০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল ‘আংটি আছে তো আসুন, না থাকলে একাই আসুন’—টেলর-ট্রাভিসের বিয়ের নিয়মে চাঞ্চল্য ঘুমের সমস্যায় স্বস্তি দিচ্ছে ভারী কম্বল, বাড়ছে জনপ্রিয়তা

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৪৭)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪
  • 151

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


প্রথম প্রক্রিয়ায় গ্যাঁজানো অর্থাৎ গ্যাঁজানো ভাল হলে তার রং হবে হাল্কা নীল, আঙ্গুলের চাপে সহজেই ভেঙে যাবে। অন্যদিকে অধিক গ্যাজানো হলে রং হবে কালচে, শক্ত মতন, আর এগুলো আঙ্গুলের চাপে ভাঙতে মুশকিল। এ কথা সত্যি যে দ্বিতীয় শ্রেণীর নীল বাজারে মেলে বেশি। এগুলো দামেও কম, বিক্রীও কম। লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকে কড়া করে গ্যাঁজায় কেননা নীল গাছ অত্যধিক গ্যাজালে তা থেকে এক ধরনের রস বের হয় যা লেগে থাকে নীলের গায়ে আর তাতে ওজন বাড়ে নীলের। বঙ্গদেশের নীলকররা একটা জিনিস লক্ষ্য করেছে যে জুন ও জুলাই মাসের চেয়ে আগষ্টে ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্যাঁজানের সময় লাগে বেশি, যদিও গরম বেশি জুন জুলাই মাসে।

পেটানো

ঢালু জলাধারে গ্যাঁজানোর প্রথম পর্ব সমাধা হলেই জলাধারের ছিপি খুলে দিয়ে পানি নেওয়া হয় এর পেছনের জলাধারে যার নাম পেটাই চৌবাচ্চা। এই চৌবাচ্চার দেয়াল প্রথম চৌবাচ্চা থেকে দু’ফিট উচু। কেননা, পেটানোর কাজ করতে গেলে চৌবাচ্চার পানির মধ্যে ঢেউ ওঠে ও পানি উপচিয়ে পড়ে। উপচানো পানি যাতে চৌবাচ্চার বাইরে না যায় তাই এটার দেয়াল উঁচু রাখা হয়।

 

ভুনা কুলি

পেটানোর কাজ শুরু হলে প্রায় চার ফুট উঁচু পেটাই দন্ড হাতে নিয়ে বারো চৌদ্দ জন লোক দাঁড়িয়ে যায়। এরা পানির মধ্যে দাড়িয়ে হাতের দন্ড দিয়ে ভেজা নরম নীল গাছগুলো পেটাতে হয়। প্রায় দুই আড়াই ঘণ্টা এরকম পেটানোর পর পানির রং বদলাতে থাকে। প্রথমে সেগুলো সবুজ থেকে ক্রমশঃ কালো রং ধারণ করতে থাকে। এই অবস্থায় পৌঁছুলেই বুঝতে হবে এবার নীল দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দানা বাঁধতে শুরু করলেই পেটানো বন্ধ করতে হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৪৭)

১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


প্রথম প্রক্রিয়ায় গ্যাঁজানো অর্থাৎ গ্যাঁজানো ভাল হলে তার রং হবে হাল্কা নীল, আঙ্গুলের চাপে সহজেই ভেঙে যাবে। অন্যদিকে অধিক গ্যাজানো হলে রং হবে কালচে, শক্ত মতন, আর এগুলো আঙ্গুলের চাপে ভাঙতে মুশকিল। এ কথা সত্যি যে দ্বিতীয় শ্রেণীর নীল বাজারে মেলে বেশি। এগুলো দামেও কম, বিক্রীও কম। লোভের বশবর্তী হয়ে অনেকে কড়া করে গ্যাঁজায় কেননা নীল গাছ অত্যধিক গ্যাজালে তা থেকে এক ধরনের রস বের হয় যা লেগে থাকে নীলের গায়ে আর তাতে ওজন বাড়ে নীলের। বঙ্গদেশের নীলকররা একটা জিনিস লক্ষ্য করেছে যে জুন ও জুলাই মাসের চেয়ে আগষ্টে ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্যাঁজানের সময় লাগে বেশি, যদিও গরম বেশি জুন জুলাই মাসে।

পেটানো

ঢালু জলাধারে গ্যাঁজানোর প্রথম পর্ব সমাধা হলেই জলাধারের ছিপি খুলে দিয়ে পানি নেওয়া হয় এর পেছনের জলাধারে যার নাম পেটাই চৌবাচ্চা। এই চৌবাচ্চার দেয়াল প্রথম চৌবাচ্চা থেকে দু’ফিট উচু। কেননা, পেটানোর কাজ করতে গেলে চৌবাচ্চার পানির মধ্যে ঢেউ ওঠে ও পানি উপচিয়ে পড়ে। উপচানো পানি যাতে চৌবাচ্চার বাইরে না যায় তাই এটার দেয়াল উঁচু রাখা হয়।

 

ভুনা কুলি

পেটানোর কাজ শুরু হলে প্রায় চার ফুট উঁচু পেটাই দন্ড হাতে নিয়ে বারো চৌদ্দ জন লোক দাঁড়িয়ে যায়। এরা পানির মধ্যে দাড়িয়ে হাতের দন্ড দিয়ে ভেজা নরম নীল গাছগুলো পেটাতে হয়। প্রায় দুই আড়াই ঘণ্টা এরকম পেটানোর পর পানির রং বদলাতে থাকে। প্রথমে সেগুলো সবুজ থেকে ক্রমশঃ কালো রং ধারণ করতে থাকে। এই অবস্থায় পৌঁছুলেই বুঝতে হবে এবার নীল দানা বাঁধতে শুরু করেছে। দানা বাঁধতে শুরু করলেই পেটানো বন্ধ করতে হবে।