বলিভিয়ায় সম্প্রতি নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত হওয়া একটি ক্ষুদ্র বন্যবিড়ালকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। বিরল এই প্রাণীটি এখন দেশটির একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অপ্রত্যাশিত আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে আসছেন তাকে একনজর দেখার জন্য। তবে মানুষের এই বাড়তি আগ্রহে মোটেও স্বস্তিতে নেই ছোট্ট বন্যবিড়ালটি।
বড় বড় চিতাবাঘের মতো দাগযুক্ত এই বিড়ালটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘টিগ্রিনো’। প্রাণীটি খুব সহজেই মানসিক চাপে পড়ে যায়। এ কারণে লা পাজের কাছাকাছি সেনদা ভার্দে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কর্মীরা তাকে সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে দূরে রাখছেন এবং তার কাছে মানুষের প্রবেশও সীমিত করছেন।
রোববার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটি দল অভয়ারণ্যে গেলে টিগ্রিনো অল্প সময়ের জন্য নিজের আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে আসে। সতর্কভাবে চারপাশের বাতাস শুঁকে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করার পর আবার আশপাশের গাছপালার আড়ালে চলে যায়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, টিগ্রিনো ‘লিওপার্ডাস টিলকায়ো’ (Leopardus tilcayo) প্রজাতির সদস্য। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো জীবিত বন্যবিড়াল প্রজাতিকে বৈজ্ঞানিকভাবে নতুন প্রজাতি হিসেবে বর্ণনা করা হলো। গত বৃহস্পতিবার ‘কারেন্ট বায়োলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় নতুন প্রজাতিটির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
আকারে টিগ্রিনো একটি সাধারণ পোষা বিড়ালের চেয়েও ছোট। মাথা থেকে লেজের গোড়া পর্যন্ত তার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ ইঞ্চি বা ৪৬ সেন্টিমিটার। ওজন মাত্র প্রায় ৩ পাউন্ড বা ১ দশমিক ৪ কিলোগ্রাম।
নতুন প্রজাতি হিসেবে পরিচয় প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিগ্রিনোকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বলিভিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল তো বটেই, অন্যান্য দেশ থেকেও মানুষ তাকে দেখতে সেনদা ভার্দে অভয়ারণ্যে আসতে শুরু করেছেন।
তবে টিগ্রিনোর এই জনপ্রিয়তা একেবারেই পরিকল্পিত ছিল না। ২০১৭ সালে একটি পরিবার তাকে অভয়ারণ্যে নিয়ে আসে। তারা তাকে পোষা বিড়াল হিসেবে ঘরে পালনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু টিগ্রিনোকে গৃহপালিত করা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে রেখে যায়।
সেনদা ভার্দে অভয়ারণ্যের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্সেলো লেভি বলেন, নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই টিগ্রিনো সংরক্ষণ সচেতনতার একজন গুরুত্বপূর্ণ দূত হয়ে উঠেছে।
লেভির মতে, টিগ্রিনোকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বলিভিয়ার বন্যবিড়াল ও তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করছে।
“সে আকারে খুব ছোট একটি প্রাণী, কিন্তু তার গুরুত্ব অনেক বড়”—বলেন লেভি।
বিশেষজ্ঞদের কাছে টিগ্রিনোর আবিষ্কার শুধু একটি নতুন প্রাণী প্রজাতির সন্ধান নয়; এটি বলিভিয়ার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে এখনও কত অজানা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য লুকিয়ে থাকতে পারে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তাই টিগ্রিনোকে দেখতে মানুষের আগ্রহ যতই বাড়ুক, তার স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















