০৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের শুল্কনীতি নিয়ে ‘ট্যারিফ কিং’ তকমা কতটা সত্য? প্রিন্স নাসিমের উত্তরসূরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেন না ড্যানিয়েল টিসডেল সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙরের হামলায় নিহত গ্রেগ, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় বিরল ‘মেরে ফেলার’ নির্দেশ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে কিটো ডায়েট: ওজন ও রক্তে শর্করা কমাতে কতটা কার্যকর? যে গাছকে ‘দাদু’ ডাকেন বাসিন্দারা, সেটিই কি বিষ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা? রিয়াদে আকাশপথে হামলার সতর্কতা, শোনা গেল বিস্ফোরণের শব্দ কুমিল্লায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছরের ছেলে বনে মিলল মরদেহ শখের ময়ূর পালনেই ২৮ লাখ টাকার খামার, ‘ময়ূর শাহ আলী’ এখন এলাকায় পরিচিত রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে সাইবার হামলার অভিযোগ, ভোটের মাঝেই উত্তেজনা ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,২৩২

নাজিবের গৃহবন্দিত্বের সিদ্ধান্তে মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ, জোট সরকারে চাপ

শনিবার মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির (ডিএপি) সাধারণ সম্পাদক অ্যান্থনি লোক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে বাকি কারাদণ্ড বাড়িতে কাটানোর অনুমতি দেওয়ার একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমা পর্ষদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই অ্যান্থনি লোক পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। লোকের ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর নিজের মন্ত্রিত্বের সঙ্গে জড়িত। ঘটনাক্রমও পরিষ্কার: ক্ষমা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এক দিন আগে, আর পদত্যাগ পরদিন। প্রথমে লোক পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, পরে তা কার্যকর করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনের শিরোনামে দেখা যায়।

ক্ষমা পর্ষদ নাজিবকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এর ফলে তিনি কারাগারের বদলে নিজের বাড়িতে থেকে বাকি মেয়াদ কাটাতে পারবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই গৃহবন্দিত্ব চলবে ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত। ডিএপি প্রকাশ্যে বলেছে, তারা রাজার ক্ষমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। তবে নাজিবকে বাড়িতে সাজা ভোগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি দলটি মেনে নেয়নি। সেই অবস্থান থেকেই দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে লোক মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে ক্ষমার সিদ্ধান্ত এখন শুধু আইনি প্রশ্ন নয়, সরকারের ভেতরের রাজনৈতিক প্রশ্নও হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাজিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজার ক্ষমার আওতায়, তাই আইনি দিক থেকে সরকারের হাতে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমিত ছিল। সেই কারণেই ডিএপির প্রতিবাদ মন্ত্রিত্ব ছাড়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

অ্যান্থনি লোক পদত্যাগ করলেও সরকার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না ডিএপি। দ্য স্ট্রেইটস টাইমস ও চ্যানেল নিউজ এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের অন্য মন্ত্রীরা আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারেই থাকছেন। ডিএপি প্রধানমন্ত্রীর পাকাতান হারাপান জোটের বৃহত্তম শরিক। সরকারের ১২টি পদ এখন এই দলের হাতে। ফলে একজন মন্ত্রীর প্রস্থানকে দলটি প্রতিবাদের বার্তা হিসেবে ব্যবহার করছে, জোট ভাঙার সংকেত হিসেবে নয়। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে ও মালয় মেইলও এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের জন্য এটি একটি সূক্ষ্ম পরীক্ষা। তাঁর সরকার টিকে আছে, তবে জোটের বৃহত্তম শরিকের একজন শীর্ষ নেতাকে মন্ত্রিসভায় হারানো সহজ ব্যাপার নয়।

এই ঘটনা মালয়েশিয়ার জোট রাজনীতির নাজুক ভারসাম্য সামনে এনেছে। একদিকে রাজার ক্ষমার সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে জোটের বৃহত্তম শরিকের প্রকাশ্য আপত্তি। দুই পক্ষের মাঝখানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারকে এখন সরকারের স্থিতি ধরে রাখতে হবে। অ্যান্থনি লোক পদত্যাগ করে ডিএপির জন্য নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ তৈরি করেছেন, আবার ক্ষমতার অংশীদারিত্বও ধরে রেখেছেন। আগামী দিনে অন্য শরিকদের প্রতিক্রিয়া এবং জনমতের ধরন দেখেই বোঝা যাবে এই চাপ কতটা গভীর। ক্ষমা কার প্রাপ্য এবং কোন শর্তে, সে প্রশ্নে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। সেই বিতর্ক সরকারের ওপর আরও চাপ বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের পাঠকের কাছে ঘটনাটি দূরের মনে হলেও একেবারে অপরিচিত নয়। মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় গন্তব্য, তাই দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখানেও নজরে থাকে। সাবেক সরকারপ্রধানের সাজা, ক্ষমা এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এই অঞ্চলের নানা দেশেই দেখা যায়। মন্ত্রিসভা ছেড়েও দল না ছাড়ার সিদ্ধান্ত কতদিন জোটকে ধরে রাখে, সেটাই এখন প্রশ্ন। লোকের ছেড়ে দেওয়া পরিবহন মন্ত্রণালয় কার হাতে যায়, তার ওপরও নজর থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের শুল্কনীতি নিয়ে ‘ট্যারিফ কিং’ তকমা কতটা সত্য?

নাজিবের গৃহবন্দিত্বের সিদ্ধান্তে মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ, জোট সরকারে চাপ

০৬:২৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির (ডিএপি) সাধারণ সম্পাদক অ্যান্থনি লোক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে বাকি কারাদণ্ড বাড়িতে কাটানোর অনুমতি দেওয়ার একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষমা পর্ষদের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই অ্যান্থনি লোক পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অধীনে পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। লোকের ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর নিজের মন্ত্রিত্বের সঙ্গে জড়িত। ঘটনাক্রমও পরিষ্কার: ক্ষমা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এক দিন আগে, আর পদত্যাগ পরদিন। প্রথমে লোক পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, পরে তা কার্যকর করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনের শিরোনামে দেখা যায়।

ক্ষমা পর্ষদ নাজিবকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এর ফলে তিনি কারাগারের বদলে নিজের বাড়িতে থেকে বাকি মেয়াদ কাটাতে পারবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই গৃহবন্দিত্ব চলবে ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত। ডিএপি প্রকাশ্যে বলেছে, তারা রাজার ক্ষমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করে। তবে নাজিবকে বাড়িতে সাজা ভোগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি দলটি মেনে নেয়নি। সেই অবস্থান থেকেই দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে লোক মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন। ফলে ক্ষমার সিদ্ধান্ত এখন শুধু আইনি প্রশ্ন নয়, সরকারের ভেতরের রাজনৈতিক প্রশ্নও হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাজিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজার ক্ষমার আওতায়, তাই আইনি দিক থেকে সরকারের হাতে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমিত ছিল। সেই কারণেই ডিএপির প্রতিবাদ মন্ত্রিত্ব ছাড়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

অ্যান্থনি লোক পদত্যাগ করলেও সরকার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না ডিএপি। দ্য স্ট্রেইটস টাইমস ও চ্যানেল নিউজ এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের অন্য মন্ত্রীরা আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারেই থাকছেন। ডিএপি প্রধানমন্ত্রীর পাকাতান হারাপান জোটের বৃহত্তম শরিক। সরকারের ১২টি পদ এখন এই দলের হাতে। ফলে একজন মন্ত্রীর প্রস্থানকে দলটি প্রতিবাদের বার্তা হিসেবে ব্যবহার করছে, জোট ভাঙার সংকেত হিসেবে নয়। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে ও মালয় মেইলও এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের জন্য এটি একটি সূক্ষ্ম পরীক্ষা। তাঁর সরকার টিকে আছে, তবে জোটের বৃহত্তম শরিকের একজন শীর্ষ নেতাকে মন্ত্রিসভায় হারানো সহজ ব্যাপার নয়।

এই ঘটনা মালয়েশিয়ার জোট রাজনীতির নাজুক ভারসাম্য সামনে এনেছে। একদিকে রাজার ক্ষমার সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে জোটের বৃহত্তম শরিকের প্রকাশ্য আপত্তি। দুই পক্ষের মাঝখানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারকে এখন সরকারের স্থিতি ধরে রাখতে হবে। অ্যান্থনি লোক পদত্যাগ করে ডিএপির জন্য নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ তৈরি করেছেন, আবার ক্ষমতার অংশীদারিত্বও ধরে রেখেছেন। আগামী দিনে অন্য শরিকদের প্রতিক্রিয়া এবং জনমতের ধরন দেখেই বোঝা যাবে এই চাপ কতটা গভীর। ক্ষমা কার প্রাপ্য এবং কোন শর্তে, সে প্রশ্নে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক। সেই বিতর্ক সরকারের ওপর আরও চাপ বাড়াতে পারে।

বাংলাদেশের পাঠকের কাছে ঘটনাটি দূরের মনে হলেও একেবারে অপরিচিত নয়। মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় গন্তব্য, তাই দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখানেও নজরে থাকে। সাবেক সরকারপ্রধানের সাজা, ক্ষমা এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এই অঞ্চলের নানা দেশেই দেখা যায়। মন্ত্রিসভা ছেড়েও দল না ছাড়ার সিদ্ধান্ত কতদিন জোটকে ধরে রাখে, সেটাই এখন প্রশ্ন। লোকের ছেড়ে দেওয়া পরিবহন মন্ত্রণালয় কার হাতে যায়, তার ওপরও নজর থাকবে।