বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়া একটি বিশাল নদীকে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের অভ্যন্তরীণ নৌপথে পরিণত করার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে বলে জানা গেছে।
এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ইরতিশ নদী। চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনচিয়াং অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়ে নদীটি কাজাখস্তানের মধ্য দিয়ে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছে। পরে এটি ওব নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে শেষ পর্যন্ত আর্কটিক মহাসাগরে গিয়ে পড়েছে।
আর্কটিকে চীনের নতুন প্রবেশপথ
চীনের জন্য ইরতিশ নদীকে ব্যবহার করে নদীপথ থেকে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে তা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সম্পদসমৃদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব পাওয়া আর্কটিক অঞ্চলে স্থলভাগ থেকে সরাসরি প্রবেশের একটি বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্য অনেকাংশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। এসব পথে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক বিরোধ বা সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেই ঝুঁকি কমাতে চীন দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প পরিবহনপথ খুঁজছে।
চীন-রাশিয়ার জন্য কৌশলগত সুযোগ
ইরতিশ নদীকে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হলে চীন ও রাশিয়া উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। চীন আর্কটিক অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাবে, অন্যদিকে রাশিয়া তার বিশাল অভ্যন্তরীণ জলপথ ও উত্তরাঞ্চলীয় নৌপরিবহন অবকাঠামোর ব্যবহার বাড়াতে পারবে।
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নদীর গভীরতা, নৌযান চলাচলের সক্ষমতা, বরফ জমার সময়কাল, অবকাঠামো নির্মাণ এবং একাধিক দেশের সমন্বয়সহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফলে ইরতিশ নদী ভবিষ্যতে চীনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক বাণিজ্যপথ হয়ে উঠবে কি না, তা নির্ভর করবে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















