০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা, বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ ইসরায়েলি হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল, আহত জেইনাব ফারাজ বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে: এডিবি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, শান্তর সেঞ্চুরি ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত ইরানে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ: সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে জেনারেলদের দখল লেবানন–ইসরায়েল আলোচনা: শান্তির পথ নাকি জাতীয় আদর্শের সঙ্গে আপস? তীব্র তাপপ্রবাহে ভিক্টোরিয়ার উড়ন্ত শিয়াল বিপর্যয়, শত শত নয় হাজারো প্রাণ বাঁচাল জরুরি অভিযান হরমুজ প্রণালীতে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে ইরানের গর্ব

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৭০)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪
  • 129
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে কার্তিক বসুর উদ্যোগে বসিরহাট মৈত্র বাগানে চিনির কল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই উন্নত চিনি কলের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে চাষিদের আখ তৈরি করার জন্য উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার অবস্থাপন্ন চাষিদের অগ্রিম দাদন দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আখের অভাবে চিনি কলটি বন্ধ করে দিতে হয়।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে থেকে বিদেশি চিনি বেশি বেশি করে আমাদের দেশে আমদানি হতে থাকে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক চিনি কলগুলির মাল বাজারে আসতে থাকায় দেশীয় চিনি প্রতিযোগিতায় পিছু হটতে থাকে।

ভূতিমধ্যে কৃষির প্রয়োজনে পরির তামি উদ্ধার করে কৃষিযোগ্য করা শুরু হয়। অন্যান্য বাণিজিক – কৃষির চাহিদা বাড়তে থাকে। জমিতে এসব ফসল ফলানোর প্রয়োজনে খেজুর গাছ কম বেশিি রঙের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করে। চাষিরা আখের চাইতে পাট চাষের আর্থিক বলাতের কথা বিবেচনা করে বেশি বেশি করে জমিতে পাট চাষ শুরু করে।

দেশীয় চিনি কারখানাগুলি বন্ধ হবার ফলে চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করার দিকে মনোনিবেশ করে। এক্ষেত্রে চাকীর ভাদলির সুনাম সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতার বাজারে এর চাহিদা বাড়ে। টাকী- – রাজিপুর জালালপুর শাঁকচূড়া, রামেশ্বরপুর, বরুণহাট, আমলানি, মাখালগাছা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ■ এলাকা জুড়ে শীতের সময় চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করত এবং তাদের কিছু অতিরিক্ত অর্থের এ সংস্থান ঘটত এই শিল্পের মধ্য দিয়ে।

জয়নগর মজিলপুর, বারুইপুর এলাকার খেজুরের নলেন গুড় ও খই মিশিয়ে মোয়া ধীরে ধীরে একটা শিল্প হিসাবে গড়ে ওঠে। এভাবে ‘জয়নগরের মোয়া’ কলকাতার বাজার দখল করে। জয়নগরের মোয়া এবং পাটালিকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে এই এলাকায় তা আমরা লক্ষ করি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৭০)

১২:০০:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
চিনি গুড় শিল্প

তৃতীয় অধ্যায়

১৯৩১ খ্রীষ্টাব্দে কার্তিক বসুর উদ্যোগে বসিরহাট মৈত্র বাগানে চিনির কল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই উন্নত চিনি কলের জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে চাষিদের আখ তৈরি করার জন্য উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার অবস্থাপন্ন চাষিদের অগ্রিম দাদন দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আখের অভাবে চিনি কলটি বন্ধ করে দিতে হয়।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে থেকে বিদেশি চিনি বেশি বেশি করে আমাদের দেশে আমদানি হতে থাকে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক চিনি কলগুলির মাল বাজারে আসতে থাকায় দেশীয় চিনি প্রতিযোগিতায় পিছু হটতে থাকে।

ভূতিমধ্যে কৃষির প্রয়োজনে পরির তামি উদ্ধার করে কৃষিযোগ্য করা শুরু হয়। অন্যান্য বাণিজিক – কৃষির চাহিদা বাড়তে থাকে। জমিতে এসব ফসল ফলানোর প্রয়োজনে খেজুর গাছ কম বেশিি রঙের উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমতে শুরু করে। চাষিরা আখের চাইতে পাট চাষের আর্থিক বলাতের কথা বিবেচনা করে বেশি বেশি করে জমিতে পাট চাষ শুরু করে।

দেশীয় চিনি কারখানাগুলি বন্ধ হবার ফলে চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করার দিকে মনোনিবেশ করে। এক্ষেত্রে চাকীর ভাদলির সুনাম সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতার বাজারে এর চাহিদা বাড়ে। টাকী- – রাজিপুর জালালপুর শাঁকচূড়া, রামেশ্বরপুর, বরুণহাট, আমলানি, মাখালগাছা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ■ এলাকা জুড়ে শীতের সময় চাষিরা গুড় থেকে পাটালি করত এবং তাদের কিছু অতিরিক্ত অর্থের এ সংস্থান ঘটত এই শিল্পের মধ্য দিয়ে।

জয়নগর মজিলপুর, বারুইপুর এলাকার খেজুরের নলেন গুড় ও খই মিশিয়ে মোয়া ধীরে ধীরে একটা শিল্প হিসাবে গড়ে ওঠে। এভাবে ‘জয়নগরের মোয়া’ কলকাতার বাজার দখল করে। জয়নগরের মোয়া এবং পাটালিকে কেন্দ্র করে অনেক মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে এই এলাকায় তা আমরা লক্ষ করি।