০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
নৌবাহিনীর শীর্ষে অস্থিরতা: ১৩ মাসেই বিদায় জন ফেলান আসিয়ানকে চীনের জ্বালানি দূরদর্শিতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে প্লাস্টিকের দাম বাড়ায় বিকল্প প্যাকেজিংয়ে ঝুঁকছে ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ সালের জ্বালানি মূল্য সমন্বয়: মধ্যবিত্তের সংকুচিত বাস্তবতা রুপিয়াহর রেকর্ড পতন: ইরান যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় চাপে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা পশ্চিমবঙ্গে ভোটে রেকর্ড অংশগ্রহণ, পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন নরেন্দ্র মোদি ভারতের তামিলনাড়ু নির্বাচন ২০২৬: বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৮২% এর বেশি ওড়িশা দ্রুত অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিচ্ছে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ ভোটে উত্তেজনা: আসানসোলে বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলের গাড়িতে হামলার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: পদ নয়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পতনই লক্ষ্য—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৪৬)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪
  • 133
শশাঙ্ক মণ্ডল
 লবণ

তৃতীয় অধ্যায়

লবণ ব্যবসায়ীরা বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিতে আসত যারা সরকারকে লবণ-শুল্ক হিসাবে হিন্দু হলে ৫% আর মুসলমান হলে ২ শতাংশ দেবে। এই পার্থক্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে উঠে গেল। ১৭৭২ খ্রীঃ এর অক্টোবর মাসের মধ্যে কোম্পানি লবণ তৈরির অধিকার গ্রহণ করল এবং বিভিন্ন স্থানে লবণ তৈরির ব্যাপারে ইজারা দেওয়ার জন্য ৫ বছরের চুক্তিতে নীলাম ডাকার ব্যবস্থা করা হল। শর্ত হিসাবে উল্লেখ করা হল লবণ ব্যবসায়ীরা মালঙ্গীদের অগ্রিম সাহায্য করতে বাধ্য থাকবে। প্রতিটি খালাড়ী থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে লবণ মালঙ্গীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে; লবণ বাণিজ্যে কোম্পানির কোন কর্মচারী অংশ নিতে পারবে না। অবশ্য পরবর্তীকালে দেখা গেল কোম্পানির কর্মচারীরা বেনামীতে অনেকে লবণের ব্যবসায় অংশ নিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। (১৯)
সে যুগে লবণ উৎপাদক মালঙ্গীরা দু শ্রেণীর ছিল আগুরা ও ঠিকা মালঙ্গী। মেদিনীপুরের লবণ উৎপাদকের সঙ্গে সুন্দরবনের লবণ উৎপাদকের পার্থক্য ছিল এই যে, মেদিনীপুরের উৎপাদকরা অধিকাংশই ছিল আগুরা মালঙ্গী। এরা পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে জীবিকা হিসাবে লবণ উৎপাদনকে গ্রহণ করেছিল। উৎপাদন ক্ষেত্রের নিকটে এদের বাসস্থান থাকায় এরা এই শিল্পের সঙ্গে নিজেদেরকে পেশাগত ভাবে জড়িত করতে পেরেছিল। অপর আর একদল ছিল ঠিকা মালঙ্গী।
এরা দূর থেকে আসত। লবণ উৎপাদনের জন্য একটা নির্দিষ্ট চুক্তির বিনিময়ে লোক লাগিয়ে দেওয়া হত এবং ঐ নির্দিষ্ট পরিমাণ লবণ নির্দিষ্ট দামের চুক্তিতে সল্ট এজেন্টের গুদামে পৌঁছে দিত। ঠিকা মালঙ্গীরা লবণ শিল্পের ক্ষেত্রে মিডলম্যান হিসাবে কাজ করেছে। ব্রিটিশ রাজত্বের সূচনালগ্নে রায়মঙ্গল এলাকা মেদিনীপুরের লবণ উৎপাদনের মত ঐতিহ্যসম্পন্ন ছিল না। ব্রিটিশরা এটাকে নতুন ক্ষেত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিল। বিস্তৃতভাবে প্রচুর লবণ উৎপাদনের জন্য রায়মঙ্গল নদী ও তার নিকটবর্তী এলাকার নদীতীরকে বেছে নিয়েছিল এবং এখানকার লবণ উৎপাদন সবটাই ঠিকা মালঙ্গীদের হাতে ছিল।
সুন্দরবনের রায়মঙ্গল বিদ্যাধরী নদীর তীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাঙলা অধিকারের পর থেকে লবণ উৎপাদনের দিকে লক্ষ দিয়ে সে যুগের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হল। ১৭৭০-৭২ এ ২৪ পরগনার রায়মঙ্গল সল্ট এজেন্সির অন্তর্গত ডায়মন্ডহারবার, বারুইপুর, গড়িয়া, রায়পুর, প্রভৃতি এলাকার ঠিকা মালঙ্গীরা কোম্পানির কাছে লবণের দামের ব্যাপারে অভিযোগ জানায়। ১৭৭২ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানির লবণ আইন মোতাবেক যে সব ব্যবসায়ীরা ইজারাদার হল তারা মালঙ্গীদের ন্যায্য মজুরি দিচ্ছে না, নানারকম প্রতারণার মধ্য দিয়ে গরিব রায়তদের বঞ্চিত করা হচ্ছিল।
এরই ভিত্তিতে ১৭৭৪-৭৫ এ David Anderson এবং William Young তদন্ত করেন। এরা সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলের মালঙ্গীদের অভিযোগগুলি শোনেন- অভিযোগগুলি হল কয়ালরা ওজনের ক্ষেত্রে চাষিদের প্রতারিত করছে; এক মণ লবণকে ২৫ সের বলে মাপ দিচ্ছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

নৌবাহিনীর শীর্ষে অস্থিরতা: ১৩ মাসেই বিদায় জন ফেলান

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৪৬)

১২:০০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
 লবণ

তৃতীয় অধ্যায়

লবণ ব্যবসায়ীরা বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিতে আসত যারা সরকারকে লবণ-শুল্ক হিসাবে হিন্দু হলে ৫% আর মুসলমান হলে ২ শতাংশ দেবে। এই পার্থক্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে উঠে গেল। ১৭৭২ খ্রীঃ এর অক্টোবর মাসের মধ্যে কোম্পানি লবণ তৈরির অধিকার গ্রহণ করল এবং বিভিন্ন স্থানে লবণ তৈরির ব্যাপারে ইজারা দেওয়ার জন্য ৫ বছরের চুক্তিতে নীলাম ডাকার ব্যবস্থা করা হল। শর্ত হিসাবে উল্লেখ করা হল লবণ ব্যবসায়ীরা মালঙ্গীদের অগ্রিম সাহায্য করতে বাধ্য থাকবে। প্রতিটি খালাড়ী থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে লবণ মালঙ্গীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে; লবণ বাণিজ্যে কোম্পানির কোন কর্মচারী অংশ নিতে পারবে না। অবশ্য পরবর্তীকালে দেখা গেল কোম্পানির কর্মচারীরা বেনামীতে অনেকে লবণের ব্যবসায় অংশ নিয়ে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। (১৯)
সে যুগে লবণ উৎপাদক মালঙ্গীরা দু শ্রেণীর ছিল আগুরা ও ঠিকা মালঙ্গী। মেদিনীপুরের লবণ উৎপাদকের সঙ্গে সুন্দরবনের লবণ উৎপাদকের পার্থক্য ছিল এই যে, মেদিনীপুরের উৎপাদকরা অধিকাংশই ছিল আগুরা মালঙ্গী। এরা পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে জীবিকা হিসাবে লবণ উৎপাদনকে গ্রহণ করেছিল। উৎপাদন ক্ষেত্রের নিকটে এদের বাসস্থান থাকায় এরা এই শিল্পের সঙ্গে নিজেদেরকে পেশাগত ভাবে জড়িত করতে পেরেছিল। অপর আর একদল ছিল ঠিকা মালঙ্গী।
এরা দূর থেকে আসত। লবণ উৎপাদনের জন্য একটা নির্দিষ্ট চুক্তির বিনিময়ে লোক লাগিয়ে দেওয়া হত এবং ঐ নির্দিষ্ট পরিমাণ লবণ নির্দিষ্ট দামের চুক্তিতে সল্ট এজেন্টের গুদামে পৌঁছে দিত। ঠিকা মালঙ্গীরা লবণ শিল্পের ক্ষেত্রে মিডলম্যান হিসাবে কাজ করেছে। ব্রিটিশ রাজত্বের সূচনালগ্নে রায়মঙ্গল এলাকা মেদিনীপুরের লবণ উৎপাদনের মত ঐতিহ্যসম্পন্ন ছিল না। ব্রিটিশরা এটাকে নতুন ক্ষেত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিল। বিস্তৃতভাবে প্রচুর লবণ উৎপাদনের জন্য রায়মঙ্গল নদী ও তার নিকটবর্তী এলাকার নদীতীরকে বেছে নিয়েছিল এবং এখানকার লবণ উৎপাদন সবটাই ঠিকা মালঙ্গীদের হাতে ছিল।
সুন্দরবনের রায়মঙ্গল বিদ্যাধরী নদীর তীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাঙলা অধিকারের পর থেকে লবণ উৎপাদনের দিকে লক্ষ দিয়ে সে যুগের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হল। ১৭৭০-৭২ এ ২৪ পরগনার রায়মঙ্গল সল্ট এজেন্সির অন্তর্গত ডায়মন্ডহারবার, বারুইপুর, গড়িয়া, রায়পুর, প্রভৃতি এলাকার ঠিকা মালঙ্গীরা কোম্পানির কাছে লবণের দামের ব্যাপারে অভিযোগ জানায়। ১৭৭২ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানির লবণ আইন মোতাবেক যে সব ব্যবসায়ীরা ইজারাদার হল তারা মালঙ্গীদের ন্যায্য মজুরি দিচ্ছে না, নানারকম প্রতারণার মধ্য দিয়ে গরিব রায়তদের বঞ্চিত করা হচ্ছিল।
এরই ভিত্তিতে ১৭৭৪-৭৫ এ David Anderson এবং William Young তদন্ত করেন। এরা সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলের মালঙ্গীদের অভিযোগগুলি শোনেন- অভিযোগগুলি হল কয়ালরা ওজনের ক্ষেত্রে চাষিদের প্রতারিত করছে; এক মণ লবণকে ২৫ সের বলে মাপ দিচ্ছে।