০৮:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
মানুষের বদলে রক্ত নেবে রোবট, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনুমোদন পেল ‘আলেত্তা’ প্রতিদিন রান্নার জটিলতা নয়, সহজ-সাদাসিধে খাবারেই ফিরছেন অনেকে তেল-গ্যাসের যৌথ অনুসন্ধানে কি কমবে চীন-ফিলিপাইন উত্তেজনা? চীনের জায়ান্ট পান্ডা অভয়ারণ্যে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত বাড়ছে ইরতিশ নদী কি চীনের জন্য আর্কটিকের নতুন নিরাপদ নৌপথ হতে পারে? লাহোরে ‘পিঙ্কি-ধাঁচের’ মাদক সরবরাহ চক্রের সন্ধান পুলিশের বাতের ওষুধে টাকের মাথায় ফিরছে চুল, গুরুতর চুল পড়ায় আশার নতুন আলো কাজিরাঙার সুরক্ষাবলয় কেন ১০ কিলোমিটারই থাকা উচিত ইরান ইস্যুতে চীনের ধৈর্যের বাঁধ কি এবার ভাঙতে চলেছে? উজবেকিস্তান কিনছে চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান, রুশ আধিপত্যে নতুন ধাক্কা

ইইউতে যোগ দেওয়ার আলোচনা প্রত্যাখ্যান করল আইসল্যান্ড, গণভোটে জয় ‘না’ পক্ষের

দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিতর্কে আপাতত ইতি টানল আইসল্যান্ড। শনিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশটির ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলাফলে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রায় চার লাখ মানুষের এই উত্তর মেরু অঞ্চলের দেশটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্কে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছিল, খুব অল্প ব্যবধানে হলেও সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরুর পক্ষে ভোট পড়তে পারে। কিন্তু আগস্ট মাসের জনমত জরিপগুলোতে পরিস্থিতি বদলে যায়।

মাছ ধরার অধিকারই হয়ে উঠল বড় প্রশ্ন
গণভোটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল আইসল্যান্ডের বিশাল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ। দেশটির অর্থনীতিতে মাছ ধরার শিল্পের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এটি মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত এবং রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলে মাছ ধরার ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ কতটা অক্ষুণ্ন থাকবে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মে ঐতিহাসিক মাছ ধরার ধরণসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে মৎস্য আহরণের কোটা নির্ধারণ করা হয়। আইসল্যান্ডের পক্ষের কিছু কর্মকর্তা অবশ্য যুক্তি দিয়েছিলেন, দেশটির জলসীমায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্যরাষ্ট্র বহু দশক ধরে মাছ ধরছে না। ফলে আইসল্যান্ড তার জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে।

তবে বিরোধীরা এই আশ্বাসে আস্থা রাখেননি। তাদের আশঙ্কা ছিল, শুরুতে কিছু ছাড় দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম দেশটির মৎস্য খাতের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।

নিরাপত্তা ও উত্তর মেরু অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছিল আলোচনায়
সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে নিরাপত্তার যুক্তিও তুলে ধরেছিল। উত্তর মেরু অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটে অঙ্গীকার নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আইসল্যান্ডের জন্য একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে পারে বলে সরকার মনে করেছিল।

আইসল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের সদস্য হলেও দেশটির নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর মেরু অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। ফলে আইসল্যান্ডে নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছিল।

তবে ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে নিরাপত্তার চেয়ে জাতীয় স্বাধীনতা ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।Iceland rejects bid to resume EU membership talks

জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ সুদের চাপ
আইসল্যান্ডের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রথম আবেদন হয়েছিল ২০০৯ সালে, যখন বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী একটি সরকার ২০১৩ সালে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেয়।

এবারও অর্থনীতি গণভোটের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের চাপ সামলাচ্ছে। আইসল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বর্তমানে ৮ শতাংশ, যেখানে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন, সদস্যপদ এবং ভবিষ্যতে ইউরো মুদ্রা গ্রহণের সম্ভাবনা দেশটির অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, আইসল্যান্ডের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান ব্রাসেলস থেকে আসবে না; দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই এসব সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।

রাজধানীতে সমর্থন, গ্রামাঞ্চলে স্পষ্ট বিরোধিতা
গণভোটের ফলাফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনও দেখা গেছে। আইসল্যান্ডের ছয়টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে শুধু রাজধানী রেইকিয়াভিকের কেন্দ্রীয় দুটি এলাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা শুরুর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।

অন্যদিকে গ্রামীণ অঞ্চল এবং রেইকিয়াভিকের উপকণ্ঠের ভোটাররা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সরকার গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্টাদোতির সতর্ক করেছিলেন, ‘না’ ভোট জয়ী হলে তার নেতৃত্বাধীন মধ্য-বাম জোট সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত এই বিতর্ক আর সামনে আনা হবে না।

ব্রাসেলসের জন্যও বড় ধাক্কা
আইসল্যান্ডের গণভোটের ফল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও অস্বস্তিকর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাসেলসের কিছু কর্মকর্তা আশা করেছিলেন, আইসল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্প্রসারণ নিয়ে বাড়তে থাকা সংশয় কিছুটা কমাতে পারে।

কিন্তু ভোটের ফল সেই প্রত্যাশাকে উল্টে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কূটনীতিকের ভাষায়, এটি ব্রাসেলসের জন্য স্পষ্ট ধাক্কা। মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় স্বাধীনতার প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইসল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তে দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের দীর্ঘ বিতর্ক আপাতত থেমে গেল। অর্থনৈতিক সুবিধা, নিরাপত্তা ও ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যুক্তির বিপরীতে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের মৎস্যসম্পদ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষের বদলে রক্ত নেবে রোবট, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার অনুমোদন পেল ‘আলেত্তা’

ইইউতে যোগ দেওয়ার আলোচনা প্রত্যাখ্যান করল আইসল্যান্ড, গণভোটে জয় ‘না’ পক্ষের

০৭:২০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিতর্কে আপাতত ইতি টানল আইসল্যান্ড। শনিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশটির ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলাফলে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রায় চার লাখ মানুষের এই উত্তর মেরু অঞ্চলের দেশটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্কে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছিল, খুব অল্প ব্যবধানে হলেও সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা শুরুর পক্ষে ভোট পড়তে পারে। কিন্তু আগস্ট মাসের জনমত জরিপগুলোতে পরিস্থিতি বদলে যায়।

মাছ ধরার অধিকারই হয়ে উঠল বড় প্রশ্ন
গণভোটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি ছিল আইসল্যান্ডের বিশাল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ। দেশটির অর্থনীতিতে মাছ ধরার শিল্পের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এটি মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত এবং রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলে মাছ ধরার ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণ কতটা অক্ষুণ্ন থাকবে, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মে ঐতিহাসিক মাছ ধরার ধরণসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে মৎস্য আহরণের কোটা নির্ধারণ করা হয়। আইসল্যান্ডের পক্ষের কিছু কর্মকর্তা অবশ্য যুক্তি দিয়েছিলেন, দেশটির জলসীমায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্যরাষ্ট্র বহু দশক ধরে মাছ ধরছে না। ফলে আইসল্যান্ড তার জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে।

তবে বিরোধীরা এই আশ্বাসে আস্থা রাখেননি। তাদের আশঙ্কা ছিল, শুরুতে কিছু ছাড় দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম দেশটির মৎস্য খাতের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।

নিরাপত্তা ও উত্তর মেরু অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছিল আলোচনায়
সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে নিরাপত্তার যুক্তিও তুলে ধরেছিল। উত্তর মেরু অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটে অঙ্গীকার নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আইসল্যান্ডের জন্য একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে পারে বলে সরকার মনে করেছিল।

আইসল্যান্ড উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের সদস্য হলেও দেশটির নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর মেরু অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। ফলে আইসল্যান্ডে নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছিল।

তবে ভোটারদের একটি বড় অংশের কাছে নিরাপত্তার চেয়ে জাতীয় স্বাধীনতা ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার প্রশ্ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।Iceland rejects bid to resume EU membership talks

জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ সুদের চাপ
আইসল্যান্ডের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রথম আবেদন হয়েছিল ২০০৯ সালে, যখন বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী একটি সরকার ২০১৩ সালে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেয়।

এবারও অর্থনীতি গণভোটের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের চাপ সামলাচ্ছে। আইসল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বর্তমানে ৮ শতাংশ, যেখানে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হার ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা মনে করেন, সদস্যপদ এবং ভবিষ্যতে ইউরো মুদ্রা গ্রহণের সম্ভাবনা দেশটির অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, আইসল্যান্ডের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান ব্রাসেলস থেকে আসবে না; দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই এসব সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।

রাজধানীতে সমর্থন, গ্রামাঞ্চলে স্পষ্ট বিরোধিতা
গণভোটের ফলাফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনও দেখা গেছে। আইসল্যান্ডের ছয়টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে শুধু রাজধানী রেইকিয়াভিকের কেন্দ্রীয় দুটি এলাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা শুরুর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল।

অন্যদিকে গ্রামীণ অঞ্চল এবং রেইকিয়াভিকের উপকণ্ঠের ভোটাররা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সরকার গণভোটকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরেছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্টাদোতির সতর্ক করেছিলেন, ‘না’ ভোট জয়ী হলে তার নেতৃত্বাধীন মধ্য-বাম জোট সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত এই বিতর্ক আর সামনে আনা হবে না।

ব্রাসেলসের জন্যও বড় ধাক্কা
আইসল্যান্ডের গণভোটের ফল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও অস্বস্তিকর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রাসেলসের কিছু কর্মকর্তা আশা করেছিলেন, আইসল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্প্রসারণ নিয়ে বাড়তে থাকা সংশয় কিছুটা কমাতে পারে।

কিন্তু ভোটের ফল সেই প্রত্যাশাকে উল্টে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কূটনীতিকের ভাষায়, এটি ব্রাসেলসের জন্য স্পষ্ট ধাক্কা। মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় স্বাধীনতার প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইসল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তে দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের দীর্ঘ বিতর্ক আপাতত থেমে গেল। অর্থনৈতিক সুবিধা, নিরাপত্তা ও ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের যুক্তির বিপরীতে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের মৎস্যসম্পদ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।