দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া লন্ডনের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের একটি ঐতিহাসিক গ্যালারি দীর্ঘ ৮৩ বছর পর আবারও দর্শনার্থীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে গ্যালারিটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
৮০ বছরের বেশি সময় ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে
গ্যালারিটি ১৯৪৩ সাল থেকে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য বন্ধ ছিল। এবার সেখানে ‘প্রকৃতি ও আমরা’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে। প্রদর্শনীতে প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ রাখা হবে, যেগুলোর মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বদলে যাওয়া সম্পর্ক তুলে ধরা হবে।
লন্ডনের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাদুঘরের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর নতুন অথবা সংস্কার করা কোনো না কোনো প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাদুঘরের পরিচালক ডগ গার জানান, আট দশকেরও বেশি সময় পর দর্শনার্থীরা প্রথমবারের মতো এই ঐতিহাসিক ও সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানে প্রবেশ করে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের পরিবর্তিত সম্পর্ক সম্পর্কে জানতে পারবেন।
একসময় ছিল প্রাণীর কঙ্কাল ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংগ্রহ
জাদুঘরের মূল ওয়াটারহাউস ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত গ্যালারিটি একসময় অস্থিবিদ্যা ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত হতো।
তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাদুঘরের পুরোনো উদ্ভিদ সংগ্রহশালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গ্যালারিটির ব্যবহার পরিবর্তন করা হয়। সেখানে উদ্ভিদবিষয়ক সংগ্রহ সংরক্ষণ শুরু হয় এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে ঐতিহাসিক এই স্থানটি জাদুঘরের অন্যতম অদৃশ্য অংশে পরিণত হয়েছিল।
থাকছে বিরল ও ঐতিহাসিক নিদর্শন
নতুন প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হবে ক্রিস্টাল প্যালেসের ডাইনোসরের একটি ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি। এর পাশাপাশি এমন বেশ কিছু নিদর্শন রাখা হবে, যেগুলো দেখে বোঝা যাবে অতীতের বিজ্ঞানী ও শিল্পীরা প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবী এবং বিলুপ্ত প্রাণীদের কীভাবে দেখতেন।
প্রদর্শনীতে ভিক্টোরীয় যুগের একটি সন্ন্যাসী সিলের কঙ্কালও রাখা হবে। ‘জেনি’ নামের এই প্রাণীটি একসময় কীভাবে বিনোদনের জন্য বন্য প্রাণীদের ব্যবহার করা হতো, তার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া প্রায় ১৪ হাজার ৩০০ বছর আগের ব্রিটেনে গৃহপালিত কুকুরের প্রাচীনতম পরিচিত নিদর্শনগুলোর একটি প্রতিরূপ চোয়ালও প্রদর্শনীতে রাখা হচ্ছে।
স্থায়ী প্রদর্শনীর আগে পরীক্ষামূলক আয়োজন
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন প্রদর্শনীটি প্রাথমিকভাবে ১৮ মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকবে। এই সময়ে দর্শনার্থীদের মতামত নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের সংগ্রহ ও প্রদর্শনী তারা দেখতে চান, সে বিষয়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই মতামতের ভিত্তিতেই ২০২৯ সালে গ্যালারিটির স্থায়ী প্রদর্শনীর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
লন্ডনের দক্ষিণ কেনসিংটনে অবস্থিত প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে প্রবেশ বিনামূল্যে এবং সপ্তাহের সাত দিনই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।
প্রকৃতি, বিজ্ঞান ও ইতিহাসের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের দীর্ঘ বিবর্তনকে সামনে রেখে ৮৩ বছর পর গ্যালারিটির পুনরায় খুলে দেওয়া তাই শুধু একটি পুরোনো কক্ষের দরজা খোলার ঘটনা নয়; বরং অতীতের বিস্মৃত সংগ্রহকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রাচীন প্রাণী এবং বৈজ্ঞানিক ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী দর্শনার্থীদের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে লন্ডনের অন্যতম আকর্ষণীয় নতুন অভিজ্ঞতা।
৮৩ বছর পর ঐতিহাসিক গ্যালারি খুলছে লন্ডনে—প্রাচীন প্রাণী, ডাইনোসর ও মানব-প্রকৃতি সম্পর্কের বিরল নিদর্শন নিয়ে সাজানো হচ্ছে নতুন প্রদর্শনী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















