০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
তিমি শিকারের দীর্ঘ ছায়া: বয়স্ক পুরুষ তিমিরা এখন প্রজনন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বাজি: বিগ টেকের তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিযোগিতা এআই যুগকে নতুন রূপ দিচ্ছে নেটফ্লিক্সে আসছে কোরিয়ান গুপ্তচর থ্রিলার ‘হিউমিন্ট’, সঙ্গে বিটিএস ডকুমেন্টারি প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ৩০ কোটি ডলার ছাড়াল: ২০২৬-এর প্রথম সত্যিকারের ব্লকবাস্টার পেল হলিউড লুসাকায় আধা টন হাতির দাঁত জব্দ: জাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক হাতির দাঁত পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৪৭)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪
  • 125

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


প্রথম প্রক্রিয়ায় গ্যাঁজানো অর্থাৎ গ্যাঁজানো ভাল হলে তার রং হবে হাল্কা নীল, আঙ্গুলের চাপে সহজেই ভেঙে যাবে। অন্যদিকে অধিক গ্যাজানো হলে রং হবে কালচে, শক্ত মতন, আর এগুলো আঙ্গুলের চাপে ভাঙতে মুশকিল। এ কথা সত্যি যে দ্বিতীয় শ্রেণীর নীল বাজারে মেলে বেশি। এগুলো দামেও কম, বিক্রীও কম। লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকে কড়া করে গ্যাঁজায় কেননা নীল গাছ অত্যধিক গ্যাজালে তা থেকে এক ধরনের রস বের হয় যা লেগে থাকে নীলের গায়ে আর তাতে ওজন বাড়ে নীলের। বঙ্গদেশের নীলকররা একটা জিনিস লক্ষ্য করেছে যে জুন ও জুলাই মাসের চেয়ে আগষ্টে ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্যাঁজানের সময় লাগে বেশি, যদিও গরম বেশি জুন জুলাই মাসে।

পেটানো

ঢালু জলাধারে গ্যাঁজানোর প্রথম পর্ব সমাধা হলেই জলাধারের ছিপি খুলে দিয়ে পানি নেওয়া হয় এর পেছনের জলাধারে যার নাম পেটাই চৌবাচ্চা। এই চৌবাচ্চার দেয়াল প্রথম চৌবাচ্চা থেকে দু’ফিট উচু। কেননা, পেটানোর কাজ করতে গেলে চৌবাচ্চার পানির মধ্যে ঢেউ ওঠে ও পানি উপচিয়ে পড়ে। উপচানো পানি যাতে চৌবাচ্চার বাইরে না যায় তাই এটার দেয়াল উঁচু রাখা হয়।

 

ভুনা কুলি

পেটানোর কাজ শুরু হলে প্রায় চার ফুট উঁচু পেটাই দন্ড হাতে নিয়ে বারো চৌদ্দ জন লোক দাঁড়িয়ে যায়। এরা পানির মধ্যে দাড়িয়ে হাতের দন্ড দিয়ে ভেজা নরম নীল গাছগুলো পেটাতে হয়। প্রায় দুই আড়াই ঘণ্টা এরকম পেটানোর পর পানির রং বদলাতে থাকে। প্রথমে সেগুলো সবুজ থেকে ক্রমশঃ কালো রং ধারণ করতে থাকে। এই অবস্থায় পৌঁছুলেই বুঝতে হবে এবার নীল দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দানা বাঁধতে শুরু করলেই পেটানো বন্ধ করতে হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তিমি শিকারের দীর্ঘ ছায়া: বয়স্ক পুরুষ তিমিরা এখন প্রজনন প্রতিযোগিতায় এগিয়ে

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৪৭)

১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


প্রথম প্রক্রিয়ায় গ্যাঁজানো অর্থাৎ গ্যাঁজানো ভাল হলে তার রং হবে হাল্কা নীল, আঙ্গুলের চাপে সহজেই ভেঙে যাবে। অন্যদিকে অধিক গ্যাজানো হলে রং হবে কালচে, শক্ত মতন, আর এগুলো আঙ্গুলের চাপে ভাঙতে মুশকিল। এ কথা সত্যি যে দ্বিতীয় শ্রেণীর নীল বাজারে মেলে বেশি। এগুলো দামেও কম, বিক্রীও কম। লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকে কড়া করে গ্যাঁজায় কেননা নীল গাছ অত্যধিক গ্যাজালে তা থেকে এক ধরনের রস বের হয় যা লেগে থাকে নীলের গায়ে আর তাতে ওজন বাড়ে নীলের। বঙ্গদেশের নীলকররা একটা জিনিস লক্ষ্য করেছে যে জুন ও জুলাই মাসের চেয়ে আগষ্টে ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্যাঁজানের সময় লাগে বেশি, যদিও গরম বেশি জুন জুলাই মাসে।

পেটানো

ঢালু জলাধারে গ্যাঁজানোর প্রথম পর্ব সমাধা হলেই জলাধারের ছিপি খুলে দিয়ে পানি নেওয়া হয় এর পেছনের জলাধারে যার নাম পেটাই চৌবাচ্চা। এই চৌবাচ্চার দেয়াল প্রথম চৌবাচ্চা থেকে দু’ফিট উচু। কেননা, পেটানোর কাজ করতে গেলে চৌবাচ্চার পানির মধ্যে ঢেউ ওঠে ও পানি উপচিয়ে পড়ে। উপচানো পানি যাতে চৌবাচ্চার বাইরে না যায় তাই এটার দেয়াল উঁচু রাখা হয়।

 

ভুনা কুলি

পেটানোর কাজ শুরু হলে প্রায় চার ফুট উঁচু পেটাই দন্ড হাতে নিয়ে বারো চৌদ্দ জন লোক দাঁড়িয়ে যায়। এরা পানির মধ্যে দাড়িয়ে হাতের দন্ড দিয়ে ভেজা নরম নীল গাছগুলো পেটাতে হয়। প্রায় দুই আড়াই ঘণ্টা এরকম পেটানোর পর পানির রং বদলাতে থাকে। প্রথমে সেগুলো সবুজ থেকে ক্রমশঃ কালো রং ধারণ করতে থাকে। এই অবস্থায় পৌঁছুলেই বুঝতে হবে এবার নীল দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দানা বাঁধতে শুরু করলেই পেটানো বন্ধ করতে হবে।