০৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু  বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত: নতুন কমিশন গঠন করবে সরকার ঢাকা চায় সম্মানজনক সমাধান ও সকলের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক উচ্চ সুদ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, জ্বালানি সংকট অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতি’: ডিসিসিআই সভাপতি জরুরি ভিত্তিতে ২৭০১ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ জুড়ে সমস্ত পরিত্যক্ত টিউবওয়েল শাফট বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের চীনের বসন্ত উৎসবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চশমার চাহিদা বৃদ্ধিতে বিক্রির উল্লম্ফন জাকাত দাতারা সরাসরি আইসিডিডিআর,বি’র দরিদ্র রোগীদের সহায়তা করতে পারবেন শেয়ার বাজারে উত্থান, দিনের মন্দার পর ফের ধাক্কা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-২২)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 78

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

টালির নালায় নৌকার ভিড় ছিল খুবই বেশি। দূরদেশের অসংখ্য নৌকা খালে জড় হত। সরকারের সামনে সমস্যা দেখা দিয়েছিল- নৌকা ডুবে গিয়ে খাল পথে নৌকা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। অসংখ্য নৌকার ভিড় ঠেলে এই পথটুকু পার হতে ৫/৬ দিন লেগে যেত।(১৭) নতুন পথ খোঁজার প্রয়োজনে ১৮২৬ খ্রীষ্টাব্দে বামনঘাটা খাল কাটার চেষ্টা হল। পূর্ব-পশ্চিমে আরও ৬টা কৃত্রিম খাল কেটে ধাপার সঙ্গে হাসনাবাদকে যুক্ত করা হল। বরিশালের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের এক নতুন পথ সেদিন উন্মুক্ত হল। মালবাহী ছোট নৌকা যাত্রীবাহী নৌকা এই পথ দিয়ে চলাচল করত। সেদিন এই পথের নাম ছিল Upper Sundarban Passage- উত্তর সুন্দরবন পথ।

এই পথকে টালির নালার বিকল্প হিসাবে গড়ে তোলার কথা হলেও তা কোনদিন হয়ে ওঠেনি। এই পথে হাসনাবাদ থেকে ধাপা পর্যন্ত ৩/৪ দিন লেগে যেত কৃত্রিম খালের ভিতর দিয়ে যাতায়াতের সময় নৌকাগুলি জোয়ার-ভাটার স্রোতকে কাজে লাগাতে পারত না। খালে স্রোতের টান বেশি ছিল না – জলের গভীরতা কম থাকায় ছোট নৌকা এ পথে যেতে পারত।

অসম্ভব নৌকার ভিড়ে টালির নালা বিপর্যস্ত। বোট ইনসিওরেন্স এবং বোট মালিকরা বারবার অসুবিধার কথা জানাচ্ছিলেন। সল্টলেকের পূর্বপ্রান্ত থেকে বেলেঘাটা খালের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করতে পারলে টালির নালার ওপর চাপ কমানো যাবে- এই পরিকল্পনা ১৮-১৯ খ্রীষ্টাব্দে টেরিটি সাহেব করেছিলেন কিন্তু তা অর্থের অভাবে কার্যকরী করা যায়নি। ১৮২২-এর ৮ই ফেব্রুয়ারি সরকারের পক্ষে ম্যাকেঞ্জি H. Mackenjee, Secy, to the Govt. ১৪ তম পদাতিক বাহিনীর ইঞ্জিনীয়ার লেফ্টনেন্ট শব্‌কে অনুরোধ করলেন টালির নালার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট পাঠাতে এবং টেরিটি সাহেবের প্রস্তাব সম্পর্কে বিচার বিবেচনা করতে নির্দেশ দেওয়া হল।

Lt. Scalch সমস্ত বিষয়টা অনুসন্ধান করে প্রস্তাব পাঠালেন কলকাতার সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ এমনকি পূর্ববাংলার দূরতম প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া দরকার এবং টেরিটি সাহেবের প্রস্তাব কিছুটা পরিবর্তন করে নতুন খাল সার্কুলার ব্যানেল করার প্রস্তাব পাঠালেন। ১৮৩০ খ্রীষ্টাব্দে ২রা জানুয়ারি সংবাদপত্রে জানা যাচ্ছে- ‘এই খাল কাটনের তাৎপর্য এই যে উত্তরজাত দ্রব্যাদি পূর্ববৎ ঘুরিয়া না আসিয়া অতি সহজ ও সুগম পথ দিয়া কলিকাতায় আইসে; প্রাচীন পথ দিয়া আগমনে অনেক সঙ্কট ছিল এবং অনেক ক্ষতি হইত। এই খাল পূর্বদিকে হাসনাবাদের অভিমুখে যাইতেছে এবং সেইস্থান পর্যন্ত প্রস্তুত হইয়াছে। উত্তরকালে জলপথগন্তারা বক্র এবং পীড়াজনক সুন্দরবন দিয়া কএক দিবস পর্যন্ত গমন না করিয়া উত্তম কৃষিযুক্ত দেশ দিয়া আগমন করিতে পারিবেন।(১৯)

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-২২)

০৪:০০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

শশাঙ্ক মণ্ডল

দ্বিতীয় অধ্যায়

টালির নালায় নৌকার ভিড় ছিল খুবই বেশি। দূরদেশের অসংখ্য নৌকা খালে জড় হত। সরকারের সামনে সমস্যা দেখা দিয়েছিল- নৌকা ডুবে গিয়ে খাল পথে নৌকা চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। অসংখ্য নৌকার ভিড় ঠেলে এই পথটুকু পার হতে ৫/৬ দিন লেগে যেত।(১৭) নতুন পথ খোঁজার প্রয়োজনে ১৮২৬ খ্রীষ্টাব্দে বামনঘাটা খাল কাটার চেষ্টা হল। পূর্ব-পশ্চিমে আরও ৬টা কৃত্রিম খাল কেটে ধাপার সঙ্গে হাসনাবাদকে যুক্ত করা হল। বরিশালের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের এক নতুন পথ সেদিন উন্মুক্ত হল। মালবাহী ছোট নৌকা যাত্রীবাহী নৌকা এই পথ দিয়ে চলাচল করত। সেদিন এই পথের নাম ছিল Upper Sundarban Passage- উত্তর সুন্দরবন পথ।

এই পথকে টালির নালার বিকল্প হিসাবে গড়ে তোলার কথা হলেও তা কোনদিন হয়ে ওঠেনি। এই পথে হাসনাবাদ থেকে ধাপা পর্যন্ত ৩/৪ দিন লেগে যেত কৃত্রিম খালের ভিতর দিয়ে যাতায়াতের সময় নৌকাগুলি জোয়ার-ভাটার স্রোতকে কাজে লাগাতে পারত না। খালে স্রোতের টান বেশি ছিল না – জলের গভীরতা কম থাকায় ছোট নৌকা এ পথে যেতে পারত।

অসম্ভব নৌকার ভিড়ে টালির নালা বিপর্যস্ত। বোট ইনসিওরেন্স এবং বোট মালিকরা বারবার অসুবিধার কথা জানাচ্ছিলেন। সল্টলেকের পূর্বপ্রান্ত থেকে বেলেঘাটা খালের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করতে পারলে টালির নালার ওপর চাপ কমানো যাবে- এই পরিকল্পনা ১৮-১৯ খ্রীষ্টাব্দে টেরিটি সাহেব করেছিলেন কিন্তু তা অর্থের অভাবে কার্যকরী করা যায়নি। ১৮২২-এর ৮ই ফেব্রুয়ারি সরকারের পক্ষে ম্যাকেঞ্জি H. Mackenjee, Secy, to the Govt. ১৪ তম পদাতিক বাহিনীর ইঞ্জিনীয়ার লেফ্টনেন্ট শব্‌কে অনুরোধ করলেন টালির নালার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট পাঠাতে এবং টেরিটি সাহেবের প্রস্তাব সম্পর্কে বিচার বিবেচনা করতে নির্দেশ দেওয়া হল।

Lt. Scalch সমস্ত বিষয়টা অনুসন্ধান করে প্রস্তাব পাঠালেন কলকাতার সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ এমনকি পূর্ববাংলার দূরতম প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া দরকার এবং টেরিটি সাহেবের প্রস্তাব কিছুটা পরিবর্তন করে নতুন খাল সার্কুলার ব্যানেল করার প্রস্তাব পাঠালেন। ১৮৩০ খ্রীষ্টাব্দে ২রা জানুয়ারি সংবাদপত্রে জানা যাচ্ছে- ‘এই খাল কাটনের তাৎপর্য এই যে উত্তরজাত দ্রব্যাদি পূর্ববৎ ঘুরিয়া না আসিয়া অতি সহজ ও সুগম পথ দিয়া কলিকাতায় আইসে; প্রাচীন পথ দিয়া আগমনে অনেক সঙ্কট ছিল এবং অনেক ক্ষতি হইত। এই খাল পূর্বদিকে হাসনাবাদের অভিমুখে যাইতেছে এবং সেইস্থান পর্যন্ত প্রস্তুত হইয়াছে। উত্তরকালে জলপথগন্তারা বক্র এবং পীড়াজনক সুন্দরবন দিয়া কএক দিবস পর্যন্ত গমন না করিয়া উত্তম কৃষিযুক্ত দেশ দিয়া আগমন করিতে পারিবেন।(১৯)