০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান, আজ আসছে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নজরদারিতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০৮)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪
  • 110

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি নন্দ কুমারকে দেওয়ানী দেওয়া দূরে থাকুক, তাঁহাকে কলিকাতা হইতে নির্ব্বাসিত করিবার জন্য চেষ্টা করিতে লাগিলেন। ক্লাইব মহম্মদ রেজা খাঁকেই নায়েব সুবার পদ প্রদান করিয়া জগৎশেঠ ও দুর্লভরামকে তাঁহার সাহায্যের জন্ম নিযুক্ত করিলেন। ভান্সিটার্টের লিখিত বিবরণে বিশ্বাস করিয়া ক্লাইং মনে করিয়াছিলেন যে, পাছে আবার নন্দকুমার বাদশাহ ও ফরাসীদের সহিত মন্ত্রণা করেন, তজ্জন্য তিনি তাঁহাকে কলি- কাতা হইতে স্থানান্তরিত করিয়া চট্টগ্রামে পাঠাইতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন।

এই সংবাদ শ্রবণে নন্দকুমারের পরিবারের মধ্যে এক বিষাদকোলাহল উপস্থিত হয়; নন্দকুমারও ভীত হইয়া পড়েন। সৌভাগ্যক্রমে একটিমাত্র কারণে তিনি সে যাত্রা নিষ্কৃতি লাভ করিতে সমর্থ হন। রাজা নবকৃষ্ণ কাউন্সিলের সভ্যদিগকে বলিয়াছিলেন যে, নন্দকুমারের চায় ষড়যন্ত্রকারী লোককে চট্টগ্রামের ন্যায় দূর দেশে পাঠাইলে, ভবিষ্যতে নানারূপ গোলযোগ ঘাঁটতে পারে। অতএব তাঁহাকে প্রহরিবেষ্টিত করিয়া কলিকাতাতে রাখাই আবশ্যক।

নবকৃষ্ণের সেই পরামর্শানুসারে ক্লাইব প্রভৃতি তাঁহাকে চট্টগ্রামে না পাঠাইয়া কলি- কাতায় প্রহরিবেষ্টিত করিয়া রাখেন। ইহাতে তাঁহার প্রতি নবকৃষ্ণের কিরূপ ভাব ছিল, তাহা সকলেই সুস্পষ্টরূপে বুঝিতে পারি- তেছেন। তাহার পর নন্দকুমার অব্যাহতি পাইয়াছিলেন। কোম্পানী বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করিলে, ক্লাইব মহম্মদ রেজা- ঝাঁকে নায়েব দেওয়ান নিযুক্ত করিলেন। পূর্ব্বে তিনি নায়েব সুবা হইয়া- ছিলেন; এক্ষণে আবার নায়েব দেওয়ান হইয়া বাঙ্গলার সর্ব্বেসর্ব্বা হইয়া উঠিলেন। তৎকালে নন্দকুমার ও মহম্মদ রেজা খাঁ উভয়েই উভয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

নন্দকুমার যেমন হিন্দুসমাজের নেতা ছিলেন, মহম্মদ রেজা খাঁও সেইরূপ মুসলমানসমাজে নেতৃত্ব করিতেন। এই দুইজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবশেষে বঙ্গদেশে ভয়ানক গোলযোগ উপস্থিত হয়। মহম্মদ রেজা খাঁ বাঙ্গলার সর্ব্বময় কর্তা হইয়া দেশে যেরূপ অরাজকতার প্রাদুর্ভাব বাড়াইয়াছিলেন, তাহা বঙ্গবাসিমাত্রেই অবগত আছেন। তাঁহার সেই অত্যাচারের ফল বঙ্গের করাল দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের নিদারুণ হাহাকার! আমরা পরে সে কথার উল্লেখ করিব।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২০৮)

১১:০০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

তিনি নন্দ কুমারকে দেওয়ানী দেওয়া দূরে থাকুক, তাঁহাকে কলিকাতা হইতে নির্ব্বাসিত করিবার জন্য চেষ্টা করিতে লাগিলেন। ক্লাইব মহম্মদ রেজা খাঁকেই নায়েব সুবার পদ প্রদান করিয়া জগৎশেঠ ও দুর্লভরামকে তাঁহার সাহায্যের জন্ম নিযুক্ত করিলেন। ভান্সিটার্টের লিখিত বিবরণে বিশ্বাস করিয়া ক্লাইং মনে করিয়াছিলেন যে, পাছে আবার নন্দকুমার বাদশাহ ও ফরাসীদের সহিত মন্ত্রণা করেন, তজ্জন্য তিনি তাঁহাকে কলি- কাতা হইতে স্থানান্তরিত করিয়া চট্টগ্রামে পাঠাইতে ইচ্ছা করিয়াছিলেন।

এই সংবাদ শ্রবণে নন্দকুমারের পরিবারের মধ্যে এক বিষাদকোলাহল উপস্থিত হয়; নন্দকুমারও ভীত হইয়া পড়েন। সৌভাগ্যক্রমে একটিমাত্র কারণে তিনি সে যাত্রা নিষ্কৃতি লাভ করিতে সমর্থ হন। রাজা নবকৃষ্ণ কাউন্সিলের সভ্যদিগকে বলিয়াছিলেন যে, নন্দকুমারের চায় ষড়যন্ত্রকারী লোককে চট্টগ্রামের ন্যায় দূর দেশে পাঠাইলে, ভবিষ্যতে নানারূপ গোলযোগ ঘাঁটতে পারে। অতএব তাঁহাকে প্রহরিবেষ্টিত করিয়া কলিকাতাতে রাখাই আবশ্যক।

নবকৃষ্ণের সেই পরামর্শানুসারে ক্লাইব প্রভৃতি তাঁহাকে চট্টগ্রামে না পাঠাইয়া কলি- কাতায় প্রহরিবেষ্টিত করিয়া রাখেন। ইহাতে তাঁহার প্রতি নবকৃষ্ণের কিরূপ ভাব ছিল, তাহা সকলেই সুস্পষ্টরূপে বুঝিতে পারি- তেছেন। তাহার পর নন্দকুমার অব্যাহতি পাইয়াছিলেন। কোম্পানী বাঙ্গলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করিলে, ক্লাইব মহম্মদ রেজা- ঝাঁকে নায়েব দেওয়ান নিযুক্ত করিলেন। পূর্ব্বে তিনি নায়েব সুবা হইয়া- ছিলেন; এক্ষণে আবার নায়েব দেওয়ান হইয়া বাঙ্গলার সর্ব্বেসর্ব্বা হইয়া উঠিলেন। তৎকালে নন্দকুমার ও মহম্মদ রেজা খাঁ উভয়েই উভয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

নন্দকুমার যেমন হিন্দুসমাজের নেতা ছিলেন, মহম্মদ রেজা খাঁও সেইরূপ মুসলমানসমাজে নেতৃত্ব করিতেন। এই দুইজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার অবশেষে বঙ্গদেশে ভয়ানক গোলযোগ উপস্থিত হয়। মহম্মদ রেজা খাঁ বাঙ্গলার সর্ব্বময় কর্তা হইয়া দেশে যেরূপ অরাজকতার প্রাদুর্ভাব বাড়াইয়াছিলেন, তাহা বঙ্গবাসিমাত্রেই অবগত আছেন। তাঁহার সেই অত্যাচারের ফল বঙ্গের করাল দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরে মন্বন্তরের নিদারুণ হাহাকার! আমরা পরে সে কথার উল্লেখ করিব।