০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হালদওয়ানির ঘটনাই দেখাল, জাতিভিত্তিক অপমান ঠেকানোর আইনে কোথায় কাঠামোগত দুর্বলতা পাকিস্তান-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক: ভূরাজনীতির টানাপোড়েন পেরিয়ে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা বন্যার পানি কমলেও দৌলতপুরে বাড়ছে দুর্ভোগ, বিশুদ্ধ পানির সংকটে ৫০ হাজার মানুষ মেক্সিকোয় স্প্যানিশ ছাত্রী খুন, নারীবিদ্বেষের অভিযোগে তদন্ত গ্যাস সংকটে এখনো বন্ধ হয়নি কোনো পোশাক কারখানা, তবে বড় চাপের শঙ্কা হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দেশে প্রাণহানি ১,০৪৬ ইরানের কারাগারে নির্যাতনের ভয়াবহ স্মৃতি, সব জেনেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,৪৮৪ রোগী ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লস বলেছিলেন, ‘শিগগিরই আমরা তাকে ভুলে যাব’—ভাইয়ের বইয়ে বিস্ফোরক দাবি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: যুদ্ধ জেতা আর যুদ্ধ শেষ করার ক্ষমতা এক নয়

ইরানে হামলায় মার্কিন যুদ্ধাপরাধের সম্ভাবনা দেখছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা

ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশন। সংস্থাটির স্বাধীন তদন্তকারীরা বলেছেন, দুটি বিমান হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পক্ষে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়া গেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিনাবে স্কুলে ভয়াবহ হামলা

তদন্তকারীদের নজরে থাকা হামলাগুলোর একটি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক তদন্তে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটিতে আঘাত হানে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

জাতিসংঘ-সমর্থিত তথ্য অনুসন্ধান দল বলেছে, হামলার সময় স্কুলটি স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনার ওপর নির্বিচার হামলা চালানো হয়ে থাকলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

লামের্দে ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও হামলা

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লামের্দে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেখানে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। হামলায় টাংস্টেনের ক্ষুদ্র ধাতব কণা ছড়িয়ে পড়ে এবং ২২ জন বেসামরিক নারী-পুরুষ নিহত হন বলে জাতিসংঘের মিশন জানিয়েছে।

তদন্তের দায় স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র

স্কুলে হামলার জন্য মার্কিন প্রশাসন এখনো সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। একই সঙ্গে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এ হামলা নিয়ে কোনো তদন্তের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ২০২২ সালে ইরানবিষয়ক এই আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশন গঠন করে। বাংলাদেশি আইনজীবী সারা হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এই মিশনে স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান

মানবাধিকার পরিষদের ৪৭টি সদস্যদেশের কাছে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তদন্তকারী দল। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা।

তদন্তকারীরা আরও বলেছেন, সংঘাতে জড়িত তিন পক্ষের বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

মিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হালদওয়ানির ঘটনাই দেখাল, জাতিভিত্তিক অপমান ঠেকানোর আইনে কোথায় কাঠামোগত দুর্বলতা

ইরানে হামলায় মার্কিন যুদ্ধাপরাধের সম্ভাবনা দেখছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা

০৭:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশন। সংস্থাটির স্বাধীন তদন্তকারীরা বলেছেন, দুটি বিমান হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পক্ষে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়া গেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিনাবে স্কুলে ভয়াবহ হামলা

তদন্তকারীদের নজরে থাকা হামলাগুলোর একটি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক তদন্তে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটিতে আঘাত হানে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই শিশু।

জাতিসংঘ-সমর্থিত তথ্য অনুসন্ধান দল বলেছে, হামলার সময় স্কুলটি স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনার ওপর নির্বিচার হামলা চালানো হয়ে থাকলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

লামের্দে ক্রীড়া কমপ্লেক্সেও হামলা

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লামের্দে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেখানে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি স্পষ্টভাবে শনাক্তযোগ্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। হামলায় টাংস্টেনের ক্ষুদ্র ধাতব কণা ছড়িয়ে পড়ে এবং ২২ জন বেসামরিক নারী-পুরুষ নিহত হন বলে জাতিসংঘের মিশন জানিয়েছে।

তদন্তের দায় স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র

স্কুলে হামলার জন্য মার্কিন প্রশাসন এখনো সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। একই সঙ্গে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এ হামলা নিয়ে কোনো তদন্তের ফলাফলও প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ২০২২ সালে ইরানবিষয়ক এই আন্তর্জাতিক তথ্য অনুসন্ধান মিশন গঠন করে। বাংলাদেশি আইনজীবী সারা হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এই মিশনে স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান

মানবাধিকার পরিষদের ৪৭টি সদস্যদেশের কাছে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তদন্তকারী দল। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বেসামরিক নাগরিকদের আশ্রয়ের সুযোগ নিশ্চিত করা।

তদন্তকারীরা আরও বলেছেন, সংঘাতে জড়িত তিন পক্ষের বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।

মিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।