০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
উজবেকিস্তান কিনছে চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, রুশ আধিপত্যে নতুন ধাক্কা ওয়াল স্ট্রিটের নতুন তারকাদের খুঁজছে বিশ্ব, সামনে আসছে ২০২৬ সালের সম্ভাবনাময় তরুণ নেতৃত্ব উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে ২৬৭ আরোহী নিয়ে ফেরি উল্টে নিহত ১ ইইউতে যোগ দেওয়ার আলোচনা প্রত্যাখ্যান করল আইসল্যান্ড, গণভোটে জয় ‘না’ পক্ষের দোনবাসে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে রাশিয়া, ক্রামাতোরস্ক–স্লোভিয়ানস্ক ঘিরে বড় যুদ্ধের শঙ্কা উদাসীনতাই মৃত্যু ডেকে আনে, ৮২ বছর পরও স্মরণে রোমা হলোকাস্টের শিকাররা হাতির চামড়ার কৌশলে ভবন ঠান্ডা রাখার নতুন প্রযুক্তি ৮৩ বছর পর খুলছে লন্ডনের সেই রহস্যময় জাদুঘর গ্যালারি সুইজারল্যান্ডে রেভ পার্টিতে গুলিবর্ষণ, নিহত ২২ বছরের তরুণী; আহত ৫ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা ফের শুরু করবে কি আইসল্যান্ড, ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

জুলাইয়ে বিদেশি সহায়তা কমেছে ১৩.৪ শতাংশ, ঋণ পরিশোধে বেড়েছে চাপ

নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে। এ মাসে দেশটি মোট ১৮০.১৮ মিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা পেয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই মাসে পাওয়া ২০৮.০৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৩.৪ শতাংশ কম।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ফরেন এইড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (ফাবা) উইংয়ের তৈরি জুলাই ২০২৬-এর প্রাথমিক ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্স মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঋণ ছাড়ে বড় পতন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে পাওয়া বিদেশি সহায়তার মধ্যে ১৭৯.৬৭ মিলিয়ন ডলার ছিল ঋণ এবং ০.৫১ মিলিয়ন ডলার অনুদান। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ২০৭.৭৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ০.৩১ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছিল।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ হিসেবে পাওয়া অর্থ কমেছে ২৮.০৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। অন্যদিকে অনুদান বেড়েছে ০.২০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৬৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

খাদ্য সহায়তা থেকে জুলাইয়ে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়েও এই খাতে কোনো বিদেশি সহায়তা পাওয়া যায়নি।

প্রতিশ্রুতিতেও বড় ব্যবধান

জুলাই ২০২৬-এ নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ১৪.০৫ মিলিয়ন ডলার। পুরো অর্থই ছিল অনুদান; কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

তবে আগের বছরের জুলাইয়ে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সে সময় মোট ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৭.৪৬ মিলিয়ন ডলার ছিল অনুদান এবং ৬ মিলিয়ন ডলার ঋণ।

ঋণ পরিশোধ বেড়েছে

বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমলেও জুলাইয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশটি মোট ৪৫৩.২৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে মূলধন পরিশোধ ছিল ৩৪১.৭২ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ বাবদ দেওয়া হয়েছে ১১১.৫১ মিলিয়ন ডলার।

২০২৫ সালের একই মাসে মোট ঋণ পরিশোধ হয়েছিল ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন ডলার। ওই সময় মূলধন পরিশোধ ছিল ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ ১১৮.৯৬ মিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ এক বছরে মোট ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৬.৫৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১.৫ শতাংশ। মূলধন পরিশোধ বেড়েছে ১৪ মিলিয়ন ডলার, যদিও সুদ পরিশোধ কমেছে ৭.৪৫ মিলিয়ন ডলার।

টাকার হিসাবে জুলাইয়ে বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধ করেছে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূলধন বাবদ ৪ হাজার ২১৩ কোটি ১০ লাখ এবং সুদ বাবদ ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

উন্নয়ন অর্থায়নে বিদেশি সহায়তার ভূমিকা

বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর অর্থছাড়ের গতি অনেকাংশে নির্ভর করে।

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসের পরিসংখ্যানে তাই বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে জুলাইয়ের হিসাব প্রাথমিক; পরবর্তী মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য সংশোধিত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উজবেকিস্তান কিনছে চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, রুশ আধিপত্যে নতুন ধাক্কা

জুলাইয়ে বিদেশি সহায়তা কমেছে ১৩.৪ শতাংশ, ঋণ পরিশোধে বেড়েছে চাপ

০৬:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এর প্রথম মাস জুলাইয়ে বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে। এ মাসে দেশটি মোট ১৮০.১৮ মিলিয়ন ডলার বিদেশি সহায়তা পেয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই মাসে পাওয়া ২০৮.০৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৩.৪ শতাংশ কম।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ফরেন এইড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস (ফাবা) উইংয়ের তৈরি জুলাই ২০২৬-এর প্রাথমিক ফরেন অ্যাসিস্ট্যান্স মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঋণ ছাড়ে বড় পতন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে পাওয়া বিদেশি সহায়তার মধ্যে ১৭৯.৬৭ মিলিয়ন ডলার ছিল ঋণ এবং ০.৫১ মিলিয়ন ডলার অনুদান। এর বিপরীতে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ২০৭.৭৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ০.৩১ মিলিয়ন ডলার অনুদান পেয়েছিল।

ফলে এক বছরের ব্যবধানে ঋণ হিসেবে পাওয়া অর্থ কমেছে ২৮.০৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। অন্যদিকে অনুদান বেড়েছে ০.২০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৬৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

খাদ্য সহায়তা থেকে জুলাইয়ে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। ২০২৫ সালের জুলাইয়েও এই খাতে কোনো বিদেশি সহায়তা পাওয়া যায়নি।

প্রতিশ্রুতিতেও বড় ব্যবধান

জুলাই ২০২৬-এ নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ১৪.০৫ মিলিয়ন ডলার। পুরো অর্থই ছিল অনুদান; কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

তবে আগের বছরের জুলাইয়ে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সে সময় মোট ৮৩.৪৬ মিলিয়ন ডলারের বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৭৭.৪৬ মিলিয়ন ডলার ছিল অনুদান এবং ৬ মিলিয়ন ডলার ঋণ।

ঋণ পরিশোধ বেড়েছে

বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমলেও জুলাইয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দেশটি মোট ৪৫৩.২৩ মিলিয়ন ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে মূলধন পরিশোধ ছিল ৩৪১.৭২ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ বাবদ দেওয়া হয়েছে ১১১.৫১ মিলিয়ন ডলার।

২০২৫ সালের একই মাসে মোট ঋণ পরিশোধ হয়েছিল ৪৪৬.৬৮ মিলিয়ন ডলার। ওই সময় মূলধন পরিশোধ ছিল ৩২৭.৭২ মিলিয়ন ডলার এবং সুদ ১১৮.৯৬ মিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ এক বছরে মোট ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৬.৫৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১.৫ শতাংশ। মূলধন পরিশোধ বেড়েছে ১৪ মিলিয়ন ডলার, যদিও সুদ পরিশোধ কমেছে ৭.৪৫ মিলিয়ন ডলার।

টাকার হিসাবে জুলাইয়ে বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধ করেছে ৫ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে মূলধন বাবদ ৪ হাজার ২১৩ কোটি ১০ লাখ এবং সুদ বাবদ ১ হাজার ৩৭৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

উন্নয়ন অর্থায়নে বিদেশি সহায়তার ভূমিকা

বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর অর্থছাড়ের গতি অনেকাংশে নির্ভর করে।

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসের পরিসংখ্যানে তাই বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে জুলাইয়ের হিসাব প্রাথমিক; পরবর্তী মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য সংশোধিত হতে পারে।