০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’ সাইপ্রাস উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ৭; নিখোঁজ ২৩ জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন হুমায়ুন কবির রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি সারোয়ার তুষারের কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৩ বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের প্রাসঙ্গিকতা কি কমছে? কক্সবাজারে সৈকতের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশ, আমদানি ব্যয় বেড়ে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার মানুষের বদলে রক্ত নেবে রোবট, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনুমোদন পেল ‘আলেত্তা’ প্রতিদিন রান্নার জটিলতা নয়, সহজ-সাদাসিধে খাবারেই ফিরছেন অনেকে

কক্সবাজারে সৈকতের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি

কক্সবাজার সৈকতের প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে চলমান সড়ক নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটি বলছে, সৈকতের বালিয়াড়ি ঢেউ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এসব বালিয়াড়ি ধ্বংস হলে দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজারের উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা দুর্বল হতে পারে।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিআইপি জানায়, কক্সবাজার পৌরসভার আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রকল্পের আওতায় এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সাইমনের দিকে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সংস্থাটির অভিযোগ, নির্মাণকাজে সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রাকৃতিক বালিয়াড়িই উপকূলের ঢাল

বিআইপির মতে, বালিয়াড়ি, উপকূলীয় উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বালুর স্তর শুধু সৈকতের সৌন্দর্যের অংশ নয়; এগুলো উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলও। সড়ক নির্মাণের জন্য এসব বালিয়াড়ি ভরাট, সমতল বা অপসারণ করা হলে উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষ করে যে প্রকল্পের লক্ষ্য ক্ষয়প্রবণ এলাকা সুরক্ষা ও পর্যটন সুবিধা উন্নয়ন, বাস্তবায়নের সময় সেই প্রকল্পের মাধ্যমেই প্রাকৃতিক উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। বিকল্প স্থান ও নকশা, যাতে সংবেদনশীল বালিয়াড়ি এলাকা এড়িয়ে সড়ক নির্মাণ করা যায়, সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না—সে বিষয়েও স্পষ্টতা চেয়েছে বিআইপি।

পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েও প্রশ্ন

বিআইপি প্রকল্পটির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনো এলাকা পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা বা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হলে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ আইন, বিধিমালা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়।

বিআইপি বলছে, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ও মূল্যায়ন ছাড়া সংবেদনশীল এলাকায় নির্মাণকাজ হলে তা আইন ও পরিবেশগত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

সমন্বিত পুনর্মূল্যায়নের দাবি

কক্সবাজারের উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে না দেখে পরিবহন, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতার সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে করার আহ্বান জানিয়েছে বিআইপি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে সংস্থাটি বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় উদ্ভিদকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে।

চলমান নির্মাণকাজ অবিলম্বে স্থগিত করে প্রকল্পটির পরিবেশগত, জলবায়ু, দুর্যোগ ঝুঁকি ও পরিকল্পনাগত প্রভাব নিয়ে স্বাধীন ও সমন্বিত পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে বিআইপি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই, বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে বিকল্প স্থান ও নকশা বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

পুনর্মূল্যায়নে প্রকল্পটি পরিবেশ ও উপকূলীয় প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হলে তা বাতিল করে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিকল্পনাবিদদের সংগঠনটি।

কক্সবাজারের বালিয়াড়ি রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছে বিআইপি।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?’

কক্সবাজারে সৈকতের বালিয়াড়ি ধ্বংস করে সড়ক নির্মাণ বন্ধের দাবি

০৮:৪১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতের প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে চলমান সড়ক নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটি বলছে, সৈকতের বালিয়াড়ি ঢেউ, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ভাঙনের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এসব বালিয়াড়ি ধ্বংস হলে দীর্ঘমেয়াদে কক্সবাজারের উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা দুর্বল হতে পারে।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিআইপি জানায়, কক্সবাজার পৌরসভার আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রকল্পের আওতায় এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সাইমনের দিকে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সংস্থাটির অভিযোগ, নির্মাণকাজে সৈকতের বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রাকৃতিক বালিয়াড়িই উপকূলের ঢাল

বিআইপির মতে, বালিয়াড়ি, উপকূলীয় উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক বালুর স্তর শুধু সৈকতের সৌন্দর্যের অংশ নয়; এগুলো উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলও। সড়ক নির্মাণের জন্য এসব বালিয়াড়ি ভরাট, সমতল বা অপসারণ করা হলে উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষ করে যে প্রকল্পের লক্ষ্য ক্ষয়প্রবণ এলাকা সুরক্ষা ও পর্যটন সুবিধা উন্নয়ন, বাস্তবায়নের সময় সেই প্রকল্পের মাধ্যমেই প্রাকৃতিক উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। বিকল্প স্থান ও নকশা, যাতে সংবেদনশীল বালিয়াড়ি এলাকা এড়িয়ে সড়ক নির্মাণ করা যায়, সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না—সে বিষয়েও স্পষ্টতা চেয়েছে বিআইপি।

পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েও প্রশ্ন

বিআইপি প্রকল্পটির জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনো এলাকা পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা বা ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) হলে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ আইন, বিধিমালা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়।

বিআইপি বলছে, প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ও মূল্যায়ন ছাড়া সংবেদনশীল এলাকায় নির্মাণকাজ হলে তা আইন ও পরিবেশগত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

সমন্বিত পুনর্মূল্যায়নের দাবি

কক্সবাজারের উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে না দেখে পরিবহন, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতার সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে করার আহ্বান জানিয়েছে বিআইপি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে সংস্থাটি বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় উদ্ভিদকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে।

চলমান নির্মাণকাজ অবিলম্বে স্থগিত করে প্রকল্পটির পরিবেশগত, জলবায়ু, দুর্যোগ ঝুঁকি ও পরিকল্পনাগত প্রভাব নিয়ে স্বাধীন ও সমন্বিত পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে বিআইপি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই, বালিয়াড়ি ও উপকূলীয় পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে বিকল্প স্থান ও নকশা বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

পুনর্মূল্যায়নে প্রকল্পটি পরিবেশ ও উপকূলীয় প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হলে তা বাতিল করে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিকল্পনাবিদদের সংগঠনটি।

কক্সবাজারের বালিয়াড়ি রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছে বিআইপি।