১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি ইউরোপের ‘গানস বনাম বাটার’ সংকট তীব্রতর, ইরান যুদ্ধ নতুন চাপ তৈরি করেছে জ্বালানি সংকটে আবারও ‘কমিউনিটি প্যান্ট্রি’ আন্দোলন বাংলার ভোটার তালিকা থেকে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধর বাদ, নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার: ভরিতে বাড়ল ৩,২৬৬ টাকা, ২২ ক্যারেট এখন ২,৪৪,৭১১ টাকা জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে ৩৯৪ জনের মৃত্যু: মোটরসাইকেল সবচেয়ে মরণঘাতী বাহন ৩০ বছরের পুরনো সেতু ধসে সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন

ইশকুল (পর্ব-১০)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪
  • 114
আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ফাদার গেন্নাদি সেদিন আরও বললেন, ‘এই সমস্ত নীতিকথার বক্তব্য কী? প্রথম নীতিকথাটিতে এক অবাধ্য ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটি বাপকে ছেড়ে বহুদিন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াল, অবশেষে তাকে বাপের আশ্রয়ে ফিরে আসতে হল। তোমাদের যে-সব সহপাঠী জীবনের দুঃখকষ্ট সহ্য করায় অনভ্যস্ত হয়ে লুকিয়ে গৃহত্যাগ করেছে, স্বেচ্ছায় তারা যে-সর্বনাশের পথ বেছে নিয়েছে, সে- পথে চলতে গিয়ে তারা যে কত কষ্টে পড়বে সে কি আর বলতে? আমি তোমাদের আবার বলছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি জান ঘরছাড়ারা কোথায় রয়েছে, তাহলে তাদের লিখে দাও তারা যেন ঘরে ফিরতে ভয় না পায়।
পিতৃপুরুষের বাস্তুভিটায় ফেরার সময় পার হয়ে যায় নি এখনও। মনে রেখো, প্রথম নীতিকথায় উড়নচণ্ডে ছেলে যখন ঘরে ফিরে এল, তার ধর্মভীরু, বাবা তাকে ধমক দিলেন না তখন, বরং তাকে চমৎকার সব জামাকাপড় পরতে দিলেন আর পরবের ছুটির দিনে লোকে যেমনটি করে তেমনই ভোজের আয়োজন করতে মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করতে বললেন। তেমনই এই দুটি ঘরছাড়া ছেলের বাবা-মাও তারা ফিরে এলে তাদের সব কিছু ক্ষমা করে দেবেন আর দু-হাত বাড়িয়ে বুকে তুলে নেবেন তাদের।’
কথাগুলো কতখানি ঠিক সে-সম্বন্ধে আমার অবিশ্যি সন্দেহ ছিল। তুপিকভ সেই প্রথম শ্রেণীর ছাত্রটি ফের ঘরে ফিরে এলে তার বাবা-মা যে কী করবেন তা অবিশ্যি আমার জানা ছিল না। কিন্তু এ-বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে ছেলে ফিরে এলে রুটিওয়ালা প্লাগিন মোটেই মোটাসোটা বাহুর জবাই করতে বসবেন না, বরং নিজের পরনের বেল্ট খুলে কষে একচোট উত্তমমধ্যম লাগাবেন।
ফাদার গেয়াদি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিক গুণের বিকাশ সম্বন্ধে নীতিকথাটিতে বলা হয়েছে, কারো স্বাভাবিক গুণ কেউ যেন পাথর-চাপা দিয়ে না রাখে। তোমরাও এখানে নানা ধরনের বিদ্যা আহরণ করছ। স্কুলের পড়া শেষ করে প্রত্যেকে তোমরা নিজ নিজ গুণ, ইচ্ছে আর সামর্থ্য অনুযায়ী পেশা বেছে নেবে। ধরো, তোমাদের মধ্যে কেউ হবে মান্যগণ্য ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, আবার কেউ-বা সরকারী কর্মচারী।
তখন সকলেই তোমাদের খাতির করবে, প্রত্যেকে মনে- মনে বলবে: ‘হ্যাঁ, এই যোগ্য মানুষটি নিজ গুণ পাথর-চাপা দিয়ে রাখেন নি, বরং তাকে বাড়িয়ে তুলেছেন, আর তারই ফলে জীবনের সবকিছু সুখস্বাচ্ছন্দ্য এখন ভোগ করতে পারছেন। এ-সবই এ’র ন্যায্য পাওনা। কিন্তু’ এইবার ফাদার গেন্নাদি আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বললেন, ‘কিন্তু, জিজ্ঞাসা করি, এই সব আর এদের মতো আরও অনেক ঘর-পালানের কী দশা হবে বলো তো? জীবনে যে-সুযোগসুবিধে এরা পেয়েছিল তা অবহেলায় পায়ে দলে জড়দেহ আর আত্মার পক্ষে সমান সর্বনাশা দুঃসাহসিক রোমাঞ্চের সন্ধানে এই যে এরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেল, তাদের কী হবে?
জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি

ইশকুল (পর্ব-১০)

০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪
আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ফাদার গেন্নাদি সেদিন আরও বললেন, ‘এই সমস্ত নীতিকথার বক্তব্য কী? প্রথম নীতিকথাটিতে এক অবাধ্য ছেলের কথা বলা হয়েছে। ছেলেটি বাপকে ছেড়ে বহুদিন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াল, অবশেষে তাকে বাপের আশ্রয়ে ফিরে আসতে হল। তোমাদের যে-সব সহপাঠী জীবনের দুঃখকষ্ট সহ্য করায় অনভ্যস্ত হয়ে লুকিয়ে গৃহত্যাগ করেছে, স্বেচ্ছায় তারা যে-সর্বনাশের পথ বেছে নিয়েছে, সে- পথে চলতে গিয়ে তারা যে কত কষ্টে পড়বে সে কি আর বলতে? আমি তোমাদের আবার বলছি, তোমাদের মধ্যে কেউ যদি জান ঘরছাড়ারা কোথায় রয়েছে, তাহলে তাদের লিখে দাও তারা যেন ঘরে ফিরতে ভয় না পায়।
পিতৃপুরুষের বাস্তুভিটায় ফেরার সময় পার হয়ে যায় নি এখনও। মনে রেখো, প্রথম নীতিকথায় উড়নচণ্ডে ছেলে যখন ঘরে ফিরে এল, তার ধর্মভীরু, বাবা তাকে ধমক দিলেন না তখন, বরং তাকে চমৎকার সব জামাকাপড় পরতে দিলেন আর পরবের ছুটির দিনে লোকে যেমনটি করে তেমনই ভোজের আয়োজন করতে মোটাসোটা বাছুরটি জবাই করতে বললেন। তেমনই এই দুটি ঘরছাড়া ছেলের বাবা-মাও তারা ফিরে এলে তাদের সব কিছু ক্ষমা করে দেবেন আর দু-হাত বাড়িয়ে বুকে তুলে নেবেন তাদের।’
কথাগুলো কতখানি ঠিক সে-সম্বন্ধে আমার অবিশ্যি সন্দেহ ছিল। তুপিকভ সেই প্রথম শ্রেণীর ছাত্রটি ফের ঘরে ফিরে এলে তার বাবা-মা যে কী করবেন তা অবিশ্যি আমার জানা ছিল না। কিন্তু এ-বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে ছেলে ফিরে এলে রুটিওয়ালা প্লাগিন মোটেই মোটাসোটা বাহুর জবাই করতে বসবেন না, বরং নিজের পরনের বেল্ট খুলে কষে একচোট উত্তমমধ্যম লাগাবেন।
ফাদার গেয়াদি সেদিন আরও বলেছিলেন, ‘স্বাভাবিক গুণের বিকাশ সম্বন্ধে নীতিকথাটিতে বলা হয়েছে, কারো স্বাভাবিক গুণ কেউ যেন পাথর-চাপা দিয়ে না রাখে। তোমরাও এখানে নানা ধরনের বিদ্যা আহরণ করছ। স্কুলের পড়া শেষ করে প্রত্যেকে তোমরা নিজ নিজ গুণ, ইচ্ছে আর সামর্থ্য অনুযায়ী পেশা বেছে নেবে। ধরো, তোমাদের মধ্যে কেউ হবে মান্যগণ্য ব্যবসায়ী, কেউ ডাক্তার, আবার কেউ-বা সরকারী কর্মচারী।
তখন সকলেই তোমাদের খাতির করবে, প্রত্যেকে মনে- মনে বলবে: ‘হ্যাঁ, এই যোগ্য মানুষটি নিজ গুণ পাথর-চাপা দিয়ে রাখেন নি, বরং তাকে বাড়িয়ে তুলেছেন, আর তারই ফলে জীবনের সবকিছু সুখস্বাচ্ছন্দ্য এখন ভোগ করতে পারছেন। এ-সবই এ’র ন্যায্য পাওনা। কিন্তু’ এইবার ফাদার গেন্নাদি আকাশের দিকে দুই হাত তুলে বললেন, ‘কিন্তু, জিজ্ঞাসা করি, এই সব আর এদের মতো আরও অনেক ঘর-পালানের কী দশা হবে বলো তো? জীবনে যে-সুযোগসুবিধে এরা পেয়েছিল তা অবহেলায় পায়ে দলে জড়দেহ আর আত্মার পক্ষে সমান সর্বনাশা দুঃসাহসিক রোমাঞ্চের সন্ধানে এই যে এরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেল, তাদের কী হবে?