নেই।

কখনো কখনো সাধারণ, পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য খাবারই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে। সপ্তাহের বিশেষ দিনে নতুন রান্না করা যেতে পারে, কিন্তু ব্যস্ত কর্মদিবসে কয়েকটি সহজ খাবারের ওপর নির্ভর করাও বুদ্ধিমানের কাজ।

১৯৮০-এর দশকের সেই নরওয়ের রান্নাঘর তাই শুধু অতীতের স্মৃতি নয়। বরং বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে রান্নার চাপ কমানোর একটি কার্যকর শিক্ষা—প্রতিদিন অসাধারণ খাবার নয়, নিয়মিতভাবে সহজে খাওয়া যায় এমন খাবারই অনেক সময় যথেষ্ট।