১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি’ আরও দীর্ঘ করতে চান শি জ্বালানির দাম বেড়েছে, এবার  বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম? ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির শেয়ারে উত্থান, টানা চার দিন কমল অপরিশোধিত তেলের দাম মেরি ক্যাসাট: ইমপ্রেশনিজমের পর যে অধ্যায়ে তৈরি হয় তাঁর সেরা শিল্পকর্ম বাণিজ্যের নতুন পথ, জলবায়ুর পুরোনো বিপদ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসায় নতুন বাস্তবতা: আর্থিক সক্ষমতার পরীক্ষায় অনিশ্চিত গ্রিন কার্ড পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন

মেরি ক্যাসাট: ইমপ্রেশনিজমের পর যে অধ্যায়ে তৈরি হয় তাঁর সেরা শিল্পকর্ম

মেরি ক্যাসাটকে ইমপ্রেশনিজমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, তাঁর শিল্পীজীবনের পরবর্তী পর্যায়েই তৈরি হয় সেইসব অনন্য কাজ, যেগুলো আজও তাঁর শিল্পীসত্তার সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচয় হয়ে আছে। শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ‘মেরি ক্যাসাট: আফটার ইমপ্রেশনিজম’ প্রদর্শনীতে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টিই তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীটি চলবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত।

শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটের বিখ্যাত সংগ্রহে এমন বহু শিল্পকর্ম রয়েছে, যেগুলো দর্শক আগে থেকেই ছবির মাধ্যমে চেনেন। এডওয়ার্ড হপারের ‘নাইটহকস’, জর্জ স্যুরার ‘আ সানডে অন লা গ্রঁদ জাট’, গ্রান্ট উডের ‘আমেরিকান গথিক’ কিংবা গুস্তাভ কাইবোটের ‘প্যারিস স্ট্রিট; রেইনি ডে’—এসব কাজ দেখতে দর্শকের আলাদা আগ্রহ থাকে। সেই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম মেরি ক্যাসাটের ‘দ্য চাইল্ডস বাথ’।

১৮৯৩ সালে আঁকা এই চিত্রকর্মটি ১৯১০ সালে আর্ট ইনস্টিটিউটের সংগ্রহে যুক্ত হয়। বর্তমানে এটি নতুন প্রদর্শনীর অন্যতম কেন্দ্রীয় আকর্ষণ। প্রদর্শনীতে ক্যাসাটের প্রায় ৮০টি চিত্রকর্ম, প্যাস্টেল, ছাপচিত্র ও অঙ্কন স্থান পেয়েছে।

মাতৃত্ব ও দৈনন্দিন জীবনের অনন্য রূপ

‘দ্য চাইল্ডস বাথ’-এ একজন নারীকে শিশুকে গোসল করাতে দেখা যায়। বিষয়টি অত্যন্ত সাধারণ হলেও ক্যাসাটের শিল্পদৃষ্টিতে সেটিই হয়ে উঠেছে অসাধারণ। প্রদর্শনীর কিউরেটর অ্যানেলিজ কে. ম্যাডসেনের মতে, পরিচিত একটি দৈনন্দিন দৃশ্যকে ক্যাসাট এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা একই সঙ্গে অসাধারণ ও দর্শকের কাছে স্বাভাবিকভাবে পরিচিত মনে হয়।

ক্যাসাটের শিল্পকর্মে মা ও শিশুর সম্পর্ক বারবার ফিরে এসেছে। কোথাও মা শিশুকে শুভরাত্রির চুমু দিচ্ছেন, কোথাও শিশুকে নিয়ে বিছানায় সকালের নাশতা করছেন, আবার কোথাও মা শিশুকে নিয়ে আপেল তুলছেন। কোনো ছবিতে পরিচারিকা দুই শিশুর পাশে বসে বুনন করছেন, কোথাও মেয়েরা সমুদ্রসৈকতে বালুর দুর্গ বানাচ্ছে।

তবে একই ধরনের বিষয় ফিরে এলেও ক্যাসাটের ছবিগুলো কখনো একঘেয়ে হয়ে ওঠেনি। প্রতিটি কাজে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, অঙ্গভঙ্গি, রং, নকশা ও তুলির ব্যবহারে ভিন্নতা তৈরি হয়েছে।

ইমপ্রেশনিজমের পর নতুন অধ্যায়

ক্যাসাট ১৮৭০ ও ১৮৮০-এর দশকে ফরাসি ইমপ্রেশনিস্টদের সঙ্গে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া অল্প কয়েকজন নারী শিল্পীর একজন এবং একমাত্র আমেরিকান ছিলেন। ১৮৮৬ সালের শেষ ইমপ্রেশনিস্ট প্রদর্শনীর পর তাঁর শিল্পীজীবন থেমে যায়নি; বরং শুরু হয় নতুন অনুসন্ধানের পর্ব।

নতুন প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য সেই সময়টিকে সামনে আনা। আশ্চর্যের বিষয়, ইমপ্রেশনিজম যখন শিল্পধারা হিসেবে ধীরে ধীরে প্রভাব হারাচ্ছিল, তখনই ক্যাসাট তাঁর সবচেয়ে পরিচিত অনেক কাজ তৈরি করেন। জীবনের পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম ও শিল্পরীতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও নারী, মা ও শিশুর সম্পর্ক এবং নারীর দৈনন্দিন জীবন তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকে।

শিকাগোর সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক

আর্ট ইনস্টিটিউট অব শিকাগোর সঙ্গে ক্যাসাটের সম্পর্কও ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯০৬ সালে তিনি জাদুঘরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট চার্লস এল. হাচিনসনকে এল গ্রেকোর ‘দ্য অ্যাসাম্পশন অব দ্য ভার্জিন’ সংগ্রহে যুক্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। চার বছর পর তাঁর নিজের ‘দ্য চাইল্ডস বাথ’ জাদুঘরের সংগ্রহে আসে।

বর্তমানে এই জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহে ক্যাসাটের ৬০টির বেশি চিত্রকর্ম, প্যাস্টেল, ছাপচিত্র ও অঙ্কন রয়েছে। জীবনের প্রায় পুরো সময় ফ্রান্সে কাটালেও শিকাগোর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল।

ক্যাসাট ১৮৮৬ সালের পরও নিজের শিল্পভাষাকে ক্রমাগত বিস্তৃত করেছেন। তবে তিনি বারবার ফিরে গেছেন সেই বিষয়গুলোর কাছে, যেগুলোতে তাঁর নিজস্ব শক্তি সবচেয়ে স্পষ্ট—মা ও শিশুর সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন জীবনে নারীর উপস্থিতি। তিনি কখনো বিয়ে করেননি বা সন্তানের মা হননি; তবু মাতৃত্ব, শৈশব ও নারীর পারস্পরিক সম্পর্ক তাঁর শিল্পের সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছে।

মেরি ক্যাসাটের পরবর্তী শিল্পজীবনের এই অধ্যায়ই নতুন প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে ইমপ্রেশনিজমের পরিচিত সীমা পেরিয়ে একজন শিল্পীর নিরন্তর পরীক্ষা, নিজস্ব বিষয়বস্তুর প্রতি আস্থা এবং শিল্পীসত্তার বিকাশের গল্প ফুটে উঠেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি’ আরও দীর্ঘ করতে চান শি

মেরি ক্যাসাট: ইমপ্রেশনিজমের পর যে অধ্যায়ে তৈরি হয় তাঁর সেরা শিল্পকর্ম

১০:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেরি ক্যাসাটকে ইমপ্রেশনিজমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, তাঁর শিল্পীজীবনের পরবর্তী পর্যায়েই তৈরি হয় সেইসব অনন্য কাজ, যেগুলো আজও তাঁর শিল্পীসত্তার সবচেয়ে শক্তিশালী পরিচয় হয়ে আছে। শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ‘মেরি ক্যাসাট: আফটার ইমপ্রেশনিজম’ প্রদর্শনীতে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টিই তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীটি চলবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত।

শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটের বিখ্যাত সংগ্রহে এমন বহু শিল্পকর্ম রয়েছে, যেগুলো দর্শক আগে থেকেই ছবির মাধ্যমে চেনেন। এডওয়ার্ড হপারের ‘নাইটহকস’, জর্জ স্যুরার ‘আ সানডে অন লা গ্রঁদ জাট’, গ্রান্ট উডের ‘আমেরিকান গথিক’ কিংবা গুস্তাভ কাইবোটের ‘প্যারিস স্ট্রিট; রেইনি ডে’—এসব কাজ দেখতে দর্শকের আলাদা আগ্রহ থাকে। সেই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম মেরি ক্যাসাটের ‘দ্য চাইল্ডস বাথ’।

১৮৯৩ সালে আঁকা এই চিত্রকর্মটি ১৯১০ সালে আর্ট ইনস্টিটিউটের সংগ্রহে যুক্ত হয়। বর্তমানে এটি নতুন প্রদর্শনীর অন্যতম কেন্দ্রীয় আকর্ষণ। প্রদর্শনীতে ক্যাসাটের প্রায় ৮০টি চিত্রকর্ম, প্যাস্টেল, ছাপচিত্র ও অঙ্কন স্থান পেয়েছে।

মাতৃত্ব ও দৈনন্দিন জীবনের অনন্য রূপ

‘দ্য চাইল্ডস বাথ’-এ একজন নারীকে শিশুকে গোসল করাতে দেখা যায়। বিষয়টি অত্যন্ত সাধারণ হলেও ক্যাসাটের শিল্পদৃষ্টিতে সেটিই হয়ে উঠেছে অসাধারণ। প্রদর্শনীর কিউরেটর অ্যানেলিজ কে. ম্যাডসেনের মতে, পরিচিত একটি দৈনন্দিন দৃশ্যকে ক্যাসাট এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা একই সঙ্গে অসাধারণ ও দর্শকের কাছে স্বাভাবিকভাবে পরিচিত মনে হয়।

ক্যাসাটের শিল্পকর্মে মা ও শিশুর সম্পর্ক বারবার ফিরে এসেছে। কোথাও মা শিশুকে শুভরাত্রির চুমু দিচ্ছেন, কোথাও শিশুকে নিয়ে বিছানায় সকালের নাশতা করছেন, আবার কোথাও মা শিশুকে নিয়ে আপেল তুলছেন। কোনো ছবিতে পরিচারিকা দুই শিশুর পাশে বসে বুনন করছেন, কোথাও মেয়েরা সমুদ্রসৈকতে বালুর দুর্গ বানাচ্ছে।

তবে একই ধরনের বিষয় ফিরে এলেও ক্যাসাটের ছবিগুলো কখনো একঘেয়ে হয়ে ওঠেনি। প্রতিটি কাজে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, অঙ্গভঙ্গি, রং, নকশা ও তুলির ব্যবহারে ভিন্নতা তৈরি হয়েছে।

ইমপ্রেশনিজমের পর নতুন অধ্যায়

ক্যাসাট ১৮৭০ ও ১৮৮০-এর দশকে ফরাসি ইমপ্রেশনিস্টদের সঙ্গে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া অল্প কয়েকজন নারী শিল্পীর একজন এবং একমাত্র আমেরিকান ছিলেন। ১৮৮৬ সালের শেষ ইমপ্রেশনিস্ট প্রদর্শনীর পর তাঁর শিল্পীজীবন থেমে যায়নি; বরং শুরু হয় নতুন অনুসন্ধানের পর্ব।

নতুন প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য সেই সময়টিকে সামনে আনা। আশ্চর্যের বিষয়, ইমপ্রেশনিজম যখন শিল্পধারা হিসেবে ধীরে ধীরে প্রভাব হারাচ্ছিল, তখনই ক্যাসাট তাঁর সবচেয়ে পরিচিত অনেক কাজ তৈরি করেন। জীবনের পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন মাধ্যম ও শিল্পরীতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও নারী, মা ও শিশুর সম্পর্ক এবং নারীর দৈনন্দিন জীবন তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকে।

শিকাগোর সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক

আর্ট ইনস্টিটিউট অব শিকাগোর সঙ্গে ক্যাসাটের সম্পর্কও ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯০৬ সালে তিনি জাদুঘরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট চার্লস এল. হাচিনসনকে এল গ্রেকোর ‘দ্য অ্যাসাম্পশন অব দ্য ভার্জিন’ সংগ্রহে যুক্ত করতে উৎসাহিত করেছিলেন। চার বছর পর তাঁর নিজের ‘দ্য চাইল্ডস বাথ’ জাদুঘরের সংগ্রহে আসে।

বর্তমানে এই জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহে ক্যাসাটের ৬০টির বেশি চিত্রকর্ম, প্যাস্টেল, ছাপচিত্র ও অঙ্কন রয়েছে। জীবনের প্রায় পুরো সময় ফ্রান্সে কাটালেও শিকাগোর এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল।

ক্যাসাট ১৮৮৬ সালের পরও নিজের শিল্পভাষাকে ক্রমাগত বিস্তৃত করেছেন। তবে তিনি বারবার ফিরে গেছেন সেই বিষয়গুলোর কাছে, যেগুলোতে তাঁর নিজস্ব শক্তি সবচেয়ে স্পষ্ট—মা ও শিশুর সম্পর্ক এবং দৈনন্দিন জীবনে নারীর উপস্থিতি। তিনি কখনো বিয়ে করেননি বা সন্তানের মা হননি; তবু মাতৃত্ব, শৈশব ও নারীর পারস্পরিক সম্পর্ক তাঁর শিল্পের সবচেয়ে স্মরণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে পরিণত হয়েছে।

মেরি ক্যাসাটের পরবর্তী শিল্পজীবনের এই অধ্যায়ই নতুন প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে—যেখানে ইমপ্রেশনিজমের পরিচিত সীমা পেরিয়ে একজন শিল্পীর নিরন্তর পরীক্ষা, নিজস্ব বিষয়বস্তুর প্রতি আস্থা এবং শিল্পীসত্তার বিকাশের গল্প ফুটে উঠেছে।