কুমিল্লায় আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী যশাত শাহরিয়ার ওপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই-সানন্দা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ বছর বয়সী সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততা যাচাই করছে পুলিশ। রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলাম তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ফোন উদ্ধারের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনকে ওপ্রতিমের সঙ্গে সানন্দার একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় যেতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার ওই এলাকা থেকে ওপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তুহিনকে শনাক্ত করে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন পুলিশকে জানায়, ওপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই সে তাকে ওই এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু মো. কামরুল হাসানের সম্পৃক্ততার কথা জানালে কামরুলকেও আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে তার বাড়ি থেকে ওপ্রতিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকায় ওপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ওপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে ওপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। এরপর ফাহাদ ও কামরুলও তাকে আঘাত করে। এসব আঘাতেই ওপ্রতিমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ওপ্রতিমের মৃত্যুর পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় আটক ফাহাদের বিস্তারিত পরিচয় পুলিশ প্রকাশ করেনি, কারণ সে অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এদিকে ১৯ বছর বয়সী সিয়ামকেও আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ওপ্রতিম ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র ছেলে। সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মরদেহ শনিবার সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়।
রোববার কুমিল্লার কোটবাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে ওপ্রতিমকে দাফন করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















