০৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
চাকরি পেতে নেটওয়ার্কিংয়ে যে ভুলগুলো আপনাকে সবার অপছন্দের করে তুলতে পারে ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যু ৯৭, হাসপাতালে নতুন ১১৬৩ রোগী প্রিপেইড মিটারে ‘ঘোস্ট বিল’ নেই, দীর্ঘ টোকেনের কারণ জানাল ডিপিডিসি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে, একবারে তোলা যাবে পুরো মূলধন মেলোনির হাতে ইতালির দীর্ঘতম সরকার, তবে স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা দারিদ্র্যের চাপে দিশেহারা আফগান পরিবার, টিকে থাকার লড়াইয়ে বিক্রি হচ্ছে ভবিষ্যৎ সুমাকের ঘ্রাণে মিষ্টি আলুর দারুণ পদ, সঙ্গে সবুজ তাহিনি সস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাজনিত সাইবার ঝুঁকিই বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক হুমকি জাকারবার্গের ‘জনগণের জন্য এআই’ গল্পে কেন আস্থা রাখা কঠিন এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নিজস্ব গ্যাস টারবাইনের যন্ত্রাংশ তৈরি করবে স্পেসএক্স

গরমে বিপদ বাড়াতে পারে যেসব বহুল ব্যবহৃত ওষুধ

তীব্র গরমে শুধু শরীরের বাইরের তাপমাত্রাই নয়, কিছু বহুল ব্যবহৃত ওষুধও মানুষের শরীরকে অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মনোযোগের ঘাটতি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েক ধরনের ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও একাধিক ওষুধ গ্রহণকারীদের গরমের সময় বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিষণ্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধে ঝুঁকি

বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও দ্বিমেরু মানসিক সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ মস্তিষ্কের তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অংশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কয়েক ধরনের বিষণ্নতার ওষুধ রয়েছে।

এসব ওষুধের কারণে কারও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে গেলে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। তীব্র গরমের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

আবার কিছু পুরোনো ধরনের বিষণ্নতার ওষুধ ঘাম কমিয়ে দিতে পারে। ঘাম শরীরকে ঠান্ডা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। ফলে ঘাম কমে গেলে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের হতে না পেরে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

মনোযোগের ঘাটতির ওষুধেও সতর্কতা

মনোযোগের ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তার চিকিৎসায় ব্যবহৃত উদ্দীপক ধরনের ওষুধ শরীরে তাপ উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং রক্তনালির সংকোচন ঘটাতে পারে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ ধরনের ওষুধ গ্রহণকারীরা কখনো কখনো অতিরিক্ত পরিশ্রম বা শরীরের ওপর তাপের চাপ ঠিকভাবে বুঝতে নাও পারেন। ফলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেরিতে ধরা পড়তে পারে।

রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ওষুধও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধ নয়, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধও গরমের সময় ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ শরীর থেকে পানি ও লবণ বের করে দেয়। প্রচণ্ড গরমে ঘামের মাধ্যমে আরও পানি ও লবণ হারালে পানিশূন্যতা ও শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরও কিছু ওষুধ তৃষ্ণার স্বাভাবিক অনুভূতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লেও পর্যাপ্ত পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা ঠিকভাবে অনুভূত নাও হতে পারে।

গুরুতর পানিশূন্যতা হলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া এবং অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, হৃদ্‌রোগে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ সীমিত করতে পারে। এতে শরীর তাপ বাইরে বের করে ঠান্ডা হওয়ার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারাতে পারে।

একাধিক ওষুধ নিলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে

একজন মানুষ একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ গ্রহণ করলে ঝুঁকি আরও জটিল হতে পারে। কোনো একটি ওষুধ শরীরের ঘাম কমাতে পারে, অন্যটি পানিশূন্যতার প্রবণতা বাড়াতে পারে, আবার আরেকটি শরীরের তাপ উৎপাদন বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কিছুটা কমে এবং একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ গ্রহণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ না থাকলেও গ্রীষ্মকালে কিছু ওষুধ গ্রহণকারী বয়স্ক মানুষের তাপজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

Heatstroke: Signs, Symptoms, and When to Get Medical Treatment | Family First ER - Emergency Clinic

শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

গরমে ওষুধের প্রভাবের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন ও আর্থিক অবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে। যারা প্রচণ্ড গরমে শারীরিক শ্রম করেন, বাইরে ঘুমান কিংবা এমন এলাকায় বসবাস করেন যেখানে গাছপালা কম এবং কংক্রিটের পরিমাণ বেশি, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকা বাসায় দীর্ঘ সময় থাকা কিংবা তীব্র গরমের মধ্যে বাইরে কাজ করাও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

বিভ্রান্তি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

তাপজনিত অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, দ্রুত হৃদ্‌স্পন্দন, মাথা ঘোরা ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কিন্তু যদি কারও আচরণ বদলে যায়, বিভ্রান্তি তৈরি হয় কিংবা তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বা কাজ করতে না পারেন, তাহলে বিষয়টি গুরুতর হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত তাপের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন তাপাঘাতের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।

নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না

গরমে কোনো ওষুধ সমস্যা তৈরি করছে বলে মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেটি হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়। অনেক ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে মূল রোগের উপসর্গ ফিরে আসতে পারে বা অন্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বরং চিকিৎসককে জানিয়ে ওষুধের মাত্রা, সময়সূচি বা বিকল্প চিকিৎসা নিয়ে পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা নিয়মিত একাধিক ওষুধ খান, তাদের গরমের মৌসুমে কোন ওষুধ কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তীব্র গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, সম্ভব হলে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না থাকা এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করা জরুরি। তবে কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ বা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি পেতে নেটওয়ার্কিংয়ে যে ভুলগুলো আপনাকে সবার অপছন্দের করে তুলতে পারে

গরমে বিপদ বাড়াতে পারে যেসব বহুল ব্যবহৃত ওষুধ

০৬:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র গরমে শুধু শরীরের বাইরের তাপমাত্রাই নয়, কিছু বহুল ব্যবহৃত ওষুধও মানুষের শরীরকে অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মনোযোগের ঘাটতি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েক ধরনের ওষুধ শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও একাধিক ওষুধ গ্রহণকারীদের গরমের সময় বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

বিষণ্নতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধে ঝুঁকি

বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও দ্বিমেরু মানসিক সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ মস্তিষ্কের তাপ নিয়ন্ত্রণকারী অংশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কয়েক ধরনের বিষণ্নতার ওষুধ রয়েছে।

এসব ওষুধের কারণে কারও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে গেলে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। তীব্র গরমের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

আবার কিছু পুরোনো ধরনের বিষণ্নতার ওষুধ ঘাম কমিয়ে দিতে পারে। ঘাম শরীরকে ঠান্ডা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। ফলে ঘাম কমে গেলে শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের হতে না পেরে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

মনোযোগের ঘাটতির ওষুধেও সতর্কতা

মনোযোগের ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তার চিকিৎসায় ব্যবহৃত উদ্দীপক ধরনের ওষুধ শরীরে তাপ উৎপাদন বাড়াতে পারে এবং রক্তনালির সংকোচন ঘটাতে পারে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ ধরনের ওষুধ গ্রহণকারীরা কখনো কখনো অতিরিক্ত পরিশ্রম বা শরীরের ওপর তাপের চাপ ঠিকভাবে বুঝতে নাও পারেন। ফলে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেরিতে ধরা পড়তে পারে।

রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ওষুধও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধ নয়, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধও গরমের সময় ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রস্রাব বাড়ানোর ওষুধ শরীর থেকে পানি ও লবণ বের করে দেয়। প্রচণ্ড গরমে ঘামের মাধ্যমে আরও পানি ও লবণ হারালে পানিশূন্যতা ও শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আরও কিছু ওষুধ তৃষ্ণার স্বাভাবিক অনুভূতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লেও পর্যাপ্ত পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা ঠিকভাবে অনুভূত নাও হতে পারে।

গুরুতর পানিশূন্যতা হলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়া এবং অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, হৃদ্‌রোগে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ সীমিত করতে পারে। এতে শরীর তাপ বাইরে বের করে ঠান্ডা হওয়ার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারাতে পারে।

একাধিক ওষুধ নিলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে

একজন মানুষ একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ গ্রহণ করলে ঝুঁকি আরও জটিল হতে পারে। কোনো একটি ওষুধ শরীরের ঘাম কমাতে পারে, অন্যটি পানিশূন্যতার প্রবণতা বাড়াতে পারে, আবার আরেকটি শরীরের তাপ উৎপাদন বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কিছুটা কমে এবং একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ গ্রহণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ না থাকলেও গ্রীষ্মকালে কিছু ওষুধ গ্রহণকারী বয়স্ক মানুষের তাপজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

Heatstroke: Signs, Symptoms, and When to Get Medical Treatment | Family First ER - Emergency Clinic

শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

গরমে ওষুধের প্রভাবের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন ও আর্থিক অবস্থারও সম্পর্ক রয়েছে। যারা প্রচণ্ড গরমে শারীরিক শ্রম করেন, বাইরে ঘুমান কিংবা এমন এলাকায় বসবাস করেন যেখানে গাছপালা কম এবং কংক্রিটের পরিমাণ বেশি, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকা বাসায় দীর্ঘ সময় থাকা কিংবা তীব্র গরমের মধ্যে বাইরে কাজ করাও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

বিভ্রান্তি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন

তাপজনিত অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, দ্রুত হৃদ্‌স্পন্দন, মাথা ঘোরা ও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কিন্তু যদি কারও আচরণ বদলে যায়, বিভ্রান্তি তৈরি হয় কিংবা তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বা কাজ করতে না পারেন, তাহলে বিষয়টি গুরুতর হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত তাপের কারণে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন তাপাঘাতের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।

নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না

গরমে কোনো ওষুধ সমস্যা তৈরি করছে বলে মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেটি হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়। অনেক ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে মূল রোগের উপসর্গ ফিরে আসতে পারে বা অন্য গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বরং চিকিৎসককে জানিয়ে ওষুধের মাত্রা, সময়সূচি বা বিকল্প চিকিৎসা নিয়ে পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা নিয়মিত একাধিক ওষুধ খান, তাদের গরমের মৌসুমে কোন ওষুধ কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তীব্র গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান, সম্ভব হলে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না থাকা এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করা জরুরি। তবে কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ বা পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।