০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের ছকে দেখলে ভারতেরই কৌশলগত ক্ষতি নাক থেকে অন্ত্র—শরীরের অদৃশ্য প্রতিরক্ষা দেয়াল, কীভাবে কাজ করে মিউকোসাল ইমিউন সিস্টেম? পাঞ্জাবই কি পাকিস্তান? ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণে বাড়ছে প্রাদেশিক বৈষম্য

উন্নয়নশীল দেশে রেকর্ড ১১২ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ বিশ্বব্যাংকের

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ২০২৬ অর্থবছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করেছে। এ সময়ে বেসরকারি খাত থেকে সংগৃহীত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা চার বছর আগে ২০২২ অর্থবছরের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, নিজস্ব অর্থায়নের সঙ্গে এই বেসরকারি মূলধন যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ অর্থবছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মোট অর্থায়ন ও সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে।

বিভিন্ন আয়স্তরের দেশে বেড়েছে বিনিয়োগ

বেসরকারি মূলধন সংগ্রহের এই প্রবৃদ্ধি বিভিন্ন আয়স্তরের দেশেই দেখা গেছে। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য সংগৃহীত বেসরকারি মূলধন ২০২২ অর্থবছরের ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই পরিমাণ ১২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার।

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা তুলনামূলক কঠিন হলেও সেখানে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের মূলধন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। আফ্রিকাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মহাদেশটিতে সংগৃহীত বেসরকারি মূলধন ২০২২ অর্থবছরের প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিনিয়োগে বাধা কমাতে নতুন উদ্যোগ

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানিয়েছে, গত তিন বছরে বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজের পদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও সহজতর প্রক্রিয়া চালু করার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত করেছে। প্রতিটি দেশে গ্রুপের সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমের জন্য একক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রয়োজন ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে সমন্বিত কৌশল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

বিনিয়োগের পথে থাকা বাস্তব বাধাগুলো চিহ্নিত করতে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ ল্যাবও কাজ করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবসা ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ উন্নয়ন, গ্যারান্টির ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন সম্প্রসারণ, বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় পরিসরে যুক্ত করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।World Bank mobilizes $112 billion in private capital for developing world |  Kuwait Times Newspaper

রেকর্ড গ্যারান্টি, কর্মসংস্থানে জোর

২০২৬ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি গ্যারান্টি দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার গ্যারান্টি দেওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার চেয়ে চার বছর আগেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপ গ্যারান্টি প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন গ্যারান্টি পণ্যের জন্য গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের একক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, তিন বছর আগে শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আরও বেশি বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ এবং বেসরকারি খাতের জন্য আরও কার্যকর অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটির কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। বিপরীতে ওই সময়ে প্রায় ৪২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এসব অর্থনীতিতে প্রতি ১০টি চাকরির মধ্যে ৯টিই বেসরকারি খাত তৈরি করে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে অবকাঠামো ও জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজনকারী উৎপাদন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। ২০২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়ন ও সংগৃহীত মূলধনের মোট ৫৫ শতাংশ এসব কর্মসংস্থান-সৃষ্টিকারী খাতে গেছে।

আগামী দিনে আরও বেশি বিনিয়োগকারীকে উন্নয়নশীল দেশের বাজারে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনকে এসব দেশের বিনিয়োগের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে বিনিয়োগ প্যাকেজ তৈরি ও বিতরণের নতুন পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি মূলধন

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের লক্ষ্য হলো আরও বেশি উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহ করে তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে কাজে লাগানো।

জনপ্রিয় সংবাদ

পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

উন্নয়নশীল দেশে রেকর্ড ১১২ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ বিশ্বব্যাংকের

০৬:৩০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ২০২৬ অর্থবছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করেছে। এ সময়ে বেসরকারি খাত থেকে সংগৃহীত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা চার বছর আগে ২০২২ অর্থবছরের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, নিজস্ব অর্থায়নের সঙ্গে এই বেসরকারি মূলধন যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ অর্থবছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মোট অর্থায়ন ও সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হয়েছে।

বিভিন্ন আয়স্তরের দেশে বেড়েছে বিনিয়োগ

বেসরকারি মূলধন সংগ্রহের এই প্রবৃদ্ধি বিভিন্ন আয়স্তরের দেশেই দেখা গেছে। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য সংগৃহীত বেসরকারি মূলধন ২০২২ অর্থবছরের ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই পরিমাণ ১২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার।

নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা তুলনামূলক কঠিন হলেও সেখানে বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের মূলধন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। আফ্রিকাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মহাদেশটিতে সংগৃহীত বেসরকারি মূলধন ২০২২ অর্থবছরের প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ অর্থবছরে ২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিনিয়োগে বাধা কমাতে নতুন উদ্যোগ

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানিয়েছে, গত তিন বছরে বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজের পদ্ধতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও সহজতর প্রক্রিয়া চালু করার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত করেছে। প্রতিটি দেশে গ্রুপের সরকারি ও বেসরকারি কার্যক্রমের জন্য একক যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রয়োজন ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে সমন্বিত কৌশল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

বিনিয়োগের পথে থাকা বাস্তব বাধাগুলো চিহ্নিত করতে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ ল্যাবও কাজ করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবসা ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ উন্নয়ন, গ্যারান্টির ব্যবহার বাড়ানো, স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন সম্প্রসারণ, বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় পরিসরে যুক্ত করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।World Bank mobilizes $112 billion in private capital for developing world |  Kuwait Times Newspaper

রেকর্ড গ্যারান্টি, কর্মসংস্থানে জোর

২০২৬ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি গ্যারান্টি দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার গ্যারান্টি দেওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার চেয়ে চার বছর আগেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে সংস্থাটি। ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপ গ্যারান্টি প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন গ্যারান্টি পণ্যের জন্য গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের একক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, তিন বছর আগে শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা আরও বেশি বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ এবং বেসরকারি খাতের জন্য আরও কার্যকর অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটির কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। বিপরীতে ওই সময়ে প্রায় ৪২ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এসব অর্থনীতিতে প্রতি ১০টি চাকরির মধ্যে ৯টিই বেসরকারি খাত তৈরি করে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে অবকাঠামো ও জ্বালানি, কৃষিভিত্তিক ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজনকারী উৎপাদন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। ২০২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়ন ও সংগৃহীত মূলধনের মোট ৫৫ শতাংশ এসব কর্মসংস্থান-সৃষ্টিকারী খাতে গেছে।

আগামী দিনে আরও বেশি বিনিয়োগকারীকে উন্নয়নশীল দেশের বাজারে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনকে এসব দেশের বিনিয়োগের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে বিনিয়োগ প্যাকেজ তৈরি ও বিতরণের নতুন পদ্ধতি নিয়েও কাজ করছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি মূলধন

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের লক্ষ্য হলো আরও বেশি উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহ করে তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে কাজে লাগানো।