বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে শিশু-কিশোরীদের ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শনিবার বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল্লাহ লাঙ্গাউ জানান, সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক বোনঝিকে উদ্ধার করেছে। অভিযোগ, তাদের আত্মঘাতী হামলার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পর লক্ষ্যবস্তু
জানা গেছে, দুই কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর তাদের শোক ও ক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি তাদের আত্মঘাতী হামলার কাজে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
নারীদের আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহারের ঘটনা সংগঠনটির ক্ষেত্রে আগেও দেখা গেছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী আত্মঘাতী হামলাকারীর বিস্ফোরণে তিনজন চীনা শিক্ষক ও তাদের পাকিস্তানি চালক নিহত হন। এর আগে একই সময়ে পাল্টা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আরও তিন নারী আত্মঘাতী হামলাকারীকে আটক করা হয়েছিল।
শিশুদের ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ
তবে এবার অপ্রাপ্তবয়স্কদের আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত করার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যেসব শিশু পারিবারিক স্বজন হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাদের সেই শোককে কাজে লাগিয়ে সহিংসতার পথে ঠেলে দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই রাজনৈতিক অধিকারের আন্দোলন হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বেলুচিস্তানের মানুষের প্রকৃত রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভ থাকলেও সেই ক্ষোভকে শিশু ও নারীদের প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা কোনো সমাধান নয়। বরং এতে সাধারণ মানুষের ভয় বাড়ে এবং রাজনৈতিক দাবি ও সহিংসতার মধ্যকার পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীর ভবিষ্যৎই এখন গুরুত্বপূর্ণ
দুই কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করাকে নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও বেসামরিক প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উদ্ধারেই দায়িত্ব শেষ হওয়া উচিত নয়।
তাদের নিরাপদ পরিবেশে রাখতে হবে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা ও শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথটিও সহজ করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ কমে যাওয়ার পরও তাদের সুরক্ষা অব্যাহত থাকে।

সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা জরুরি
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে যারা অর্থ, যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত সহায়তা বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাকিস্তানের উচিত এ ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় সম্ভাব্য বিদেশি সহায়তার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তুলে ধরা।
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি এবং এর মজিদ ব্রিগেডকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থায়ন, অনলাইন প্রচারণা ও কূটনৈতিক সহায়তার পথ বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করা যেতে পারে।
বেলুচিস্তানের মানুষের রাজনৈতিক দাবি থাকলে তার সমাধান হওয়া উচিত নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান, গণআলোচনা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আত্মঘাতী হামলা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে সেই পথ আরও সংকুচিত করে দেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















