পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাঁচজন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত এবং ২৩ জন জিম্মি উদ্ধার করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার ভোররাত থেকে কালাত এলাকার কাছে একটি সড়কে অবৈধ চেকপোস্ট বসিয়েছিল সশস্ত্র একটি দল। তারা বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে মানুষকে অপহরণ, মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করা, অর্থ আদায় এবং যানবাহন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী পাঁচজন যোদ্ধাকে হত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি ট্রাক, তিনটি বাস ও দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিহতদের এমন একটি গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যাকে পাকিস্তান সরকার ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে। এই শব্দটি বেলুচিস্তানে সক্রিয় নিষিদ্ধ বেলুচ লিবারেশন আর্মি বা বিএলএসহ অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে বোঝাতে পাকিস্তান সরকার ব্যবহার করে। এসব গোষ্ঠীকে ভারত সমর্থন করে বলে পাকিস্তানের অভিযোগ রয়েছে। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য বা উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের কেউ হতাহত হননি। অভিযানের পর আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যাতে পালিয়ে যাওয়া অন্য কোনো সশস্ত্র সদস্য সেখানে লুকিয়ে থাকতে না পারে।
বেলুচিস্তানে চলমান সশস্ত্র বিদ্রোহের মধ্যে এ অভিযান চালানো হলো। এর এক সপ্তাহেরও বেশি আগে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন, প্রদেশ থেকে সশস্ত্র তৎপরতা পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বেলুচিস্তানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই অবৈধ চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন থামিয়ে মানুষ অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে অপহরণের পর ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল।
সর্বশেষ অভিযানের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ’ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।
বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ চলছে। বিএলএসহ বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতার দাবি করে আসছে। এসব গোষ্ঠীর হামলার প্রধান লক্ষ্য সাধারণত নিরাপত্তা বাহিনী। তবে বেলুচিস্তানে ব্যবসা বা কাজের জন্য যাওয়া পাঞ্জাব প্রদেশের মানুষও বিভিন্ন সময় হামলা ও অপহরণের শিকার হয়েছেন।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি করলেও প্রদেশটিতে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। সর্বশেষ এই অভিযানও দেখিয়ে দিল, দীর্ঘদিনের এই সংঘাত এখনো পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















