০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা, বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ ইসরায়েলি হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল, আহত জেইনাব ফারাজ বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে: এডিবি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, শান্তর সেঞ্চুরি ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত ইরানে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ: সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে জেনারেলদের দখল লেবানন–ইসরায়েল আলোচনা: শান্তির পথ নাকি জাতীয় আদর্শের সঙ্গে আপস? তীব্র তাপপ্রবাহে ভিক্টোরিয়ার উড়ন্ত শিয়াল বিপর্যয়, শত শত নয় হাজারো প্রাণ বাঁচাল জরুরি অভিযান হরমুজ প্রণালীতে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে ইরানের গর্ব

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪
  • 120
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

গুড়ের মরশুমে কোটচাঁদপুর, কেশবপুর এই দুটি গঞ্জে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার মণ গুড় বিক্রয় হত। দূরদূরান্ত থেকে এক হাজারের উপর গোরুর গাড়ি এসে ভিড় করত। এসব এলাকায় গুড় থেকে যে চিনি উৎপাদিত হত তার একটা বড় অংশ নৌকার সাহায্যে কলকাতায় চালাট্ট দেওয়া হত।

আর বাকি অংশ চলে যেত বাখরগঞ্জ নলচিতি ঝালকাটিতে-ওখান থেকে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেলায় চিনি সরবরাহ করা হত। কোটচাঁদপুরে-বছরে ১ লক্ষ মণ চিনি উৎপন্ন হত যার আর্থিকমূল্য ছিল উনিশ শতকের শেষে ৬ লক্ষ টাকা। সমগ্র যশোরজেলার ১/৪ অংশ চিনি কোটচাঁদপুরে উৎপন্ন হত (৩৯)। কলকাতার বড় বড় ব্যবসায়ীদের এজেন্টরা এখানে মাল কিনত- বণিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন-বংশীবদন সাধুখাঁ, গুরুদাস বসু।

কপোতাক্ষ নদীতীরে অবস্থিত যশোরের আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি শিল্পের কেন্দ্র চৌগাছা। এর আশেপাশে প্রচুর চিনি উৎপাদিত হত। যশোরের ঝিঙেগাছা গুড় সংগহের একটা বড় কেন্দ্র ছিল সে যুগে। ১৮৭১ সালে এখানে ৩/৪টি চিনির কারখানা ছিল। এখানকার চিনি স্থলপথে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুরে রপ্তানি হত।

যশোর জেলার আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি ও গুড়ের হাট ছিল কেশবপুর। কলকাতায় অনেক বড় ব্যবসায়ী এখানে চিনি কিনতেন। এই হাটের একটা রাস্তার নাম ছিল কলকাতা পট্রা। কেশবপুর থেকে স্থলপথে ত্রিমোহনী পর্যন্ত মাল নিয়ে সেখান থেকে চিনি গুড় কলকাতার স্টীমারে পাঠানো হত। অনেক সময় কেশবপুর থেকে দেশি নৌকায় জলপথে মাল কলকাতায় পাঠানো হত। সমগ্র যশোর জেলায় চিনি শিল্প উনিশ শতকের শেষে একটি প্রধান শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামের গরিব চাষি পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ পেত। যশোর জেলার ক্ষেত্রে Westland তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে ৬/৭ লক্ষ টাকা এভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে বন্টিত হত।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৮)

১২:০০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

গুড়ের মরশুমে কোটচাঁদপুর, কেশবপুর এই দুটি গঞ্জে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার মণ গুড় বিক্রয় হত। দূরদূরান্ত থেকে এক হাজারের উপর গোরুর গাড়ি এসে ভিড় করত। এসব এলাকায় গুড় থেকে যে চিনি উৎপাদিত হত তার একটা বড় অংশ নৌকার সাহায্যে কলকাতায় চালাট্ট দেওয়া হত।

আর বাকি অংশ চলে যেত বাখরগঞ্জ নলচিতি ঝালকাটিতে-ওখান থেকে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেলায় চিনি সরবরাহ করা হত। কোটচাঁদপুরে-বছরে ১ লক্ষ মণ চিনি উৎপন্ন হত যার আর্থিকমূল্য ছিল উনিশ শতকের শেষে ৬ লক্ষ টাকা। সমগ্র যশোরজেলার ১/৪ অংশ চিনি কোটচাঁদপুরে উৎপন্ন হত (৩৯)। কলকাতার বড় বড় ব্যবসায়ীদের এজেন্টরা এখানে মাল কিনত- বণিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন-বংশীবদন সাধুখাঁ, গুরুদাস বসু।

কপোতাক্ষ নদীতীরে অবস্থিত যশোরের আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি শিল্পের কেন্দ্র চৌগাছা। এর আশেপাশে প্রচুর চিনি উৎপাদিত হত। যশোরের ঝিঙেগাছা গুড় সংগহের একটা বড় কেন্দ্র ছিল সে যুগে। ১৮৭১ সালে এখানে ৩/৪টি চিনির কারখানা ছিল। এখানকার চিনি স্থলপথে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুরে রপ্তানি হত।

যশোর জেলার আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি ও গুড়ের হাট ছিল কেশবপুর। কলকাতায় অনেক বড় ব্যবসায়ী এখানে চিনি কিনতেন। এই হাটের একটা রাস্তার নাম ছিল কলকাতা পট্রা। কেশবপুর থেকে স্থলপথে ত্রিমোহনী পর্যন্ত মাল নিয়ে সেখান থেকে চিনি গুড় কলকাতার স্টীমারে পাঠানো হত। অনেক সময় কেশবপুর থেকে দেশি নৌকায় জলপথে মাল কলকাতায় পাঠানো হত। সমগ্র যশোর জেলায় চিনি শিল্প উনিশ শতকের শেষে একটি প্রধান শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামের গরিব চাষি পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ পেত। যশোর জেলার ক্ষেত্রে Westland তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে ৬/৭ লক্ষ টাকা এভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে বন্টিত হত।