০৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
শিশু নির্যাতনের তথ্য গোপন নাকি আইনের বাধ্যবাধকতা? ধর্মীয় স্বীকারোক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক নতুন সহযোগিতার দর্শন: বিভক্ত বিশ্বে টিকে থাকার একমাত্র পথ বিলুপ্তির দ্বার থেকে ফিরে সোনালি বানরের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন হরিয়ানায় এস আই আর, ফরম না দিলে বাদ পড়তে পারে নাম প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবায় সংকট, অপেক্ষার তালিকায় লাখো মানুষ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দিগন্ত, গড়ে উঠছে ২৫০ শয্যার আধুনিক শিক্ষণ হাসপাতাল আমেরিকার উপশহরে বয়স্কদের আধিপত্য, বদলে যাচ্ছে জনসংখ্যা ও আবাসনের চিত্র বিশ্বজুড়ে স্থানীয় কনটেন্টের জয়জয়কার, বদলে যাচ্ছে বিনোদনের মানচিত্র বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্থানীয় কনটেন্টের জনপ্রিয়তা, চাপে বৈশ্বিক বিনোদন আধিপত্য এশিয়ায় ডিম উৎপাদনের উত্থান, বাড়ছে প্রাণিকল্যাণ নিয়ে বিতর্ক

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৫৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
  • 145

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

শবাধার মাটিতে পোঁতা বা কবর দেবার রীতি

 মায়াদের মধ্যে শব বা শবাধার নিয়ে বিশেষ রীতি বা আচার ছিল। মায়াদের মধ্যে শবাধার কবর দেওয়া হত। এটা করা হত মৃতদেহকে সঙ্গে করে। প্রথম দিকের ক্লাসিক পর্বে জল-এর নানারকম চিত্রাঙ্কণ দেখা যায়। রিও আজুল বা নীল নদী জলের ঘেরাপথ দিয়ে আঁকা হয়েছে।

নিউ অরলিনস যাদুঘরে এরকমভাবে জলপাখি (Water bird)-র মাথা এবং গলা ভেসেলস (Vessel)- এর ঢাকনার উপর যেন ভেসে আছে। যেন জলের তলের উপর দিয়ে শিকার ধরার কায়দায় লাফ দিয়ে উঠতে চাইছে। শবাধারের চিত্রে (Funerary Vessel) ইবালবা (Xibalba)-র অধিবাসীদের দেখানো হয়েছে।

এইসব চিত্রের মধ্যে আদিবাসী ছাড়াও আছে জীবজন্তু এবং ছোট ছোট শীর্ণ হাড়জিরজিরে প্রাণী। এদের মধ্যে অনেক ইবালবার (Xibalba) দন্তহীন মুখও দেখা যায় এবং লক্ষ্যণীয় হল এদের মধ্যে কারো কারো ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জৈবিক আকার দেখা যায়।

এসব ক্ষেত্রে অবশ্য সবার মুখের উপর কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে চোখ ওপড়ানো সুতোয় বাঁধা অলংকার গায়ে পরে থাকে। অপরাধ জগতের প্রতিটি দেবতাকে পৃথক নামে ডাকা হয় এবং এগুলি নানারকম রোগের জন্য মৃত্যু বলে ভাবা হয়।

গুহার পবিত্র গোপনীয়তা: ২৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ প্রসারিত ক্লাসিক মায়া-সভ্যতা আমাদের কাছে হাজির করে তার গুহা স্থাপত্যের সৌন্দর্য। তার শান্ত গাম্ভীর্য সবাইকে অবাক করে দেয়। মায়া জনবসতির অনেক অঞ্চলে দেখা যায় বড় বড় সিঁড়ি মন্দিরের উঁচু মহল পর্যন্ত চলে গেছে। এইসঙ্গে পাথর কেটে লেখা মিনারগুলি  মায়াদের ঐতিহাসিক ঘটনা বিবৃত করছে।এইসব স্থাপত্য খচিত নির্মাণের মধ্যে রয়েছে ধর্ম। ধর্মীয় বিশ্বাস রীতি-আচারের নানা গল্প।

এইসব গুহা মায়াদের ঐসব অঞ্চলকে পবিত্র করে এই ধরনের বিশ্বাস মায়াদের মধ্যে এখনো কাজ করে। তথ্য শিলালিপি থেকে বোঝা গেছে ধর্মীয় নেতা বা কর্মকর্তারা এইসব গুহায় নানা ধরনের লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছিল। ঐতিহাসিক এবং নৃতাত্ত্বিক গবেষণা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় মায়াদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের বসতির পাশের গুহাগুলিতে নিয়মিতভাবে নানা ধরনের ধর্মীয় আচার পালন করত। নৃতাত্ত্বিকদের গবেষণা থেকে আরো জানা গেছে মায়াদের জনবসতিগুলি পবিত্র গুহার পাশেই গড়ে উঠেছিল।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৫)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৫)

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু নির্যাতনের তথ্য গোপন নাকি আইনের বাধ্যবাধকতা? ধর্মীয় স্বীকারোক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৬)

০৫:৫৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

শবাধার মাটিতে পোঁতা বা কবর দেবার রীতি

 মায়াদের মধ্যে শব বা শবাধার নিয়ে বিশেষ রীতি বা আচার ছিল। মায়াদের মধ্যে শবাধার কবর দেওয়া হত। এটা করা হত মৃতদেহকে সঙ্গে করে। প্রথম দিকের ক্লাসিক পর্বে জল-এর নানারকম চিত্রাঙ্কণ দেখা যায়। রিও আজুল বা নীল নদী জলের ঘেরাপথ দিয়ে আঁকা হয়েছে।

নিউ অরলিনস যাদুঘরে এরকমভাবে জলপাখি (Water bird)-র মাথা এবং গলা ভেসেলস (Vessel)- এর ঢাকনার উপর যেন ভেসে আছে। যেন জলের তলের উপর দিয়ে শিকার ধরার কায়দায় লাফ দিয়ে উঠতে চাইছে। শবাধারের চিত্রে (Funerary Vessel) ইবালবা (Xibalba)-র অধিবাসীদের দেখানো হয়েছে।

এইসব চিত্রের মধ্যে আদিবাসী ছাড়াও আছে জীবজন্তু এবং ছোট ছোট শীর্ণ হাড়জিরজিরে প্রাণী। এদের মধ্যে অনেক ইবালবার (Xibalba) দন্তহীন মুখও দেখা যায় এবং লক্ষ্যণীয় হল এদের মধ্যে কারো কারো ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জৈবিক আকার দেখা যায়।

এসব ক্ষেত্রে অবশ্য সবার মুখের উপর কালো দাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। অনেকে চোখ ওপড়ানো সুতোয় বাঁধা অলংকার গায়ে পরে থাকে। অপরাধ জগতের প্রতিটি দেবতাকে পৃথক নামে ডাকা হয় এবং এগুলি নানারকম রোগের জন্য মৃত্যু বলে ভাবা হয়।

গুহার পবিত্র গোপনীয়তা: ২৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ প্রসারিত ক্লাসিক মায়া-সভ্যতা আমাদের কাছে হাজির করে তার গুহা স্থাপত্যের সৌন্দর্য। তার শান্ত গাম্ভীর্য সবাইকে অবাক করে দেয়। মায়া জনবসতির অনেক অঞ্চলে দেখা যায় বড় বড় সিঁড়ি মন্দিরের উঁচু মহল পর্যন্ত চলে গেছে। এইসঙ্গে পাথর কেটে লেখা মিনারগুলি  মায়াদের ঐতিহাসিক ঘটনা বিবৃত করছে।এইসব স্থাপত্য খচিত নির্মাণের মধ্যে রয়েছে ধর্ম। ধর্মীয় বিশ্বাস রীতি-আচারের নানা গল্প।

এইসব গুহা মায়াদের ঐসব অঞ্চলকে পবিত্র করে এই ধরনের বিশ্বাস মায়াদের মধ্যে এখনো কাজ করে। তথ্য শিলালিপি থেকে বোঝা গেছে ধর্মীয় নেতা বা কর্মকর্তারা এইসব গুহায় নানা ধরনের লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছিল। ঐতিহাসিক এবং নৃতাত্ত্বিক গবেষণা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় মায়াদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের বসতির পাশের গুহাগুলিতে নিয়মিতভাবে নানা ধরনের ধর্মীয় আচার পালন করত। নৃতাত্ত্বিকদের গবেষণা থেকে আরো জানা গেছে মায়াদের জনবসতিগুলি পবিত্র গুহার পাশেই গড়ে উঠেছিল।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৫)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৫)