০৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কেন চাইবে যুক্তরাষ্ট্র? পপকর্নের সুগন্ধ যুক্ত জেন-এডিটেড টমেটো উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা যখন হাঙ্গেরিতে প্রাচীন রোমের স্বাদ এআই বনাম মানব মস্তিষ্ক: পরিসরে মিল, নকশায় মৌলিক পার্থক্য লন্ডনে আর্ডম্যান অ্যানিমেশনের জাদু: ওয়ালেস ও গ্রোমিট-এর রহস্যময় জগৎ উন্মোচিত এআই ভিডিও নিয়ে হলিউডে তীব্র বিতর্ক: ব্রাড পিট ও টম ক্রুজের ফাইট আসল সিনেমার মতো দেখাল কি! ফারাহ খান মুগ্ধ রণবীর আলাহবাদিয়ার বাড়ি দেখে: ‘পডকাস্ট করলে অ্যান্টিলিয়া কিনে ফেলা যায়’ নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট অ্যাইস মঞ্চে আনন্দের লহরী: অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী অ্যালিসা লিউয়ের দারুন নৃত্য ভাষা শিক্ষার পরিবর্তে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বাড়ানোর পথে চায়না

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪
  • 102
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

গুড়ের মরশুমে কোটচাঁদপুর, কেশবপুর এই দুটি গঞ্জে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার মণ গুড় বিক্রয় হত। দূরদূরান্ত থেকে এক হাজারের উপর গোরুর গাড়ি এসে ভিড় করত। এসব এলাকায় গুড় থেকে যে চিনি উৎপাদিত হত তার একটা বড় অংশ নৌকার সাহায্যে কলকাতায় চালাট্ট দেওয়া হত।

আর বাকি অংশ চলে যেত বাখরগঞ্জ নলচিতি ঝালকাটিতে-ওখান থেকে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেলায় চিনি সরবরাহ করা হত। কোটচাঁদপুরে-বছরে ১ লক্ষ মণ চিনি উৎপন্ন হত যার আর্থিকমূল্য ছিল উনিশ শতকের শেষে ৬ লক্ষ টাকা। সমগ্র যশোরজেলার ১/৪ অংশ চিনি কোটচাঁদপুরে উৎপন্ন হত (৩৯)। কলকাতার বড় বড় ব্যবসায়ীদের এজেন্টরা এখানে মাল কিনত- বণিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন-বংশীবদন সাধুখাঁ, গুরুদাস বসু।

কপোতাক্ষ নদীতীরে অবস্থিত যশোরের আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি শিল্পের কেন্দ্র চৌগাছা। এর আশেপাশে প্রচুর চিনি উৎপাদিত হত। যশোরের ঝিঙেগাছা গুড় সংগহের একটা বড় কেন্দ্র ছিল সে যুগে। ১৮৭১ সালে এখানে ৩/৪টি চিনির কারখানা ছিল। এখানকার চিনি স্থলপথে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুরে রপ্তানি হত।

যশোর জেলার আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি ও গুড়ের হাট ছিল কেশবপুর। কলকাতায় অনেক বড় ব্যবসায়ী এখানে চিনি কিনতেন। এই হাটের একটা রাস্তার নাম ছিল কলকাতা পট্রা। কেশবপুর থেকে স্থলপথে ত্রিমোহনী পর্যন্ত মাল নিয়ে সেখান থেকে চিনি গুড় কলকাতার স্টীমারে পাঠানো হত। অনেক সময় কেশবপুর থেকে দেশি নৌকায় জলপথে মাল কলকাতায় পাঠানো হত। সমগ্র যশোর জেলায় চিনি শিল্প উনিশ শতকের শেষে একটি প্রধান শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামের গরিব চাষি পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ পেত। যশোর জেলার ক্ষেত্রে Westland তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে ৬/৭ লক্ষ টাকা এভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে বন্টিত হত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কেন চাইবে যুক্তরাষ্ট্র?

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৬৮)

১২:০০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

গুড়ের মরশুমে কোটচাঁদপুর, কেশবপুর এই দুটি গঞ্জে প্রতিদিন ৪/৫ হাজার মণ গুড় বিক্রয় হত। দূরদূরান্ত থেকে এক হাজারের উপর গোরুর গাড়ি এসে ভিড় করত। এসব এলাকায় গুড় থেকে যে চিনি উৎপাদিত হত তার একটা বড় অংশ নৌকার সাহায্যে কলকাতায় চালাট্ট দেওয়া হত।

আর বাকি অংশ চলে যেত বাখরগঞ্জ নলচিতি ঝালকাটিতে-ওখান থেকে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেলায় চিনি সরবরাহ করা হত। কোটচাঁদপুরে-বছরে ১ লক্ষ মণ চিনি উৎপন্ন হত যার আর্থিকমূল্য ছিল উনিশ শতকের শেষে ৬ লক্ষ টাকা। সমগ্র যশোরজেলার ১/৪ অংশ চিনি কোটচাঁদপুরে উৎপন্ন হত (৩৯)। কলকাতার বড় বড় ব্যবসায়ীদের এজেন্টরা এখানে মাল কিনত- বণিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন-বংশীবদন সাধুখাঁ, গুরুদাস বসু।

কপোতাক্ষ নদীতীরে অবস্থিত যশোরের আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি শিল্পের কেন্দ্র চৌগাছা। এর আশেপাশে প্রচুর চিনি উৎপাদিত হত। যশোরের ঝিঙেগাছা গুড় সংগহের একটা বড় কেন্দ্র ছিল সে যুগে। ১৮৭১ সালে এখানে ৩/৪টি চিনির কারখানা ছিল। এখানকার চিনি স্থলপথে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুরে রপ্তানি হত।

যশোর জেলার আর একটি উল্লেখযোগ্য চিনি ও গুড়ের হাট ছিল কেশবপুর। কলকাতায় অনেক বড় ব্যবসায়ী এখানে চিনি কিনতেন। এই হাটের একটা রাস্তার নাম ছিল কলকাতা পট্রা। কেশবপুর থেকে স্থলপথে ত্রিমোহনী পর্যন্ত মাল নিয়ে সেখান থেকে চিনি গুড় কলকাতার স্টীমারে পাঠানো হত। অনেক সময় কেশবপুর থেকে দেশি নৌকায় জলপথে মাল কলকাতায় পাঠানো হত। সমগ্র যশোর জেলায় চিনি শিল্প উনিশ শতকের শেষে একটি প্রধান শিল্প হিসেবে গড়ে উঠেছিল।

চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে গ্রামের গরিব চাষি পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আয়ের সুযোগ পেত। যশোর জেলার ক্ষেত্রে Westland তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন চিনি গুড় শিল্পের মধ্য দিয়ে ৬/৭ লক্ষ টাকা এভাবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে বন্টিত হত।