১১:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষ, বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল কৃষকের

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম মো. নুর আলম (৫৫), তিনি ওই এলাকার ইকরাম শেখের ছেলে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোড়ল এবং একই ইউনিয়নের নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মধুপুর এলাকার একটি বিলের জমিতে উভয় পক্ষের ধানক্ষেত রয়েছে। শনিবার সকালে সাইফুল ইসলামের পক্ষের কয়েকজন কৃষক ধান কাটতে গেলে পথে শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, পরে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা
দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নুর আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হন মুসা শেখ (৩০), সোহেল রানা (৫০), মফিজুর রহমান মুন্সি (৩০) ও আলী হুসাইন (৩০)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের বর্ণনা
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাইফুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন অংশ নেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর নুর আলম মারা যান। তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
ঘটনার বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষে কৃষক নিহত, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনা

ধান কাটা সংঘর্ষ খুলনা

খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত, আহত কয়েকজন। এলাকায় উত্তেজনা, অভিযান চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষ, বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল কৃষকের

০৫:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম মো. নুর আলম (৫৫), তিনি ওই এলাকার ইকরাম শেখের ছেলে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোড়ল এবং একই ইউনিয়নের নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মধুপুর এলাকার একটি বিলের জমিতে উভয় পক্ষের ধানক্ষেত রয়েছে। শনিবার সকালে সাইফুল ইসলামের পক্ষের কয়েকজন কৃষক ধান কাটতে গেলে পথে শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, পরে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা
দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নুর আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হন মুসা শেখ (৩০), সোহেল রানা (৫০), মফিজুর রহমান মুন্সি (৩০) ও আলী হুসাইন (৩০)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের বর্ণনা
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাইফুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন অংশ নেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর নুর আলম মারা যান। তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
ঘটনার বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষে কৃষক নিহত, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনা

ধান কাটা সংঘর্ষ খুলনা

খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত, আহত কয়েকজন। এলাকায় উত্তেজনা, অভিযান চলছে।