জ্বালানি তেলের ওপর ধার্য কর প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামি লংমার্চ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে পাকিস্তানের এই ইসলামপন্থী দল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের ব্যক্তিগত অনুরোধের পর মুলতানে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রেহমান এই সিদ্ধান্ত জানান।
২১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া লংমার্চের কাফেলা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মুলতানে পৌঁছে যায়। এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শরীফ ফোন করে রেহমানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ফেরার পর সরাসরি বৈঠকে বসার প্রতিশ্রুতি দেন। রেহমান বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিবাদ থেকে সরে আসব না, লংমার্চ থেকেও না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে বসব, তাদের কথা শুনব এবং আমাদের যুক্তি তুলে ধরব।” পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “যদি কোনো সমাধান না আসে, তাহলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আমরা আবার এগোব।” এই জামায়াতে ইসলামি লংমার্চ সাময়িক বিরতিতে গেলেও দলটি প্রতিবাদ শিবির ও সংগঠিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি করের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভেরই প্রতিফলন, যেখানে সরকারের রাজস্ব চাহিদা আর সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই স্থগিতাদেশ প্রকৃত সমঝোতা নয়, বরং সাময়িক বিরতি, যার চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করছে সরকার আদৌ কর ছাড়ের প্রশ্নে ছাড় দেয় কিনা তার ওপর।
বাংলাদেশেও জ্বালানি তেলের দাম ও কর কাঠামো নিয়ে জনভোগান্তির অভিজ্ঞতা নতুন নয়, ফলে প্রতিবেশী পাকিস্তানের এই আন্দোলন ও সরকারের সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার কৌশল অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর জন্যও একটি তুলনামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। জামায়াতে ইসলামি লংমার্চ থামিয়ে সংলাপে বসার এই সিদ্ধান্ত রাজপথের চাপ নীতিনির্ধারণকে কতটা নাড়া দিতে পারে তার প্রথম পরীক্ষা হয়ে থাকবে, চূড়ান্ত ফল বোঝা যাবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই।
বিশ্লেষকদের মতে সরকারের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব ঘাটতি ও জনরোষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত মেনে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর চাপ থাকায় সরকারের হাতে কর ছাড় দেওয়ার সুযোগ সীমিত, অথচ রাজপথে চাপ বাড়তে থাকলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকিতে পড়ে। বিরোধী দলগুলোর একাংশ ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামির আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে আসন্ন সপ্তাহগুলোয় বৃহত্তর জোটবদ্ধ আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















