আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো কমায় ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিন তেল বিপণন কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ভারত পেট্রোলিয়ামের শেয়ারে উত্থান দেখা গেছে।
চার দিনে বিপিসিএলের শেয়ার বেড়েছে ৩ শতাংশ। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ৩০৬ দশমিক ৮০ রুপিতে লেনদেন শেষ করা শেয়ারটি ২১ সেপ্টেম্বর বেড়ে ৩১৫ দশমিক ৭৫ রুপিতে পৌঁছায়। একই সময়ে ইন্ডিয়ান অয়েলের শেয়ার ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ১৩৭ দশমিক ৭০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৩৪ দশমিক ১০ রুপি।
হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের শেয়ারও চার দিনে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। চলতি লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বোচ্চ ৩৫৯ দশমিক ৫৫ রুপিতে ওঠে। ১৭ সেপ্টেম্বর এর সমাপনী দর ছিল ৩৫০ দশমিক ৪৫ রুপি।
কেন বাড়ছে তেল কোম্পানির শেয়ার

ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম মূলত নিম্নমুখী সরবরাহ ব্যবস্থার তেল কোম্পানি। তারা অপরিশোধিত তেল কিনে তা পরিশোধনের মাধ্যমে পেট্রোল, ডিজেল, উড়োজাহাজের জ্বালানি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ও বিভিন্ন ধরনের লুব্রিকেন্টসহ নানা পণ্য তৈরি করে। পরে এসব পণ্য খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করা হয়।
অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে সাধারণত এসব কোম্পানির মুনাফার পরিসর বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। কারণ তারা যে দামে অপরিশোধিত তেল কিনছে এবং পরিশোধিত পণ্য যে দামে বিক্রি করছে—এই দুইয়ের ব্যবধানই মূলত তাদের মুনাফার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও যদি খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দাম একই হারে না কমে, তাহলে এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। বিপরীতে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও খুচরা মূল্য একই থাকলে মুনাফার ব্যবধান সংকুচিত হয়।
উচ্চ তেলের দামে বড় ক্ষতি

তবে সাম্প্রতিক সময়ে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলোর ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। ভারতের তেল মন্ত্রণালয়ের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তিন রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানির সম্মিলিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৭৮১ কোটি রুপি।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে ছিল। ফলে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য এসব কোম্পানির ব্যয় ও মুনাফার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
এখন টানা কয়েক দিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের নজর আবার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানিগুলোর দিকে ফিরেছে। তবে শেয়ারের এই উত্থানকে বিনিয়োগের পরামর্শ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি ও তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















