চট্টগ্রাম নগরের লাভলেইন মোড়ে একটি পিকআপের গতিরোধ করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের সিগারেট লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পিকআপের চালক ও হেলপারকে মারধর করে আহত করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। ২০ সেপ্টেম্বর করা মামলাটির নম্বর ৩৫। মামলায় চট্টগ্রাম মেট্রো-ম-১১-১১-০০৫ নম্বরের পিকআপটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরের কাজীর দেউড়ির এসএ পরিবহন থেকে প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট নিয়ে রিয়াজউদ্দিন বাজারের উদ্দেশে রওনা হয় পিকআপটি। এতে চালক মো. আনোয়ার হোসেন ও হেলপার মো. জাহিদ ছিলেন।
দুপুর দেড়টার দিকে পিকআপটি লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রোল পাম্পের পূর্ব পাশে পৌঁছালে কয়েক ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তারা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে চালক ও হেলপারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক আনোয়ার হোসেনকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে হেলপার জাহিদকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার নাকে গুরুতর জখম হয় বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
পরে হামলাকারীরা পিকআপে থাকা প্রায় ৭৮ মাস্টার কেস সিগারেট নামিয়ে একটি অজ্ঞাতনামা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় লুট হওয়া সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
চালক ও হেলপারের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আহত চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে লুট হওয়া সিগারেট এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজ করা হলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম।
মামলায় আসামি করা হয়েছে মো. হৃদয়, শুক্কুর, নয়ন, ফরহাদ, শফি আলম, আদি ও আফসারকে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই করে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কার্যক্রম চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















