১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ দিল্লিতে পুলিশ সেজে ১৭ বছরের কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ কিশোর গ্যাং, অপ্রতীমের মৃত্যু এবং “মবস্টার ইউনূস” ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি’ আরও দীর্ঘ করতে চান শি জ্বালানির দাম বেড়েছে, এবার  বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম? ভারতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির শেয়ারে উত্থান, টানা চার দিন কমল অপরিশোধিত তেলের দাম মেরি ক্যাসাট: ইমপ্রেশনিজমের পর যে অধ্যায়ে তৈরি হয় তাঁর সেরা শিল্পকর্ম বাণিজ্যের নতুন পথ, জলবায়ুর পুরোনো বিপদ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসায় নতুন বাস্তবতা: আর্থিক সক্ষমতার পরীক্ষায় অনিশ্চিত গ্রিন কার্ড পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

জ্বালানির দাম বেড়েছে, এবার  বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম?

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর নতুন করে নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনো অধিকাংশ পণ্যের খুচরা দামে বড় পরিবর্তন দেখা না গেলেও পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়তে শুরু করায় সামনে এর প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের মতে, পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপবে।

প্রথম ধাক্কা পরিবহনে

জ্বালানির নতুন দরের প্রভাব ইতোমধ্যে গণপরিবহনে দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর চিটাগং রোড, সাইনবোর্ড, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন রুটে বাস ও লেগুনায় ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দূরপাল্লার কয়েকটি রুটেও ৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।

রাইডশেয়ারিং সেবা এবং পণ্য পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক ও পিকআপ চালকদের ক্ষেত্রেও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বাড়ার কথা জানা গেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই বেড়েছে ট্রাকভাড়া, বাড়বে পণ্যের দাম

তবে সরকারিভাবে নতুন বাসভাড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং মহানগর এলাকায় ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের সিটি বাসে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হতে পারে।

বাজারে আসতে পারে দ্বিতীয় ধাক্কা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু যাত্রী পরিবহনের খরচই বাড়ে না; কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য ও শিল্পপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ব্যয় বাড়ে। উৎপাদক বা পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিবহন খরচ যুক্ত হয়। ফলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে পণ্যের খুচরা দামে পৌঁছাতে পারে।

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে এখন পর্যন্ত জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব সীমিত। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন পরিবহন ব্যয় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পণ্যের দামে প্রতিফলিত হতে পারে। কোন পণ্যের দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।

কেন বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্যের বড় ব্যবধানের কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে লোকসানও বাড়ছিল।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি খাতে সরকারের প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় না করলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ত।

সেপ্টেম্বরে ফের বেড়েছে মূল্যস্ফীতি | কালবেলা

সরকারের হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান কমাতেই নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে একাধিক পথে পৌঁছাতে পারে। কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত ব্যয় বাড়বে, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হবে এবং উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে যদি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।

অর্থনীতিতে জ্বালানির দাম অনেকটা ভিত্তিগত ব্যয়ের মতো কাজ করে। পরিবহন থেকে কৃষি, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ—বিভিন্ন খাতের ব্যয় এর সঙ্গে যুক্ত। তাই বর্তমান বাজারে সরাসরি বড় পরিবর্তন না থাকলেও আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, বাড়তি পরিবহন ব্যয় ব্যবসায়ীরা কতটা নিজেরা বহন করবেন এবং কতটা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করবেন। একই সঙ্গে বাজার তদারকি ও পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরও নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ কতটা পড়বে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ

জ্বালানির দাম বেড়েছে, এবার  বাড়বে নিত্যপণ্যের দাম?

১০:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর নতুন করে নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনো অধিকাংশ পণ্যের খুচরা দামে বড় পরিবর্তন দেখা না গেলেও পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়তে শুরু করায় সামনে এর প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের মতে, পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়লে সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপবে।

প্রথম ধাক্কা পরিবহনে

জ্বালানির নতুন দরের প্রভাব ইতোমধ্যে গণপরিবহনে দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর চিটাগং রোড, সাইনবোর্ড, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন রুটে বাস ও লেগুনায় ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। দূরপাল্লার কয়েকটি রুটেও ৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা।

রাইডশেয়ারিং সেবা এবং পণ্য পরিবহনেও বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক ও পিকআপ চালকদের ক্ষেত্রেও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বাড়ার কথা জানা গেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই বেড়েছে ট্রাকভাড়া, বাড়বে পণ্যের দাম

তবে সরকারিভাবে নতুন বাসভাড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা এবং মহানগর এলাকায় ১৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের সিটি বাসে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হতে পারে।

বাজারে আসতে পারে দ্বিতীয় ধাক্কা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু যাত্রী পরিবহনের খরচই বাড়ে না; কৃষিপণ্য, খাদ্যপণ্য ও শিল্পপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ব্যয় বাড়ে। উৎপাদক বা পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিবহন খরচ যুক্ত হয়। ফলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে পণ্যের খুচরা দামে পৌঁছাতে পারে।

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে এখন পর্যন্ত জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব সীমিত। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন পরিবহন ব্যয় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পণ্যের দামে প্রতিফলিত হতে পারে। কোন পণ্যের দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর।

কেন বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্যের বড় ব্যবধানের কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে লোকসানও বাড়ছিল।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি খাতে সরকারের প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় না করলে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ত।

সেপ্টেম্বরে ফের বেড়েছে মূল্যস্ফীতি | কালবেলা

সরকারের হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান কমাতেই নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে একাধিক পথে পৌঁছাতে পারে। কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত ব্যয় বাড়বে, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হবে এবং উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর সঙ্গে যদি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।

অর্থনীতিতে জ্বালানির দাম অনেকটা ভিত্তিগত ব্যয়ের মতো কাজ করে। পরিবহন থেকে কৃষি, উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ—বিভিন্ন খাতের ব্যয় এর সঙ্গে যুক্ত। তাই বর্তমান বাজারে সরাসরি বড় পরিবর্তন না থাকলেও আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পরোক্ষ প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, বাড়তি পরিবহন ব্যয় ব্যবসায়ীরা কতটা নিজেরা বহন করবেন এবং কতটা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করবেন। একই সঙ্গে বাজার তদারকি ও পরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরও নির্ভর করবে সাধারণ মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ কতটা পড়বে।