০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে যুদ্ধের ভাষার আড়ালে কূটনীতির শেষ দরজা টিকটক শপে চারুকলা: শিল্পবাজার বদলের শুরু, নাকি ব্যর্থ এক পরীক্ষা? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষ, বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল কৃষকের

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম মো. নুর আলম (৫৫), তিনি ওই এলাকার ইকরাম শেখের ছেলে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোড়ল এবং একই ইউনিয়নের নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মধুপুর এলাকার একটি বিলের জমিতে উভয় পক্ষের ধানক্ষেত রয়েছে। শনিবার সকালে সাইফুল ইসলামের পক্ষের কয়েকজন কৃষক ধান কাটতে গেলে পথে শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, পরে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা
দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নুর আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হন মুসা শেখ (৩০), সোহেল রানা (৫০), মফিজুর রহমান মুন্সি (৩০) ও আলী হুসাইন (৩০)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের বর্ণনা
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাইফুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন অংশ নেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর নুর আলম মারা যান। তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
ঘটনার বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষে কৃষক নিহত, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনা

ধান কাটা সংঘর্ষ খুলনা

খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত, আহত কয়েকজন। এলাকায় উত্তেজনা, অভিযান চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রপ্তানি বাড়াতে হলে কৌশলগত আমদানির পথও খুলতে হবে

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষ, বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল কৃষকের

০৫:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত এবং অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকের নাম মো. নুর আলম (৫৫), তিনি ওই এলাকার ইকরাম শেখের ছেলে।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মোড়ল এবং একই ইউনিয়নের নেতা অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মধুপুর এলাকার একটি বিলের জমিতে উভয় পক্ষের ধানক্ষেত রয়েছে। শনিবার সকালে সাইফুল ইসলামের পক্ষের কয়েকজন কৃষক ধান কাটতে গেলে পথে শহিদুল ইসলামের সমর্থকরা তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, পরে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা
দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নুর আলম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আহত হন মুসা শেখ (৩০), সোহেল রানা (৫০), মফিজুর রহমান মুন্সি (৩০) ও আলী হুসাইন (৩০)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের বর্ণনা
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাইফুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন অংশ নেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতর আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর নুর আলম মারা যান। তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ
ঘটনার বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ধান কাটাকে কেন্দ্র করে খুলনায় সংঘর্ষে কৃষক নিহত, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে উত্তেজনা

ধান কাটা সংঘর্ষ খুলনা

খুলনার তেরখাদায় ধান কাটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত, আহত কয়েকজন। এলাকায় উত্তেজনা, অভিযান চলছে।