০৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
দুর্নীতি শুধু ঘুষ নয়: নীরবতা, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত বাস্তবতা ইরানের শর্তে ৬০ দিনের আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সম্পন্নের ঘোষণা নতুন ইতিহাসের সাক্ষী কুরাসাও: ৭-১ গোলে হারলেও বিশ্বকাপ অভিষেকে গর্বে ভাসছে ছোট্ট দ্বীপদেশ আমাদ দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের গোলে জয়, বিশ্বকাপ শুরুতেই দারুণ সূচনা আইভরি কোস্টের ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক বিশ্ব: বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা ও টেকসই লড়াইয়ের আহ্বান সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধের দাবিতে ঢাকায় ১১ দলের সমাবেশ আজ ইসলামী ব্যাংকের পুরো পর্ষদ বিলুপ্ত, প্রশাসকের হাতে সব ক্ষমতা জিসানকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল শাকের পাতায় লুকিয়ে থাকা প্রোটিন, খাদ্য জগতে নতুন সম্ভাবনার নাম রুবিসকো

ইশকুল (পর্ব-১০)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪
  • 141
আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ফাদার গেন্নাদি সেদিন আরও বললেন, ‘এই সমস্ত নীতিকথার বক্তব্য কী? প্রথম নীতিকথাটিতে এক অবাধ্য ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটি বাপকে ছেড়ে বহুদিন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াল, অবশেষে তাকে বাপের আশ্রয়ে ফিরে আসতে হল। তোমাদের যে-সব সহপাঠী জীবনের দুঃখকষ্ট সহ্য করায় অনভ্যস্ত হয়ে লুকিয়ে গৃহত্যাগ করেছে, স্বেচ্ছায় তারা যে-সর্বনাশের পথ বেছে নিয়েছে, সে- পথে চলতে গিয়ে তারা যে কত কষ্টে পড়বে সে কি আর বলতে? আমি তোমাদের আবার বলছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি জান ঘরছাড়ারা কোথায় রয়েছে, তাহলে তাদের লিখে দাও তারা যেন ঘরে ফিরতে ভয় না পায়।
পিতৃপুরুষের বাস্তুভিটায় ফেরার সময় পার হয়ে যায় নি এখনও। মনে রেখো, প্রথম নীতিকথায় উড়নচণ্ডে ছেলে যখন ঘরে ফিরে এল, তার ধর্মভীরু, বাবা তাকে ধমক দিলেন না তখন, বরং তাকে চমৎকার সব জামাকাপড় পরতে দিলেন আর পরবের ছুটির দিনে লোকে যেমনটি করে তেমনই ভোজের আয়োজন করতে মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করতে বললেন। তেমনই এই দুটি ঘরছাড়া ছেলের বাবা-মাও তারা ফিরে এলে তাদের সব কিছু ক্ষমা করে দেবেন আর দু-হাত বাড়িয়ে বুকে তুলে নেবেন তাদের।’
কথাগুলো কতখানি ঠিক সে-সম্বন্ধে আমার অবিশ্যি সন্দেহ ছিল। তুপিকভ সেই প্রথম শ্রেণীর ছাত্রটি ফের ঘরে ফিরে এলে তার বাবা-মা যে কী করবেন তা অবিশ্যি আমার জানা ছিল না। কিন্তু এ-বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে ছেলে ফিরে এলে রুটিওয়ালা প্লাগিন মোটেই মোটাসোটা বাহুর জবাই করতে বসবেন না, বরং নিজের পরনের বেল্ট খুলে কষে একচোট উত্তমমধ্যম লাগাবেন।
ফাদার গেয়াদি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিক গুণের বিকাশ সম্বন্ধে নীতিকথাটিতে বলা হয়েছে, কারো স্বাভাবিক গুণ কেউ যেন পাথর-চাপা দিয়ে না রাখে। তোমরাও এখানে নানা ধরনের বিদ্যা আহরণ করছ। স্কুলের পড়া শেষ করে প্রত্যেকে তোমরা নিজ নিজ গুণ, ইচ্ছে আর সামর্থ্য অনুযায়ী পেশা বেছে নেবে। ধরো, তোমাদের মধ্যে কেউ হবে মান্যগণ্য ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, আবার কেউ-বা সরকারী কর্মচারী।
তখন সকলেই তোমাদের খাতির করবে, প্রত্যেকে মনে- মনে বলবে: ‘হ্যাঁ, এই যোগ্য মানুষটি নিজ গুণ পাথর-চাপা দিয়ে রাখেন নি, বরং তাকে বাড়িয়ে তুলেছেন, আর তারই ফলে জীবনের সবকিছু সুখস্বাচ্ছন্দ্য এখন ভোগ করতে পারছেন। এ-সবই এ’র ন্যায্য পাওনা। কিন্তু’ এইবার ফাদার গেন্নাদি আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বললেন, ‘কিন্তু, জিজ্ঞাসা করি, এই সব আর এদের মতো আরও অনেক ঘর-পালানের কী দশা হবে বলো তো? জীবনে যে-সুযোগসুবিধে এরা পেয়েছিল তা অবহেলায় পায়ে দলে জড়দেহ আর আত্মার পক্ষে সমান সর্বনাশা দুঃসাহসিক রোমাঞ্চের সন্ধানে এই যে এরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেল, তাদের কী হবে?
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতি শুধু ঘুষ নয়: নীরবতা, গাফিলতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তৃত বাস্তবতা

ইশকুল (পর্ব-১০)

০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪
আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ফাদার গেন্নাদি সেদিন আরও বললেন, ‘এই সমস্ত নীতিকথার বক্তব্য কী? প্রথম নীতিকথাটিতে এক অবাধ্য ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটি বাপকে ছেড়ে বহুদিন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াল, অবশেষে তাকে বাপের আশ্রয়ে ফিরে আসতে হল। তোমাদের যে-সব সহপাঠী জীবনের দুঃখকষ্ট সহ্য করায় অনভ্যস্ত হয়ে লুকিয়ে গৃহত্যাগ করেছে, স্বেচ্ছায় তারা যে-সর্বনাশের পথ বেছে নিয়েছে, সে- পথে চলতে গিয়ে তারা যে কত কষ্টে পড়বে সে কি আর বলতে? আমি তোমাদের আবার বলছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি জান ঘরছাড়ারা কোথায় রয়েছে, তাহলে তাদের লিখে দাও তারা যেন ঘরে ফিরতে ভয় না পায়।
পিতৃপুরুষের বাস্তুভিটায় ফেরার সময় পার হয়ে যায় নি এখনও। মনে রেখো, প্রথম নীতিকথায় উড়নচণ্ডে ছেলে যখন ঘরে ফিরে এল, তার ধর্মভীরু, বাবা তাকে ধমক দিলেন না তখন, বরং তাকে চমৎকার সব জামাকাপড় পরতে দিলেন আর পরবের ছুটির দিনে লোকে যেমনটি করে তেমনই ভোজের আয়োজন করতে মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করতে বললেন। তেমনই এই দুটি ঘরছাড়া ছেলের বাবা-মাও তারা ফিরে এলে তাদের সব কিছু ক্ষমা করে দেবেন আর দু-হাত বাড়িয়ে বুকে তুলে নেবেন তাদের।’
কথাগুলো কতখানি ঠিক সে-সম্বন্ধে আমার অবিশ্যি সন্দেহ ছিল। তুপিকভ সেই প্রথম শ্রেণীর ছাত্রটি ফের ঘরে ফিরে এলে তার বাবা-মা যে কী করবেন তা অবিশ্যি আমার জানা ছিল না। কিন্তু এ-বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে ছেলে ফিরে এলে রুটিওয়ালা প্লাগিন মোটেই মোটাসোটা বাহুর জবাই করতে বসবেন না, বরং নিজের পরনের বেল্ট খুলে কষে একচোট উত্তমমধ্যম লাগাবেন।
ফাদার গেয়াদি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিক গুণের বিকাশ সম্বন্ধে নীতিকথাটিতে বলা হয়েছে, কারো স্বাভাবিক গুণ কেউ যেন পাথর-চাপা দিয়ে না রাখে। তোমরাও এখানে নানা ধরনের বিদ্যা আহরণ করছ। স্কুলের পড়া শেষ করে প্রত্যেকে তোমরা নিজ নিজ গুণ, ইচ্ছে আর সামর্থ্য অনুযায়ী পেশা বেছে নেবে। ধরো, তোমাদের মধ্যে কেউ হবে মান্যগণ্য ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, আবার কেউ-বা সরকারী কর্মচারী।
তখন সকলেই তোমাদের খাতির করবে, প্রত্যেকে মনে- মনে বলবে: ‘হ্যাঁ, এই যোগ্য মানুষটি নিজ গুণ পাথর-চাপা দিয়ে রাখেন নি, বরং তাকে বাড়িয়ে তুলেছেন, আর তারই ফলে জীবনের সবকিছু সুখস্বাচ্ছন্দ্য এখন ভোগ করতে পারছেন। এ-সবই এ’র ন্যায্য পাওনা। কিন্তু’ এইবার ফাদার গেন্নাদি আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বললেন, ‘কিন্তু, জিজ্ঞাসা করি, এই সব আর এদের মতো আরও অনেক ঘর-পালানের কী দশা হবে বলো তো? জীবনে যে-সুযোগসুবিধে এরা পেয়েছিল তা অবহেলায় পায়ে দলে জড়দেহ আর আত্মার পক্ষে সমান সর্বনাশা দুঃসাহসিক রোমাঞ্চের সন্ধানে এই যে এরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেল, তাদের কী হবে?