০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
এআই বনাম মানব মস্তিষ্ক: পরিসরে মিল, নকশায় মৌলিক পার্থক্য লন্ডনে আর্ডম্যান অ্যানিমেশনের জাদু: ওয়ালেস ও গ্রোমিট-এর রহস্যময় জগৎ উন্মোচিত এআই ভিডিও নিয়ে হলিউডে তীব্র বিতর্ক: ব্রাড পিট ও টম ক্রুজের ফাইট আসল সিনেমার মতো দেখাল কি! ফারাহ খান মুগ্ধ রণবীর আলাহবাদিয়ার বাড়ি দেখে: ‘পডকাস্ট করলে অ্যান্টিলিয়া কিনে ফেলা যায়’ নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট অ্যাইস মঞ্চে আনন্দের লহরী: অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী অ্যালিসা লিউয়ের দারুন নৃত্য ভাষা শিক্ষার পরিবর্তে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বাড়ানোর পথে চায়না রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু 

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৪)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪
  • 121
শশাঙ্ক মণ্ডল
 লবণ

তৃতীয় অধ্যায়

১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে বালিয়া লবণ চৌকির (তখনও বসিরহাট নামটি বহুল প্রচলিত হয়নি) ভারোগা ছিল শেখ কাসিমুদ্দিন। নেহালপুরে চোরাই লবণ উদ্ধারের ব্যাপারে বারাসত কোর্টে কেস হয় তাতে বাগুন্ডীর সল্ট সুপারের মোহরার ট্যাটরা নিবাসী মধুসুদন মিত্রের তিনমাসের জেল হয়। এ ব্যাপারে বারাসতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট রায় দেন লবণ দারোগারা সরাসরি আসামীকে বাড়ি থেকে ধরতে পারে না বা বাড়ির মধ্য থেকে লবণ উদ্ধার করা যাবে না।

থানার সাহায্য নিয়ে এটা করতে হবে। মধুসূদনের কেস আপিল করার আবেদন জানাচ্ছে বাগুন্ডীর লবণ চৌবিসমূহের সুপার H. L. Hamilton ২৮ শে ডিসেম্বর, ১৮৪৬। আপিলের আবেদনে সুগার মন্তব্য করছেন- ” A state of thing will arise in this district where almost all the land holders are by report directly or indirectly protecting manufacture or smuggling. (*)

বিভিন্ন জমিদার লবণ আইনকে অবহেলা করে কোম্পানির আয়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। জমিদাররা অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি কারবারের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। দেশীয় ব্যাপারী এবং ডিলাররা নানাধরনের অসাধু ব্যবসার সঙ্গে নিজেদেরকে যুক্ত করে ফেলেছে। নাপিত- খালিতে (বর্তমান সন্দেশখালি থানার কানমারি হাটখোলার নিকটে) কোম্পানির লবণ তৈরির একটা কেন্দ্র ছিল- এর সাজুনিয়া ব্রজমোহন সরকারের পুত্র শ্রীনাথ সরকারের কয়েক নৌকা লবণ হাসনাবাদের নিকটে ডাঁসা নদীতে ধরা পড়ে।

কৈফিয়ত হিসাবে বলা হল জোয়ারের জল ঢোকায় গোলা থেকে ঐ মাল সরকারী গোলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বিনা অনুমতিতে (৩২) তদন্তে সবটাই মিথ্যা বলে প্রমাণিত হল- শ্রীনাথ সরকার পরবর্তীকালের ধুতুরদহ এলাকার বিখ্যাত জমিদার। এই অসাধু ব্যবসার সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের যোগাযোগ থাকত। কম বেতনের কর্মচারী সামান্য অর্থ পেত সরকারের কাছ থেকে। ইংরেজ কর্মচারীদের সঙ্গে দেশীয় কর্মচারীদের বেতনের ফারাক ছিল দুস্তর আর এসব দেশীয় কর্মচারীদের সামনে ছিল লোভের আকর্ষণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই বনাম মানব মস্তিষ্ক: পরিসরে মিল, নকশায় মৌলিক পার্থক্য

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৪)

১২:০০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
 লবণ

তৃতীয় অধ্যায়

১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে বালিয়া লবণ চৌকির (তখনও বসিরহাট নামটি বহুল প্রচলিত হয়নি) ভারোগা ছিল শেখ কাসিমুদ্দিন। নেহালপুরে চোরাই লবণ উদ্ধারের ব্যাপারে বারাসত কোর্টে কেস হয় তাতে বাগুন্ডীর সল্ট সুপারের মোহরার ট্যাটরা নিবাসী মধুসুদন মিত্রের তিনমাসের জেল হয়। এ ব্যাপারে বারাসতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট রায় দেন লবণ দারোগারা সরাসরি আসামীকে বাড়ি থেকে ধরতে পারে না বা বাড়ির মধ্য থেকে লবণ উদ্ধার করা যাবে না।

থানার সাহায্য নিয়ে এটা করতে হবে। মধুসূদনের কেস আপিল করার আবেদন জানাচ্ছে বাগুন্ডীর লবণ চৌবিসমূহের সুপার H. L. Hamilton ২৮ শে ডিসেম্বর, ১৮৪৬। আপিলের আবেদনে সুগার মন্তব্য করছেন- ” A state of thing will arise in this district where almost all the land holders are by report directly or indirectly protecting manufacture or smuggling. (*)

বিভিন্ন জমিদার লবণ আইনকে অবহেলা করে কোম্পানির আয়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। জমিদাররা অনেক ক্ষেত্রে বেআইনি কারবারের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। দেশীয় ব্যাপারী এবং ডিলাররা নানাধরনের অসাধু ব্যবসার সঙ্গে নিজেদেরকে যুক্ত করে ফেলেছে। নাপিত- খালিতে (বর্তমান সন্দেশখালি থানার কানমারি হাটখোলার নিকটে) কোম্পানির লবণ তৈরির একটা কেন্দ্র ছিল- এর সাজুনিয়া ব্রজমোহন সরকারের পুত্র শ্রীনাথ সরকারের কয়েক নৌকা লবণ হাসনাবাদের নিকটে ডাঁসা নদীতে ধরা পড়ে।

কৈফিয়ত হিসাবে বলা হল জোয়ারের জল ঢোকায় গোলা থেকে ঐ মাল সরকারী গোলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বিনা অনুমতিতে (৩২) তদন্তে সবটাই মিথ্যা বলে প্রমাণিত হল- শ্রীনাথ সরকার পরবর্তীকালের ধুতুরদহ এলাকার বিখ্যাত জমিদার। এই অসাধু ব্যবসার সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের যোগাযোগ থাকত। কম বেতনের কর্মচারী সামান্য অর্থ পেত সরকারের কাছ থেকে। ইংরেজ কর্মচারীদের সঙ্গে দেশীয় কর্মচারীদের বেতনের ফারাক ছিল দুস্তর আর এসব দেশীয় কর্মচারীদের সামনে ছিল লোভের আকর্ষণ।