০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর: পণ্য পরিবহন বাড়লেও বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানেই ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বড় সংকট শনাক্তকরণ সরঞ্জামে সংসদ ভবনের কাছে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যু ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে মোড় ঘুরছে চীনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ভারতে জাপানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন, চীনের জন্য কী বার্তা? হাম বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু; দেশে মৃতের সংখ্যা ৯৬৩ বন্দিত্ব বন্ধের আইন যথেষ্ট নয়, প্রাণীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ ভবিষ্যৎ গঙ্গা চুক্তি নবায়নে ভারতের জেআরসি কাঠামো, বাংলাদেশের অপেক্ষা দিল্লির জবাবের খরা মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: ১৪ কোটি ডলারের বৈশ্বিক উদ্যোগ কি বদলাবে জলবায়ু অভিযোজনের কৌশল? নেপালে ভয়াবহ ভোতেকোশী বন্যা: মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা সাতজনের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা

পটুয়াখালীতে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ২৫

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি চরে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে অন্তত তিনটি মহিষ মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও ২৫টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে কেশবপুর ইউনিয়নের লাল চরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মহিষের মালিক, রাখাল ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, লাল চরে দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় মহিষ পালন করা হয়। চরাঞ্চলের সবুজ ঘাস খেয়েই এসব মহিষ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। এর আগে সেখানে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার শতাধিক মহিষ চরটিতে চড়াতে নেওয়া হয়। ঘাস খাওয়ার পরপরই প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মহিষ মারা যায়। কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষমিশ্রিত ঘাসের অভিযোগ

মহিষ পালক ও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষ মেশানো হয়ে থাকতে পারে। সেই ঘাস খাওয়ার পরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন।

চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের এলাকার মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি লাল চরে মহিষ পালন করছেন। সেখানে নিয়মিত শত শত মহিষ চরলেও এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।

তার অভিযোগ, শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা ঘাসে বিষ মিশিয়ে থাকতে পারে। তার নিজের ১৮টি মহিষের অবস্থা সংকটাপন্ন বলেও জানান তিনি।

আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, ঘাস খাওয়ার পর তার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্য মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেগুলোর চিকিৎসা চলছে।

নমুনা পরীক্ষার পর জানা যাবে কারণ

উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য лаборатরিতে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাউফল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তের পর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষমিশ্রিত ঘাস খাওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং মহিষগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখন পরীক্ষার প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।

পটুয়াখালীর বাউফলে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে তিন মহিষের মৃত্যু ও ২৫টির অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে বের হবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দর: পণ্য পরিবহন বাড়লেও বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরের তালিকায় ৬৮তম অবস্থানেই

পটুয়াখালীতে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ২৫

০৫:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি চরে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে অন্তত তিনটি মহিষ মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও ২৫টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে কেশবপুর ইউনিয়নের লাল চরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় মহিষের মালিক, রাখাল ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, লাল চরে দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় মহিষ পালন করা হয়। চরাঞ্চলের সবুজ ঘাস খেয়েই এসব মহিষ স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। এর আগে সেখানে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার শতাধিক মহিষ চরটিতে চড়াতে নেওয়া হয়। ঘাস খাওয়ার পরপরই প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে রফিজ মৃধা, সুমন মাঝি ও রুহুল আমিনের একটি করে মহিষ মারা যায়। কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষমিশ্রিত ঘাসের অভিযোগ

মহিষ পালক ও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষ মেশানো হয়ে থাকতে পারে। সেই ঘাস খাওয়ার পরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন।

চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের এলাকার মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি লাল চরে মহিষ পালন করছেন। সেখানে নিয়মিত শত শত মহিষ চরলেও এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি।

তার অভিযোগ, শত্রুতার জেরে দুর্বৃত্তরা ঘাসে বিষ মিশিয়ে থাকতে পারে। তার নিজের ১৮টি মহিষের অবস্থা সংকটাপন্ন বলেও জানান তিনি।

আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, ঘাস খাওয়ার পর তার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্য মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেগুলোর চিকিৎসা চলছে।

নমুনা পরীক্ষার পর জানা যাবে কারণ

উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য лаборатরিতে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বাউফল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তের পর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষমিশ্রিত ঘাস খাওয়ার অভিযোগের সত্যতা এবং মহিষগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখন পরীক্ষার প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।

পটুয়াখালীর বাউফলে বিষমিশ্রিত ঘাস খেয়ে তিন মহিষের মৃত্যু ও ২৫টির অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে বের হবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।