০৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু  বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত: নতুন কমিশন গঠন করবে সরকার ঢাকা চায় সম্মানজনক সমাধান ও সকলের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক উচ্চ সুদ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, জ্বালানি সংকট অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতি’: ডিসিসিআই সভাপতি জরুরি ভিত্তিতে ২৭০১ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ জুড়ে সমস্ত পরিত্যক্ত টিউবওয়েল শাফট বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের চীনের বসন্ত উৎসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চশমার চাহিদা বৃদ্ধিতে বিক্রির উল্লম্ফন জাকাত দাতারা সরাসরি আইসিডিডিআর,বি’র দরিদ্র রোগীদের সহায়তা করতে পারবেন

দ্বারকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু: নিয়ম ভাঙা, অবকাঠামো ঘাটতি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

দিল্লির দ্বারকায় ২৩ বছর বয়সী সাহিল ধনেশরার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু দুই পরিবারের জীবন বদলে দিয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেক্টর ১১-এ একটি অখণ্ডিত সড়কে তাঁর মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি এসইউভির সংঘর্ষ হয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। দুর্ঘটনার পর সাহিলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, দু’পাশে পার্ক করা গাড়ির মাঝখানে এসইউভি দ্রুতগতিতে চলছিল। বিপরীত দিক থেকে বাস ওভারটেকের চেষ্টা করতে গিয়ে মোটরসাইকেলটি সামান্য লেন বদল করে—এরপরই সংঘর্ষ। আঘাতে মোটরসাইকেল দুমড়ে যায়, এসইউভি একটি ট্যাক্সিকেও ধাক্কা দেয়।

এক মায়ের শোক, এক পিতার ক্ষমা প্রার্থনা

সাহিলের মা ইননা মাকান সামাজিক মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। পরে কিশোর চালকের অন্তর্বর্তী জামিনের খবরে ক্ষোভ বাড়ে। অভিযুক্ত কিশোরের বাবা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আইনি সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, তিনি মেনে নেবেন। পুলিশ বেপরোয়া ড্রাইভিং ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর ধারায় এফআইআর করেছে এবং মোটর ভেহিকলস অ্যাক্টের ১৯৯এ ধারায় অভিভাবককে দায়ী করা হয়েছে।

দিল্লিতে সড়ক নিরাপত্তার চিত্র

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ছিল ১,৬১৭; আগের বছর ছিল ১,৫৫১। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জনবল ঘাটতি, নিয়ম না মানার সংস্কৃতি, পথচারীর অনিয়ম ও নগর পরিকল্পনার দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।

হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার, ভুল পথে গাড়ি চালানো ও সিগন্যাল অমান্য—এসবের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ২৩ লাখ চালান ইস্যু হয়েছিল; ২০২৫-এ তা বেড়ে ৩৮ লাখে দাঁড়ায়। গতি নিয়ন্ত্রণ ও রেড-লাইট ভায়োলেশন ধরতে ক্যামেরা নেটওয়ার্কও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

অবকাঠামো ও ‘গোল্ডেন আওয়ার’

বিশেষজ্ঞদের মতে, অখণ্ডিত সড়ক, দু’পাশে পার্কিং, দুর্বল সাইনেজ ও অনিয়ন্ত্রিত খোঁড়াখুঁড়ি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা—‘গোল্ডেন আওয়ার’—চিকিৎসা পৌঁছানো জরুরি; কিন্তু প্রায়ই ভিড় ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকে, সহায়তায় এগোয় না। উন্নত ক্র্যাশ তদন্ত ব্যবস্থা ও নিরাপদ সড়ক নকশা প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাণহানি ৬% কমেছে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রক। রাজ্যগুলোকে দুর্ঘটনা কমাতে বিশেষ সহায়তা তহবিলও বরাদ্দ রয়েছে।

এই ঘটনা কেবল এক পরিবারের শোক নয়; এটি সড়ক সংস্কৃতি, আইনের প্রয়োগ এবং নগর পরিকল্পনার কঠিন প্রশ্ন সামনে আনছে—কত প্রাণ গেলে আমরা নিয়ম মানতে শিখব?

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব

দ্বারকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু: নিয়ম ভাঙা, অবকাঠামো ঘাটতি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

০৬:৪৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিল্লির দ্বারকায় ২৩ বছর বয়সী সাহিল ধনেশরার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু দুই পরিবারের জীবন বদলে দিয়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেক্টর ১১-এ একটি অখণ্ডিত সড়কে তাঁর মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি এসইউভির সংঘর্ষ হয়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। দুর্ঘটনার পর সাহিলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, দু’পাশে পার্ক করা গাড়ির মাঝখানে এসইউভি দ্রুতগতিতে চলছিল। বিপরীত দিক থেকে বাস ওভারটেকের চেষ্টা করতে গিয়ে মোটরসাইকেলটি সামান্য লেন বদল করে—এরপরই সংঘর্ষ। আঘাতে মোটরসাইকেল দুমড়ে যায়, এসইউভি একটি ট্যাক্সিকেও ধাক্কা দেয়।

এক মায়ের শোক, এক পিতার ক্ষমা প্রার্থনা

সাহিলের মা ইননা মাকান সামাজিক মাধ্যমে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। পরে কিশোর চালকের অন্তর্বর্তী জামিনের খবরে ক্ষোভ বাড়ে। অভিযুক্ত কিশোরের বাবা প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আইনি সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, তিনি মেনে নেবেন। পুলিশ বেপরোয়া ড্রাইভিং ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর ধারায় এফআইআর করেছে এবং মোটর ভেহিকলস অ্যাক্টের ১৯৯এ ধারায় অভিভাবককে দায়ী করা হয়েছে।

দিল্লিতে সড়ক নিরাপত্তার চিত্র

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ছিল ১,৬১৭; আগের বছর ছিল ১,৫৫১। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। জনবল ঘাটতি, নিয়ম না মানার সংস্কৃতি, পথচারীর অনিয়ম ও নগর পরিকল্পনার দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা।

হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার, ভুল পথে গাড়ি চালানো ও সিগন্যাল অমান্য—এসবের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ২৩ লাখ চালান ইস্যু হয়েছিল; ২০২৫-এ তা বেড়ে ৩৮ লাখে দাঁড়ায়। গতি নিয়ন্ত্রণ ও রেড-লাইট ভায়োলেশন ধরতে ক্যামেরা নেটওয়ার্কও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

অবকাঠামো ও ‘গোল্ডেন আওয়ার’

বিশেষজ্ঞদের মতে, অখণ্ডিত সড়ক, দু’পাশে পার্কিং, দুর্বল সাইনেজ ও অনিয়ন্ত্রিত খোঁড়াখুঁড়ি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা—‘গোল্ডেন আওয়ার’—চিকিৎসা পৌঁছানো জরুরি; কিন্তু প্রায়ই ভিড় ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকে, সহায়তায় এগোয় না। উন্নত ক্র্যাশ তদন্ত ব্যবস্থা ও নিরাপদ সড়ক নকশা প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রাণহানি ৬% কমেছে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রক। রাজ্যগুলোকে দুর্ঘটনা কমাতে বিশেষ সহায়তা তহবিলও বরাদ্দ রয়েছে।

এই ঘটনা কেবল এক পরিবারের শোক নয়; এটি সড়ক সংস্কৃতি, আইনের প্রয়োগ এবং নগর পরিকল্পনার কঠিন প্রশ্ন সামনে আনছে—কত প্রাণ গেলে আমরা নিয়ম মানতে শিখব?