১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কেন চাইবে যুক্তরাষ্ট্র? পপকর্নের সুগন্ধ যুক্ত জেন-এডিটেড টমেটো উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা যখন হাঙ্গেরিতে প্রাচীন রোমের স্বাদ এআই বনাম মানব মস্তিষ্ক: পরিসরে মিল, নকশায় মৌলিক পার্থক্য লন্ডনে আর্ডম্যান অ্যানিমেশনের জাদু: ওয়ালেস ও গ্রোমিট-এর রহস্যময় জগৎ উন্মোচিত এআই ভিডিও নিয়ে হলিউডে তীব্র বিতর্ক: ব্রাড পিট ও টম ক্রুজের ফাইট আসল সিনেমার মতো দেখাল কি! ফারাহ খান মুগ্ধ রণবীর আলাহবাদিয়ার বাড়ি দেখে: ‘পডকাস্ট করলে অ্যান্টিলিয়া কিনে ফেলা যায়’ নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট অ্যাইস মঞ্চে আনন্দের লহরী: অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী অ্যালিসা লিউয়ের দারুন নৃত্য ভাষা শিক্ষার পরিবর্তে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বাড়ানোর পথে চায়না

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৭০)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪
  • 113
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে কার্তিক বসুর উদ্যোগে বসিরহাট মৈত্র বাগানে চিনির কল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই উন্নত চিনি কলের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে চাষিদের আখ তৈরি করার জন্য উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার অবস্থাপন্ন চাষিদের অগ্রিম দাদন দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আখের অভাবে চিনি কলটি বন্ধ করে দিতে হয়।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে থেকে বিদেশি চিনি বেশি বেশি করে আমাদের দেশে আমদানি হতে থাকে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক চিনি কলগুলির মাল বাজারে আসতে থাকায় দেশীয় চিনি প্রতিযোগিতায় পিছু হটতে থাকে।

ভূতিমধ্যে কৃষির প্রয়োজনে পরির তামি উদ্ধার করে কৃষিযোগ্য করা শুরু হয়। অন্যান্য বাণিজিক – কৃষির চাহিদা বাড়তে থাকে। জমিতে এসব ফসল ফলানোর প্রয়োজনে খেজুর গাছ কম বেশিি রঙের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করে। চাষিরা আখের চাইতে পাট চাষের আর্থিক বলাতের কথা বিবেচনা করে বেশি বেশি করে জমিতে পাট চাষ শুরু করে।

দেশীয় চিনি কারখানাগুলি বন্ধ হবার ফলে চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করার দিকে মনোনিবেশ করে। এক্ষেত্রে চাকীর ভাদলির সুনাম সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতার বাজারে এর চাহিদা বাড়ে। টাকী- – রাজিপুর জালালপুর শাঁকচূড়া, রামেশ্বরপুর, বরুণহাট, আমলানি, মাখালগাছা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ■ এলাকা জুড়ে শীতের সময় চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করত এবং তাদের কিছু অতিরিক্ত অর্থের এ সংস্থান ঘটত এই শিল্পের মধ্য দিয়ে।

জয়নগর মজিলপুর, বারুইপুর এলাকার খেজুরের নলেন গুড় ও খই মিশিয়ে মোয়া ধীরে ধীরে একটা শিল্প হিসাবে গড়ে ওঠে। এভাবে ‘জয়নগরের মোয়া’ কলকাতার বাজার দখল করে। জয়নগরের মোয়া এবং পাটালিকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে এই এলাকায় তা আমরা লক্ষ করি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কেন চাইবে যুক্তরাষ্ট্র?

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৭০)

১২:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে কার্তিক বসুর উদ্যোগে বসিরহাট মৈত্র বাগানে চিনির কল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই উন্নত চিনি কলের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে চাষিদের আখ তৈরি করার জন্য উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার অবস্থাপন্ন চাষিদের অগ্রিম দাদন দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আখের অভাবে চিনি কলটি বন্ধ করে দিতে হয়।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে থেকে বিদেশি চিনি বেশি বেশি করে আমাদের দেশে আমদানি হতে থাকে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক চিনি কলগুলির মাল বাজারে আসতে থাকায় দেশীয় চিনি প্রতিযোগিতায় পিছু হটতে থাকে।

ভূতিমধ্যে কৃষির প্রয়োজনে পরির তামি উদ্ধার করে কৃষিযোগ্য করা শুরু হয়। অন্যান্য বাণিজিক – কৃষির চাহিদা বাড়তে থাকে। জমিতে এসব ফসল ফলানোর প্রয়োজনে খেজুর গাছ কম বেশিি রঙের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করে। চাষিরা আখের চাইতে পাট চাষের আর্থিক বলাতের কথা বিবেচনা করে বেশি বেশি করে জমিতে পাট চাষ শুরু করে।

দেশীয় চিনি কারখানাগুলি বন্ধ হবার ফলে চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করার দিকে মনোনিবেশ করে। এক্ষেত্রে চাকীর ভাদলির সুনাম সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতার বাজারে এর চাহিদা বাড়ে। টাকী- – রাজিপুর জালালপুর শাঁকচূড়া, রামেশ্বরপুর, বরুণহাট, আমলানি, মাখালগাছা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ■ এলাকা জুড়ে শীতের সময় চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করত এবং তাদের কিছু অতিরিক্ত অর্থের এ সংস্থান ঘটত এই শিল্পের মধ্য দিয়ে।

জয়নগর মজিলপুর, বারুইপুর এলাকার খেজুরের নলেন গুড় ও খই মিশিয়ে মোয়া ধীরে ধীরে একটা শিল্প হিসাবে গড়ে ওঠে। এভাবে ‘জয়নগরের মোয়া’ কলকাতার বাজার দখল করে। জয়নগরের মোয়া এবং পাটালিকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে এই এলাকায় তা আমরা লক্ষ করি।