০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
কয়লাখনি অঞ্চলে বিস্ফোরণ, বেকারত্ব ও ক্ষোভ—ভোটের আগে চাপে পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ মধ্যযুগের স্বাস্থ্য রহস্য: নোংরা ও রোগের যুগেও কীভাবে সুস্থ থাকতেন মানুষ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: ১৭ লাখ শ্রমিকের ঐক্য, তবু কেন পরাজয়ের ইতিহাস ড্রোন যুদ্ধের সূচনা: ১৮৪৯ সালের ভেনিস অবরোধ থেকে আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ প্লাস্টিকের আবিষ্কার: ১৯শ শতকের পরীক্ষাগার থেকে ২০শ শতকের বিপ্লব রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়: সাম্রাজ্যের পতন থেকে আধুনিক ব্রিটেন—৭০ বছরের ইতিহাসে এক অটল নেতৃত্ব দাসত্বের অন্ধকার ভেঙে স্বাধীনতার কণ্ঠ: ফ্রেডেরিক ডগলাস ও আমেরিকার অসম স্বাধীনতার গল্প প্রাচীন রোমে ‘কাল্ট’ সংস্কৃতি থেকে খ্রিস্টধর্মের উত্থান: কীভাবে বদলে গেল ধর্মীয় মানচিত্র মধ্যযুগে নোংরা নয়, পরিকল্পিত ছিল টয়লেট ব্যবস্থা—ইউরোপের অজানা পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-২০)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 139

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

তারা এই মেলায় বিক্রয়ের জন্য সারা বছর ধরে নৌকা তৈর করত। মাল পরিবহণের জন্য সওদাগরী নৌকার নাম ভড়, মালঙ্গী নৌকা, কিস্তি। যাত্রীবাহী নৌকাতে ছই বা আচ্ছাদন -এর ব্যবস্থা থাকত। নৌকায় পাল খাটানো হত বাতাসের সাহায্যে দ্রুত যাতায়াতের জন্য। দক্ষ মাঝিরা বড় বড় নৌকায় একাধিক পাল খাটিয়ে বাতাসের সাহায্যে নৌকা দ্রুত চালাতে পারত। এ-ছাড়া স্রোতের বিপরীত-এ যাবার জন্য নৌকার মাঝখানে একটি খুঁটি রাখত এবং খুঁটির মাথায় খুব লম্বা দড়ি বেঁধে তীর দিয়ে এ দড়ি টেনে নিয়ে যেত-একে গুণ টানা বলা হত। জোয়ার বা ভাটার অনুকূলে দ্রুত যাবার জন্য মাঝিরা জল-বাদামের সাহায্য নিত। নৌকার পিছনে একটা তক্তা এমনভাবে নামিয়ে দেওয়া হত যাতে নদীর জল বেঁধে নৌকাটাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

ইংরেজ রাজত্বের শুরুতে আমাদের প্রাচীন নৌশিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা হল। ১৪-১-১৭৮৯ তারিখে সরকারের রাজস্ব বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তি মারফৎ জানিয়ে দেওয়া হল, ১লা মার্চ ৮৯ এর পরে নিম্নলিখিত মাপের বড় নৌকা তৈরি করা যাবে না।

Luckas 4090 cubits Length

2.504 cubits bredth

Jelkias 30 70 cubits Length

3.505 cubits bredth

এর সঙ্গে দশ দাঁড়যুক্ত চাঁদপুর পানসী নৌকা তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। যশোর নদীয়া ২৪ পরগণা বরিশাল প্রভৃতি এলাকার জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হল এ ব্যাপারে নজর রাখার জন্য এবং এই মাপের যেসব নৌকা আছে তা বাজেয়াপ্ত করার জন্য। বিনা অনুমতিতে এ ধরনের নৌকা মেরামত করলে কারিগরদের একমাসের জেল এবং ২০ ঘা বেত্রাঘাতের ব্যবস্থা করা হল।(১০)

সে যুগে নদীপথে গোয়ালন্দ থেকে আড়িয়াল-খাঁ পশর শিবসা হরিণভাঙা রায়মঙ্গল গোসাবা মাতলা জামিরা ঠাকরুন সপ্তমুখী দিয়ে পশ্চিমে সাগরদ্বীপের নিকটে বড়তলা নদী দিয়ে মার্ডপয়েন্টে এসে পূর্ব বাংলা আগত নৌকাগুলি হুগলি নদীতে প্রবেশ করত। এ পথ বর্তমানে আন্তর্জাতিক নদীপথ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আসাম স্টীম নেভিগেশন কোম্পানি বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে এ পুথে আসাম পূর্ব বাংলার মাল পরিবহনণ করে এসেছে। ভারী নৌকা ও স্টীমার এ পথে যাতায়াত করত কিন্তু সাধারণ নৌকা যাত্রী নিয়ে এ পথে চলত না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কয়লাখনি অঞ্চলে বিস্ফোরণ, বেকারত্ব ও ক্ষোভ—ভোটের আগে চাপে পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-২০)

০৪:০০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

তারা এই মেলায় বিক্রয়ের জন্য সারা বছর ধরে নৌকা তৈর করত। মাল পরিবহণের জন্য সওদাগরী নৌকার নাম ভড়, মালঙ্গী নৌকা, কিস্তি। যাত্রীবাহী নৌকাতে ছই বা আচ্ছাদন -এর ব্যবস্থা থাকত। নৌকায় পাল খাটানো হত বাতাসের সাহায্যে দ্রুত যাতায়াতের জন্য। দক্ষ মাঝিরা বড় বড় নৌকায় একাধিক পাল খাটিয়ে বাতাসের সাহায্যে নৌকা দ্রুত চালাতে পারত। এ-ছাড়া স্রোতের বিপরীত-এ যাবার জন্য নৌকার মাঝখানে একটি খুঁটি রাখত এবং খুঁটির মাথায় খুব লম্বা দড়ি বেঁধে তীর দিয়ে এ দড়ি টেনে নিয়ে যেত-একে গুণ টানা বলা হত। জোয়ার বা ভাটার অনুকূলে দ্রুত যাবার জন্য মাঝিরা জল-বাদামের সাহায্য নিত। নৌকার পিছনে একটা তক্তা এমনভাবে নামিয়ে দেওয়া হত যাতে নদীর জল বেঁধে নৌকাটাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

ইংরেজ রাজত্বের শুরুতে আমাদের প্রাচীন নৌশিল্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা হল। ১৪-১-১৭৮৯ তারিখে সরকারের রাজস্ব বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তি মারফৎ জানিয়ে দেওয়া হল, ১লা মার্চ ৮৯ এর পরে নিম্নলিখিত মাপের বড় নৌকা তৈরি করা যাবে না।

Luckas 4090 cubits Length

2.504 cubits bredth

Jelkias 30 70 cubits Length

3.505 cubits bredth

এর সঙ্গে দশ দাঁড়যুক্ত চাঁদপুর পানসী নৌকা তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। যশোর নদীয়া ২৪ পরগণা বরিশাল প্রভৃতি এলাকার জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হল এ ব্যাপারে নজর রাখার জন্য এবং এই মাপের যেসব নৌকা আছে তা বাজেয়াপ্ত করার জন্য। বিনা অনুমতিতে এ ধরনের নৌকা মেরামত করলে কারিগরদের একমাসের জেল এবং ২০ ঘা বেত্রাঘাতের ব্যবস্থা করা হল।(১০)

সে যুগে নদীপথে গোয়ালন্দ থেকে আড়িয়াল-খাঁ পশর শিবসা হরিণভাঙা রায়মঙ্গল গোসাবা মাতলা জামিরা ঠাকরুন সপ্তমুখী দিয়ে পশ্চিমে সাগরদ্বীপের নিকটে বড়তলা নদী দিয়ে মার্ডপয়েন্টে এসে পূর্ব বাংলা আগত নৌকাগুলি হুগলি নদীতে প্রবেশ করত। এ পথ বর্তমানে আন্তর্জাতিক নদীপথ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আসাম স্টীম নেভিগেশন কোম্পানি বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে এ পুথে আসাম পূর্ব বাংলার মাল পরিবহনণ করে এসেছে। ভারী নৌকা ও স্টীমার এ পথে যাতায়াত করত কিন্তু সাধারণ নৌকা যাত্রী নিয়ে এ পথে চলত না।