০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮ ছোট দামে বৈদ্যুতিক গাড়ির নতুন চমক, ২০২৭ সালে আসছে নিসান পিক্সো লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘স্টার ওয়ার্স’-এর মতো জাদুময় জাদুঘর, লুকাস মিউজিয়ামের স্থাপত্যে মুগ্ধতা ও বিতর্ক কুকুরের শরীরে পিসু নাকি টিক? পার্থক্য জানুন, রক্ষা করুন প্রিয় পোষ্যকে কোহাটের কাছে আফগান তালেবানের পাঠানো দুই ড্রোন ভূপাতিত: পাকিস্তান প্রাচীন দাবানল থেকেই কি মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা? আগুন ও ভূমিধসের নতুন রহস্য ঘোলা পানিতে মাছের আচরণে চমক, খাবার খুঁজতে আরও কাছাকাছি হয় দল প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটা জরুরি নয়, গতি বাড়ালেও মিলতে পারে বড় উপকার রিফর্ম ইউকে বলছে ব্রিটেন ভেঙে পড়েছে, কিন্তু বার্মিংহাম বলছে অন্য গল্প উচ্চ খরচ, কম উচ্চাকাঙ্ক্ষা—রপ্তানি বাঁচাতে পাকিস্তানের সামনে দুই দিকের লড়াই

প্রাচীন দাবানল থেকেই কি মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা? আগুন ও ভূমিধসের নতুন রহস্য

মানুষের সভ্যতার ইতিহাসে মৃৎপাত্রের আবিষ্কার ছিল এক বড় পরিবর্তনের সূচনা। খাবার সংরক্ষণ, পানি রাখা, রান্না কিংবা কৃষিজ পণ্য মজুত—সব ক্ষেত্রেই মাটির পাত্র মানুষের জীবনযাত্রাকে নতুনভাবে বদলে দিয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ধারণা মানুষ ঠিক কীভাবে পেল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন এক গবেষণা বলছে, মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা হয়তো মানুষের পরিকল্পিত কোনো আবিষ্কার হিসেবে শুরু হয়নি। বরং হাজার হাজার বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দাবানল ও তার পরের ভূমিক্ষয়ের দৃশ্য দেখে মানুষ পোড়ানো মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকতে পারে।

গবেষণাটি করেছেন জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্থ সায়েন্সেসের গবেষক আমোস ফ্রুমকিন। তাঁর প্রস্তাবিত ধারণাটিকে বলা হচ্ছে ‘প্রাকৃতিক চুল্লি তত্ত্ব’ বা ‘ন্যাচারাল কিলন হাইপোথিসিস’। এই ধারণা অনুযায়ী, মানুষ হয়তো শূন্য থেকে মৃৎপাত্র তৈরির কৌশল আবিষ্কার করেনি; বরং প্রকৃতিতে আগুনে পোড়া মাটির পরিবর্তন দেখে সেই প্রক্রিয়াকে নিজেদের কাজে অনুকরণ করেছিল।

আগুনের পর মাটিতে কী ঘটেছিল

গবেষণায় দক্ষিণ লেভান্ত অঞ্চলের সুদূর অতীতের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল প্রাচীন হ্রদের তলানির স্তর, গুহার ভেতরের জমাট পলি, কয়লার স্তর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে পাওয়া তথ্য।

গবেষণায় বিশেষভাবে দুটি সময়কালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার বছর আগের শেষ আন্তঃহিমযুগ। দ্বিতীয়টি হলো প্রায় ১১ হাজার থেকে ৭ হাজার বছর আগের প্রারম্ভিক হলোসিন যুগ—যে সময়ে কৃষিনির্ভর মানবসমাজ স্থায়ী বসতি গড়ে তুলতে শুরু করেছিল।

দুটি সময়কালেই গবেষকেরা একই ধরনের একটি প্রাকৃতিক চিত্র দেখতে পেয়েছেন—বড় মাত্রার আগুনের পর ব্যাপক ভূমিক্ষয়।

Prehistoric fires and the origin of pottery in the southern Levant

প্রাচীন হ্রদের কাদামাটির মধ্যে আটকে থাকা ক্ষুদ্র কয়লার কণা ওই সময় আগুনের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে গুহার গঠন ও খনিজ স্তরে থাকা রাসায়নিক চিহ্ন থেকে বোঝা যায়, ওই সময় বিস্তীর্ণ এলাকার উদ্ভিদ ও মাটির ওপরও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল।

উদ্ভিদ পুড়ে গেলে শুরু হয় ভূমিক্ষয়

প্রারম্ভিক হলোসিনে সবচেয়ে তীব্র আগুনের সময়কাল ছিল আনুমানিক ৯ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার ২০০ বছর আগে। ওই সময়ের মানুষ আগুন ব্যবহার করত, কিন্তু গবেষক ফ্রুমকিনের মতে, এত ব্যাপক মাত্রার আগুন শুধু মানুষের ছোটখাটো আগুন বা বসতি ঘিরে আগুনের কারণে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তাঁর ধারণা, জলবায়ুগত পরিস্থিতি এই বড় ধরনের আগুনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কোনো পাহাড় বা ঢালের গাছপালা পুড়ে গেলে মাটিকে ধরে রাখার মতো শিকড় ও উদ্ভিদস্তর আর থাকে না। এরপর ভারী বৃষ্টি হলে পানি সহজেই মাটি ধুয়ে নিচের দিকে নিয়ে যায়। এভাবেই আগুনের পর শুরু হতে পারে ব্যাপক ভূমিক্ষয়।

এই প্রক্রিয়ায় পাহাড়ি এলাকা থেকে মাটির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদামাটিও নিচু এলাকায় জমা হতে থাকে।

উর্বর মাটির নতুন স্তর

দক্ষিণ লেভান্তের কিছু এলাকায় এইভাবে ক্ষয়ে আসা লালচে কাদামাটি বা ‘টেরা রোসা’ নিচু ভূমিতে জমা হয়েছিল। জর্ডান উপত্যকা ও মৃত সাগরের আশপাশের এলাকাতেও এমন পলি জমার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রকৃতির জন্য এটি ছিল এক ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া—উদ্ভিদ হারানো, মাটির ক্ষয় এবং পাহাড়ি ভূমির পরিবর্তন। কিন্তু মানুষের জন্য এর আরেকটি অপ্রত্যাশিত ফল তৈরি হয়েছিল।

পাহাড় থেকে নেমে আসা এই মাটি নিচু এলাকায় জমে তৈরি করেছিল তুলনামূলকভাবে উর্বর কৃষিজমি। ফলে কৃষিনির্ভর নিওলিথিক বা নবপ্রস্তর যুগের মানুষের বসতিও এসব নতুন জমির আশপাশে গড়ে উঠতে শুরু করে।

আর এখানেই গবেষকের তত্ত্বটি মৃৎপাত্রের উৎপত্তির সঙ্গে যুক্ত হয়।

Ancient hunter-gatherers were potters, too | Science | AAAS

প্রকৃতির ‘চুল্লি’ থেকে মানুষের শিক্ষা?

সাধারণ কাদামাটি শুকিয়ে গেলে আবার পানি পেলে নরম হয়ে যায়। কিন্তু যথেষ্ট তাপে পোড়ানো হলে কাদামাটির গঠন স্থায়ীভাবে বদলে যায় এবং সেটি আর আগের মতো নরম মাটিতে পরিণত হয় না।

ফ্রুমকিনের ‘প্রাকৃতিক চুল্লি তত্ত্ব’ অনুযায়ী, প্রাচীন মানুষ হয়তো এমন পোড়া মাটি প্রকৃতিতেই দেখেছিল। বড় আগুনে কোনো এলাকায় মাটি উত্তপ্ত হওয়ার পর তার কঠিন ও স্থায়ী হয়ে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য তাদের নজরে পড়ে থাকতে পারে।

এরপর সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজে লাগানোর ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ প্রথমে প্রকৃতির আগুন, তারপর পোড়া মাটির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের নিজস্ব আগুনে মাটি পোড়ানোর প্রযুক্তি—এমন একটি ধারাবাহিকতা থেকেই মৃৎপাত্র তৈরির ধারণার জন্ম হতে পারে।

অবশ্য গবেষণাটি সরাসরি প্রমাণ করছে না যে মৃৎপাত্রের আবিষ্কার নিশ্চিতভাবেই দাবানল থেকে এসেছে। বরং প্রাকৃতিক পরিবেশ, আগুন, ভূমিক্ষয়, কাদামাটির জমা হওয়া এবং নিওলিথিক মানুষের বসতি—এই বিভিন্ন প্রমাণকে একসঙ্গে রেখে একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এই ধারণা মানবসভ্যতার প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে দেখার একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। মানুষের অনেক বড় আবিষ্কার হয়তো সবসময় হঠাৎ করে মাথায় আসেনি। কখনো কখনো প্রকৃতিতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করতে করতে মানুষ তার বৈশিষ্ট্য বুঝেছে এবং পরে সেটিকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে শিখেছে।

মৃৎপাত্রের ক্ষেত্রে সেই গল্পের শুরু যদি সত্যিই প্রাচীন দাবানলের পোড়া মাটি থেকে হয়ে থাকে, তাহলে মানবসভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির পেছনে প্রকৃতির একটি ভয়াবহ ঘটনাই হয়তো নীরবে কাজ করেছিল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা, নিহত ৮

প্রাচীন দাবানল থেকেই কি মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা? আগুন ও ভূমিধসের নতুন রহস্য

০২:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানুষের সভ্যতার ইতিহাসে মৃৎপাত্রের আবিষ্কার ছিল এক বড় পরিবর্তনের সূচনা। খাবার সংরক্ষণ, পানি রাখা, রান্না কিংবা কৃষিজ পণ্য মজুত—সব ক্ষেত্রেই মাটির পাত্র মানুষের জীবনযাত্রাকে নতুনভাবে বদলে দিয়েছিল। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের ধারণা মানুষ ঠিক কীভাবে পেল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

নতুন এক গবেষণা বলছে, মৃৎপাত্র তৈরির ধারণা হয়তো মানুষের পরিকল্পিত কোনো আবিষ্কার হিসেবে শুরু হয়নি। বরং হাজার হাজার বছর আগে প্রাকৃতিকভাবে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দাবানল ও তার পরের ভূমিক্ষয়ের দৃশ্য দেখে মানুষ পোড়ানো মাটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকতে পারে।

গবেষণাটি করেছেন জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্থ সায়েন্সেসের গবেষক আমোস ফ্রুমকিন। তাঁর প্রস্তাবিত ধারণাটিকে বলা হচ্ছে ‘প্রাকৃতিক চুল্লি তত্ত্ব’ বা ‘ন্যাচারাল কিলন হাইপোথিসিস’। এই ধারণা অনুযায়ী, মানুষ হয়তো শূন্য থেকে মৃৎপাত্র তৈরির কৌশল আবিষ্কার করেনি; বরং প্রকৃতিতে আগুনে পোড়া মাটির পরিবর্তন দেখে সেই প্রক্রিয়াকে নিজেদের কাজে অনুকরণ করেছিল।

আগুনের পর মাটিতে কী ঘটেছিল

গবেষণায় দক্ষিণ লেভান্ত অঞ্চলের সুদূর অতীতের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল প্রাচীন হ্রদের তলানির স্তর, গুহার ভেতরের জমাট পলি, কয়লার স্তর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক খনন থেকে পাওয়া তথ্য।

গবেষণায় বিশেষভাবে দুটি সময়কালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার বছর আগের শেষ আন্তঃহিমযুগ। দ্বিতীয়টি হলো প্রায় ১১ হাজার থেকে ৭ হাজার বছর আগের প্রারম্ভিক হলোসিন যুগ—যে সময়ে কৃষিনির্ভর মানবসমাজ স্থায়ী বসতি গড়ে তুলতে শুরু করেছিল।

দুটি সময়কালেই গবেষকেরা একই ধরনের একটি প্রাকৃতিক চিত্র দেখতে পেয়েছেন—বড় মাত্রার আগুনের পর ব্যাপক ভূমিক্ষয়।

Prehistoric fires and the origin of pottery in the southern Levant

প্রাচীন হ্রদের কাদামাটির মধ্যে আটকে থাকা ক্ষুদ্র কয়লার কণা ওই সময় আগুনের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ দেয়। অন্যদিকে গুহার গঠন ও খনিজ স্তরে থাকা রাসায়নিক চিহ্ন থেকে বোঝা যায়, ওই সময় বিস্তীর্ণ এলাকার উদ্ভিদ ও মাটির ওপরও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল।

উদ্ভিদ পুড়ে গেলে শুরু হয় ভূমিক্ষয়

প্রারম্ভিক হলোসিনে সবচেয়ে তীব্র আগুনের সময়কাল ছিল আনুমানিক ৯ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার ২০০ বছর আগে। ওই সময়ের মানুষ আগুন ব্যবহার করত, কিন্তু গবেষক ফ্রুমকিনের মতে, এত ব্যাপক মাত্রার আগুন শুধু মানুষের ছোটখাটো আগুন বা বসতি ঘিরে আগুনের কারণে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তাঁর ধারণা, জলবায়ুগত পরিস্থিতি এই বড় ধরনের আগুনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কোনো পাহাড় বা ঢালের গাছপালা পুড়ে গেলে মাটিকে ধরে রাখার মতো শিকড় ও উদ্ভিদস্তর আর থাকে না। এরপর ভারী বৃষ্টি হলে পানি সহজেই মাটি ধুয়ে নিচের দিকে নিয়ে যায়। এভাবেই আগুনের পর শুরু হতে পারে ব্যাপক ভূমিক্ষয়।

এই প্রক্রিয়ায় পাহাড়ি এলাকা থেকে মাটির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদামাটিও নিচু এলাকায় জমা হতে থাকে।

উর্বর মাটির নতুন স্তর

দক্ষিণ লেভান্তের কিছু এলাকায় এইভাবে ক্ষয়ে আসা লালচে কাদামাটি বা ‘টেরা রোসা’ নিচু ভূমিতে জমা হয়েছিল। জর্ডান উপত্যকা ও মৃত সাগরের আশপাশের এলাকাতেও এমন পলি জমার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রকৃতির জন্য এটি ছিল এক ধরনের ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া—উদ্ভিদ হারানো, মাটির ক্ষয় এবং পাহাড়ি ভূমির পরিবর্তন। কিন্তু মানুষের জন্য এর আরেকটি অপ্রত্যাশিত ফল তৈরি হয়েছিল।

পাহাড় থেকে নেমে আসা এই মাটি নিচু এলাকায় জমে তৈরি করেছিল তুলনামূলকভাবে উর্বর কৃষিজমি। ফলে কৃষিনির্ভর নিওলিথিক বা নবপ্রস্তর যুগের মানুষের বসতিও এসব নতুন জমির আশপাশে গড়ে উঠতে শুরু করে।

আর এখানেই গবেষকের তত্ত্বটি মৃৎপাত্রের উৎপত্তির সঙ্গে যুক্ত হয়।

Ancient hunter-gatherers were potters, too | Science | AAAS

প্রকৃতির ‘চুল্লি’ থেকে মানুষের শিক্ষা?

সাধারণ কাদামাটি শুকিয়ে গেলে আবার পানি পেলে নরম হয়ে যায়। কিন্তু যথেষ্ট তাপে পোড়ানো হলে কাদামাটির গঠন স্থায়ীভাবে বদলে যায় এবং সেটি আর আগের মতো নরম মাটিতে পরিণত হয় না।

ফ্রুমকিনের ‘প্রাকৃতিক চুল্লি তত্ত্ব’ অনুযায়ী, প্রাচীন মানুষ হয়তো এমন পোড়া মাটি প্রকৃতিতেই দেখেছিল। বড় আগুনে কোনো এলাকায় মাটি উত্তপ্ত হওয়ার পর তার কঠিন ও স্থায়ী হয়ে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য তাদের নজরে পড়ে থাকতে পারে।

এরপর সেই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রিতভাবে কাজে লাগানোর ধারণা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ প্রথমে প্রকৃতির আগুন, তারপর পোড়া মাটির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের নিজস্ব আগুনে মাটি পোড়ানোর প্রযুক্তি—এমন একটি ধারাবাহিকতা থেকেই মৃৎপাত্র তৈরির ধারণার জন্ম হতে পারে।

অবশ্য গবেষণাটি সরাসরি প্রমাণ করছে না যে মৃৎপাত্রের আবিষ্কার নিশ্চিতভাবেই দাবানল থেকে এসেছে। বরং প্রাকৃতিক পরিবেশ, আগুন, ভূমিক্ষয়, কাদামাটির জমা হওয়া এবং নিওলিথিক মানুষের বসতি—এই বিভিন্ন প্রমাণকে একসঙ্গে রেখে একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এই ধারণা মানবসভ্যতার প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে দেখার একটি আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। মানুষের অনেক বড় আবিষ্কার হয়তো সবসময় হঠাৎ করে মাথায় আসেনি। কখনো কখনো প্রকৃতিতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করতে করতে মানুষ তার বৈশিষ্ট্য বুঝেছে এবং পরে সেটিকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে শিখেছে।

মৃৎপাত্রের ক্ষেত্রে সেই গল্পের শুরু যদি সত্যিই প্রাচীন দাবানলের পোড়া মাটি থেকে হয়ে থাকে, তাহলে মানবসভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির পেছনে প্রকৃতির একটি ভয়াবহ ঘটনাই হয়তো নীরবে কাজ করেছিল।