০৬:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন বৈঠক, বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল বিজেপির ‘জেন জি’ প্রচারে কটাক্ষ, ‘ভাইরাস-ককরোচ’ মন্তব্য টেনে নিশানা সৌরভ দাসের ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম ঢাকার কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার, দূতাবাসে অর্থ দাবির ই-মেইল ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৮২ চুয়াডাঙ্গায় প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েব, স্বাক্ষর নিয়েও সার পেলেন না কৃষকরা গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকেরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৯)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 166
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

ভারতে নীল উৎপাদন অনেক প্রাচীন কাল থেকে হত বলে গ্রিসে ও রোমে এর নাম ‘ইন্ডিগো’ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বাংলাদেশে বিদেশি নীলকর সাহেবদের আবির্ভা? ঘটল-এরা ছিল সে যুগে দুর্ধর্ষ ভাগ্যান্বেষী। ঊনিশ শতকের ২ দশকের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে নীলচাষ শুরু হলেও সব চাইতে বেশি জমি নীলচাষের আওতায় এসেছিল যশোর নদীয়া ও আজকের ২৪ পরগনার পূর্বাঞ্চলে।

সুন্দরবনের দক্ষিণের জমি লবণাক্ত হওয়ায় এখানে নীলচাষ করা হত না কিন্তু সুন্দরবনের উত্তরাংশের জমিতে প্রচুর নীলচাষ হত সে যুগে। ইছামতী যমুনা কপোতাক্ষ নদীতীরে অসংখ্য নীলকুঠি গড়ে উঠেছিল। ১৭৭৭ খ্রীষ্টাব্দে লুই বল্লো নামে একজন ফরাসি গোন্দলপাড়াতে নীলচাষ করে প্রচুর সম্পদের মালিক হন।

পরবর্তীকালে বারাসতে মধুমুরালি পুকুরের পাশে তিনি নীলকুঠি স্থাপন করেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে ইংলন্ডে কার্পাস শিল্পের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমাদের দেশের নীলের চাহিদা ঐ শিল্পে বাড়তে থাকল। প্রথম থেকেই নীলচাষকে উৎসাহিত করার জন্য কোম্পানি অল্প সুদে নীলকর সাহেবদের টাকা ধার দিত। কোম্পানির পুরানো হিসাবপত্রে লক্ষ করা যায় ১৭৮৬- ১৮০৩ পর্যন্ত তারা এক কোটির ওপর টাকা নীলকর সাহেবদের অল্পসুদে অগ্রিম দিয়েছে।

এর কারণ হিসাবে কোম্পানি জানিয়েছিল-‘এই দ্রব্যটি আমাদের প্রভূত পরিমাণে লাভের উৎরূপে পরিগণিত হবে।’ ১৮১৪-১৬ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে বাংলার নীল বিশ্ববাজার দখল করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারিরা নীল চাষের অত্যধিক লাভ দেখে বিভিন্ন জায়গায় তারা কুঠি তৈরি করে নীল উৎপাদন শুরু করে দিল।

১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে Court of Directors নীল উৎপাদনে এই লাভ দেখে স্থির করলেন নীলকর সাহেবদের হাতে প্রচুর টাকা আছে- সুতরাং ওদেরকে আর সাহায্য দেবার প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও নীলকর সাহেবদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিন দিন বেড়ে চলল। পরবর্তীকালে অনেক দেশীয় জমিদার এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ল। দেবেন্দ্রনাথ তার আত্মজীবনীতে দ্বারকানাথ সম্পর্কে লিখেছেন-তখন তার হাতে হুগলি, পাবনা, রাজসাহী, কটক, মেদিনীপুর, রঙপুর, ত্রিপুরা প্রভৃতি জেলার বৃহৎ জমিদারি ও নীলের কুঠি।’

জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৯)

১২:০০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
নীল

তৃতীয় অধ্যায়

ভারতে নীল উৎপাদন অনেক প্রাচীন কাল থেকে হত বলে গ্রিসে ও রোমে এর নাম ‘ইন্ডিগো’ অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বাংলাদেশে বিদেশি নীলকর সাহেবদের আবির্ভা? ঘটল-এরা ছিল সে যুগে দুর্ধর্ষ ভাগ্যান্বেষী। ঊনিশ শতকের ২ দশকের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে নীলচাষ শুরু হলেও সব চাইতে বেশি জমি নীলচাষের আওতায় এসেছিল যশোর নদীয়া ও আজকের ২৪ পরগনার পূর্বাঞ্চলে।

সুন্দরবনের দক্ষিণের জমি লবণাক্ত হওয়ায় এখানে নীলচাষ করা হত না কিন্তু সুন্দরবনের উত্তরাংশের জমিতে প্রচুর নীলচাষ হত সে যুগে। ইছামতী যমুনা কপোতাক্ষ নদীতীরে অসংখ্য নীলকুঠি গড়ে উঠেছিল। ১৭৭৭ খ্রীষ্টাব্দে লুই বল্লো নামে একজন ফরাসি গোন্দলপাড়াতে নীলচাষ করে প্রচুর সম্পদের মালিক হন।

পরবর্তীকালে বারাসতে মধুমুরালি পুকুরের পাশে তিনি নীলকুঠি স্থাপন করেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে ইংলন্ডে কার্পাস শিল্পের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমাদের দেশের নীলের চাহিদা ঐ শিল্পে বাড়তে থাকল। প্রথম থেকেই নীলচাষকে উৎসাহিত করার জন্য কোম্পানি অল্প সুদে নীলকর সাহেবদের টাকা ধার দিত। কোম্পানির পুরানো হিসাবপত্রে লক্ষ করা যায় ১৭৮৬- ১৮০৩ পর্যন্ত তারা এক কোটির ওপর টাকা নীলকর সাহেবদের অল্পসুদে অগ্রিম দিয়েছে।

এর কারণ হিসাবে কোম্পানি জানিয়েছিল-‘এই দ্রব্যটি আমাদের প্রভূত পরিমাণে লাভের উৎরূপে পরিগণিত হবে।’ ১৮১৪-১৬ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে বাংলার নীল বিশ্ববাজার দখল করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারিরা নীল চাষের অত্যধিক লাভ দেখে বিভিন্ন জায়গায় তারা কুঠি তৈরি করে নীল উৎপাদন শুরু করে দিল।

১৮০২ খ্রীষ্টাব্দে Court of Directors নীল উৎপাদনে এই লাভ দেখে স্থির করলেন নীলকর সাহেবদের হাতে প্রচুর টাকা আছে- সুতরাং ওদেরকে আর সাহায্য দেবার প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও নীলকর সাহেবদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দিন দিন বেড়ে চলল। পরবর্তীকালে অনেক দেশীয় জমিদার এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ল। দেবেন্দ্রনাথ তার আত্মজীবনীতে দ্বারকানাথ সম্পর্কে লিখেছেন-তখন তার হাতে হুগলি, পাবনা, রাজসাহী, কটক, মেদিনীপুর, রঙপুর, ত্রিপুরা প্রভৃতি জেলার বৃহৎ জমিদারি ও নীলের কুঠি।’