যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে গান পরিবেশনের আগে গাজা যুদ্ধ নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাঁর কনসার্ট এমন একটি জায়গা, যেখানে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মানুষকে ঐক্য, মানবতা ও পারস্পরিক সম্মানের জায়গায় একত্রিত হওয়া উচিত।
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলাডেলফিয়ার একটি প্রায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে দর্শকদের সামনে বক্তব্য দেন শিরান। তাঁর এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফর ও কনসার্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শিরানের বক্তব্যের আগে তাঁর সফরকে ঘিরে বেশ কিছু পরিবর্তনও হয়েছে। তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরে শুরুতে র্যাপার ম্যাকলমোরকে উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে রাখার কথা ছিল। কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির একটি কনসার্টে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পর তাঁকে সফর থেকে বাদ দেওয়া হয়। শিরান স্পষ্ট করে বলেছেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না।

এরপর আরও কয়েকজন শিল্পী শিরানের কনসার্ট থেকে সরে দাঁড়ান। ডেনমার্কের ব্যান্ড লুকাস গ্রাহাম, আইরিশ গায়ক অ্যারন রো এবং বিলি আইলিশের ভাই ও সহযোগী শিল্পী ফিনিয়াস সফরের বিভিন্ন আয়োজন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। তবে আইরিশ লোকসংগীতের ব্যান্ড বেওগা এখনো শিরানের সঙ্গে কয়েকটি গান পরিবেশন করছে।
শনিবারের কনসার্টে গাজা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিরান বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার ঘটনা ছিল ভয়াবহ। একই সঙ্গে তিনি গাজার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেন এবং এটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও মন্তব্য করেন।
শিরান বলেন, তিনি নিজেকে একজন আন্দোলনকর্মী বা রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান না। কিন্তু গাজা যুদ্ধকে ঘিরে চলমান বিতর্ক তাঁকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের আলোচনার মধ্যে টেনে এনেছে।
তাঁর বক্তব্যের সময় বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়। শনিবারের কনসার্টের আগে বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পক্ষে বিভিন্ন বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমবেত হন। অন্যদিকে কিছু দর্শক মনে করেন, কনসার্টকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখা উচিত এবং সংগীতের আয়োজনকে রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গায় পরিণত করা ঠিক নয়।
![]()
এদিকে ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি রবার্ট ক্রাফটকে সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরে ক্রাফটের মুখপাত্র জানান, ক্রাফট ও শিরান দুজনই ২০ লাখ ডলার করে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এই অর্থ কোন নির্দিষ্ট সংস্থাকে বা কোন ত্রাণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
শিরান তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, তাঁর কনসার্টে ভিন্নমতের মানুষও স্বাগত। অর্থাৎ গাজা যুদ্ধ কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে কারও অবস্থান তাঁর মতের সঙ্গে মিলুক বা না মিলুক, সবাই তাঁর সংগীতের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।
গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের মধ্যেই শিরানের এই বক্তব্য সামনে এলো। তাঁর মন্তব্য একই সঙ্গে শিল্পীদের রাজনৈতিক ও মানবিক বিষয়ে অবস্থান নেওয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিনোদনের অনুষ্ঠানকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















