১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা, বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ ইসরায়েলি হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল, আহত জেইনাব ফারাজ বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে: এডিবি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, শান্তর সেঞ্চুরি ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত ইরানে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ: সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে জেনারেলদের দখল লেবানন–ইসরায়েল আলোচনা: শান্তির পথ নাকি জাতীয় আদর্শের সঙ্গে আপস? তীব্র তাপপ্রবাহে ভিক্টোরিয়ার উড়ন্ত শিয়াল বিপর্যয়, শত শত নয় হাজারো প্রাণ বাঁচাল জরুরি অভিযান হরমুজ প্রণালীতে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে ইরানের গর্ব

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৯)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 131
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

ভারতে নীল উৎপাদন অনেক প্রাচীন কাল থেকে হত বলে গ্রিসে ও রোমে এর নাম ‘ইন্ডিগো’ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বাংলাদেশে বিদেশি নীলকর সাহেবদের আবির্ভা? ঘটল-এরা ছিল সে যুগে দুর্ধর্ষ ভাগ্যান্বেষী। ঊনিশ শতকের ২ দশকের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে নীলচাষ শুরু হলেও সব চাইতে বেশি জমি নীলচাষের আওতায় এসেছিল যশোর নদীয়া ও আজকের ২৪ পরগনার পূর্বাঞ্চলে।

সুন্দরবনের দক্ষিণের জমি লবণাক্ত হওয়ায় এখানে নীলচাষ করা হত না কিন্তু সুন্দরবনের উত্তরাংশের জমিতে প্রচুর নীলচাষ হত সে যুগে। ইছামতী যমুনা কপোতাক্ষ নদীতীরে অসংখ্য নীলকুঠি গড়ে উঠেছিল। ১৭৭৭ খ্রীষ্টাব্দে লুই বল্লো নামে একজন ফরাসি গোন্দলপাড়াতে নীলচাষ করে প্রচুর সম্পদের মালিক হন।

পরবর্তীকালে বারাসতে মধুমুরালি পুকুরের পাশে তিনি নীলকুঠি স্থাপন করেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে ইংলন্ডে কার্পাস শিল্পের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমাদের দেশের নীলের চাহিদা ঐ শিল্পে বাড়তে থাকল। প্রথম থেকেই নীলচাষকে উৎসাহিত করার জন্য কোম্পানি অল্প সুদে নীলকর সাহেবদের টাকা ধার দিত। কোম্পানির পুরানো হিসাবপত্রে লক্ষ করা যায় ১৭৮৬- ১৮০৩ পর্যন্ত তারা এক কোটির ওপর টাকা নীলকর সাহেবদের অল্পসুদে অগ্রিম দিয়েছে।

এর কারণ হিসাবে কোম্পানি জানিয়েছিল-‘এই দ্রব্যটি আমাদের প্রভূত পরিমাণে লাভের উৎরূপে পরিগণিত হবে।’ ১৮১৪-১৬ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে বাংলার নীল বিশ্ববাজার দখল করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারিরা নীল চাষের অত্যধিক লাভ দেখে বিভিন্ন জায়গায় তারা কুঠি তৈরি করে নীল উৎপাদন শুরু করে দিল।

১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে Court of Directors নীল উৎপাদনে এই লাভ দেখে স্থির করলেন নীলকর সাহেবদের হাতে প্রচুর টাকা আছে- সুতরাং ওদেরকে আর সাহায্য দেবার প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও নীলকর সাহেবদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিন দিন বেড়ে চলল। পরবর্তীকালে অনেক দেশীয় জমিদার এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ল। দেবেন্দ্রনাথ তার আত্মজীবনীতে দ্বারকানাথ সম্পর্কে লিখেছেন-তখন তার হাতে হুগলি, পাবনা, রাজসাহী, কটক, মেদিনীপুর, রঙপুর, ত্রিপুরা প্রভৃতি জেলার বৃহৎ জমিদারি ও নীলের কুঠি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৯)

১২:০০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

ভারতে নীল উৎপাদন অনেক প্রাচীন কাল থেকে হত বলে গ্রিসে ও রোমে এর নাম ‘ইন্ডিগো’ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বাংলাদেশে বিদেশি নীলকর সাহেবদের আবির্ভা? ঘটল-এরা ছিল সে যুগে দুর্ধর্ষ ভাগ্যান্বেষী। ঊনিশ শতকের ২ দশকের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে নীলচাষ শুরু হলেও সব চাইতে বেশি জমি নীলচাষের আওতায় এসেছিল যশোর নদীয়া ও আজকের ২৪ পরগনার পূর্বাঞ্চলে।

সুন্দরবনের দক্ষিণের জমি লবণাক্ত হওয়ায় এখানে নীলচাষ করা হত না কিন্তু সুন্দরবনের উত্তরাংশের জমিতে প্রচুর নীলচাষ হত সে যুগে। ইছামতী যমুনা কপোতাক্ষ নদীতীরে অসংখ্য নীলকুঠি গড়ে উঠেছিল। ১৭৭৭ খ্রীষ্টাব্দে লুই বল্লো নামে একজন ফরাসি গোন্দলপাড়াতে নীলচাষ করে প্রচুর সম্পদের মালিক হন।

পরবর্তীকালে বারাসতে মধুমুরালি পুকুরের পাশে তিনি নীলকুঠি স্থাপন করেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে ইংলন্ডে কার্পাস শিল্পের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমাদের দেশের নীলের চাহিদা ঐ শিল্পে বাড়তে থাকল। প্রথম থেকেই নীলচাষকে উৎসাহিত করার জন্য কোম্পানি অল্প সুদে নীলকর সাহেবদের টাকা ধার দিত। কোম্পানির পুরানো হিসাবপত্রে লক্ষ করা যায় ১৭৮৬- ১৮০৩ পর্যন্ত তারা এক কোটির ওপর টাকা নীলকর সাহেবদের অল্পসুদে অগ্রিম দিয়েছে।

এর কারণ হিসাবে কোম্পানি জানিয়েছিল-‘এই দ্রব্যটি আমাদের প্রভূত পরিমাণে লাভের উৎরূপে পরিগণিত হবে।’ ১৮১৪-১৬ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে বাংলার নীল বিশ্ববাজার দখল করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারিরা নীল চাষের অত্যধিক লাভ দেখে বিভিন্ন জায়গায় তারা কুঠি তৈরি করে নীল উৎপাদন শুরু করে দিল।

১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে Court of Directors নীল উৎপাদনে এই লাভ দেখে স্থির করলেন নীলকর সাহেবদের হাতে প্রচুর টাকা আছে- সুতরাং ওদেরকে আর সাহায্য দেবার প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও নীলকর সাহেবদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিন দিন বেড়ে চলল। পরবর্তীকালে অনেক দেশীয় জমিদার এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ল। দেবেন্দ্রনাথ তার আত্মজীবনীতে দ্বারকানাথ সম্পর্কে লিখেছেন-তখন তার হাতে হুগলি, পাবনা, রাজসাহী, কটক, মেদিনীপুর, রঙপুর, ত্রিপুরা প্রভৃতি জেলার বৃহৎ জমিদারি ও নীলের কুঠি।’