ব্যাডমিন্টনে প্রস্তাবিত ৩×১৫ স্কোরিং পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমর্থকদের মতে, ছোট ম্যাচ মানে দ্রুত ফলাফল, সম্প্রচার-সহায়ক সময়সীমা এবং দর্শকবান্ধব ফরম্যাট। সমালোচকদের প্রশ্ন—গতি বাড়াতে গিয়ে কি খেলার কৌশলগত গভীরতা ও নাটকীয়তা কমে যাবে?
বর্তমান ৩×২১ ফরম্যাটে ম্যাচের গতিপথ বদলানোর সুযোগ থাকে। ধীর সূচনার পর খেলোয়াড়েরা তাল খুঁজে নেয়, কৌশল পাল্টায়, চাপ তৈরি করে এবং দীর্ঘ র্যালিতে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে তোলে। ৩×১৫ ব্যবস্থায় সেই সময়সীমা সংকুচিত হবে। ফলে দ্রুত শুরু করতে না পারলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।
ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের গল্প
ব্যাডমিন্টনের স্মরণীয় অনেক ম্যাচই কেবল গতির নয়, ছিল সহনশীলতা ও কৌশলের লড়াই। ২০০৬ মালয়েশিয়ান ওপেনে লি চং ওয়েই ১৩-২০ পিছিয়ে থেকেও টানা ১০ পয়েন্ট জিতে ম্যাচ জেতেন। ২০১৫ জাপান ওপেনে লিন ড্যান ১-১১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন।

ভারতের এইচ.এস. প্রণয়ের চীন ওপেন জয়ও একই ধারার—ডিসাইডিং গেমে পাঁচটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে ২৩-২১ ব্যবধানে জয়। দীর্ঘ র্যালি ও অদম্য ডিফেন্সই ছিল সেই সাফল্যের চাবিকাঠি।
নারীদের এক ঐতিহাসিক লড়াই ছিল ২০১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, যেখানে নোজোমি ওকুহারা ও পি.ভি. সিন্ধুর ম্যাচ স্থায়ী হয় প্রায় এক ঘণ্টা ৫০ মিনিট। এই ধরনের ম্যাচে কেবল শক্তি নয়, ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তাও নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।
৩×১৫ ফরম্যাটে এই ধরনের দীর্ঘ লড়াইয়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। প্রত্যাবর্তন অসম্ভব নয়, তবে সময়ের পরিসর সংকুচিত হওয়ায় তা আরও বিরল হতে পারে।
ভারতীয় প্রেক্ষাপট
ভারতের সিন্ধুর বড় সাফল্যগুলো এসেছে চাপ সহ্য করে ধীরে ধীরে ম্যাচে প্রবেশ করার ক্ষমতা থেকে। প্রণয়ের ক্যারিয়ারও প্রত্যাবর্তনের গল্পে ভরা। তবে কিদাম্বি শ্রীকান্তের মতো দ্রুত আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ের জন্য ছোট ফরম্যাট উপযোগী হতে পারে, যদি শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন। লক্ষ্ম্য সেনের মতো খেলোয়াড়ও দ্রুত ছন্দে মানিয়ে নিতে সক্ষম।

ডাবলসে পরিস্থিতি আরও জটিল। সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি–চিরাগ শেট্টি বা ত্রিসা জলি–গায়ত্রী গোপিচন্দের মতো জুটি বিস্ফোরক সূচনা করতে পারেন, কিন্তু ধারাবাহিকতা বড় চ্যালেঞ্জ। ১৫ পয়েন্টের গেমে সামান্য ভুলও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে।
সম্প্রচার বনাম খেলার স্বাতন্ত্র্য
বিশ্ব ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন (BWF) যুক্তি দিচ্ছে, ছোট ম্যাচ সম্প্রচার সূচি ও দর্শক আকর্ষণে সহায়ক হবে। আধুনিক ক্রীড়া বিশ্বে টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের চাপ উপেক্ষা করা যায় না।
তবে সংক্ষিপ্ততার বিনিময়ে জটিলতা হারানোর ঝুঁকি থাকে। ব্যাডমিন্টনের স্বাতন্ত্র্য ছিল গতি ও সহনশীলতার সমন্বয়ে, যেখানে বিস্ফোরক আক্রমণ ও দীর্ঘ র্যালি পাশাপাশি জায়গা পায়। নতুন ফরম্যাট সেই ভারসাম্য একদিকে ঝুঁকিয়ে দিতে পারে।
যদি প্রস্তাব গৃহীত হয়, তাহলে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি বদলাবে, কৌশল পাল্টাবে, এবং নতুন প্রজন্ম ভিন্ন এক ব্যাডমিন্টনে বড় হবে। প্রশ্ন থেকে যায়—গতি বাড়ানোর এই প্রয়াসে খেলার গভীরতা কতটা অক্ষুণ্ন থাকবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















