সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আল-জোর প্রদেশে একটি সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১১ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার প্রদেশটির রাজধানী দেইর আল-জোরের পশ্চিমে আয়াশ এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। শনিবার নিহত সেনাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
দেইর আল-জোর শহরের জাতীয় হাসপাতালে নিহত ১১ সেনাসদস্যের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় কর্মকর্তা ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আয়াশ এলাকায় অস্ত্র সংরক্ষণের একটি স্থাপনায় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল, স্বাস্থ্যকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়। ধ্বংসস্তূপ ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা হতাহত এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালান।
তবে কী কারণে অস্ত্রের গুদামে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত তদন্তের কোনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেনি সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ।
অস্ত্রের গুদামে একের পর এক বিস্ফোরণ
সিরিয়ায় চলতি মাসে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংরক্ষণের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের সারমাদা এলাকায় যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক সামগ্রী সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী স্থাপনায় বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ১৪ জন নিহত হন।
এ ছাড়া চলতি মাসে দামেস্কের গ্রামাঞ্চলের আল-দুমাইর এলাকার কাছে একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণস্থলেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে ওই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র ছড়িয়ে রয়েছে। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক এখনো স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে আছে।
যুদ্ধের ক্ষত এখনো রয়ে গেছে দেইর আল-জোরে
ইরাকের সীমান্তবর্তী দেইর আল-জোর প্রদেশটি সিরিয়ার দীর্ঘ সংঘাতের সময় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র ছিল। ইউফ্রেটিস নদী প্রদেশটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে অঞ্চলটিতে এখনো নিরাপত্তাজনিত নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক ধ্বংসাবশেষের উপস্থিতিও সেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। সামরিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক একাধিক বিস্ফোরণের পর অস্ত্র সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
আয়াশের সামরিক স্থাপনায় সর্বশেষ বিস্ফোরণে ১১ সেনার মৃত্যু সেই ঝুঁকিরই আরেকটি ভয়াবহ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















