০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ড্রোনের যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়ী স্থিতাবস্থা ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ: এক ইঞ্চি এগোনোর লড়াই ক্রামাটর্স্কে যুদ্ধের মাঝেই প্রেমের সাক্ষাৎ — সামনের লাইনের শহরে মিলন ও বিদায়ের গল্প চীনে নীরব সহায়তায় রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে: ন্যাটো’র তীব্র উদ্বেগ শিন পেনের রাজনৈতিক যাত্রা: এক অভিনয়শিল্পীর কণ্ঠে সত্য এবং সাহস খুলনার বাইটুন নূর শপিং কমপ্লেক্সে আগুনে পাঁচ দোকানের সম্পদ ধ্বংস ঢাকায় বাতাস ‘অত্যন্ত দূষিত’, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে রাশিয়ার রণনীতি ব্যর্থতার দাম গুণছে ইউক্রেন যুদ্ধ চীনের অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ সংঘে যোগদানের পথে: ৩০ বছরের ওয়াসেনার ব্যবস্থা কি চীনকে স্বাগত জানাবে? শৈত্যপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্র উত্তরপূর্বাঞ্চল থমকে গেছে তুষারঝড়ে: স্কুল বন্ধ, বিমান চলাচল স্থগিত

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৮১)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 106
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

সুন্দরবনে বর্ষা শুরু হত একটু আগে। উত্তরের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য কুটির শিল্পী ইংরেজের শিল্প বাণিজ্যনীতির ফলে পুরনো পেশা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল, এসব উদ্বৃত্ত লোকেদের সুন্দরবনের জমি সহজে আকৃষ্ট করেছিল। ১৮৬০ থেকে ১৯০৫-এর মধ্যে বাখরগঞ্জ জেলার ৫২৬ বর্গ মাইল বনভূমিকে সঙ্কুচিত করে ১৮৬ বর্গ মাইলে পরিণত করা হলো যার ফলে এ সময়ে এই জেলায় অতিরিক্ত চাষযোগ্য জমি বেড়ে গেলে ২৩.১ শতাংশ (৩) সরকার দ্রুত বন থেকে চাষযোগ্য জমি উদ্ধার করার প্রয়োজনে বড় বড় ধনীব্যক্তিদের জমিদারি দিতে লাগলেন কোথাও ছোট মালিকদের নিয়োগ করা হলেও ভূমি রাজস্বের শর্ত ছিল খুবই কঠোর। এই সময়ের মধ্যে ২৪ পরগনার সুন্দরবনাঞ্চল থেকে উদ্ধার করে জমিকে চাষযোগ্য করার জন্য যে সব জমিদারি দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাগর আইল্যান্ড সোসাইটি, পোর্ট ক্যানিং ল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, গোসাবা হ্যামিলটন স্টেট প্রভৃতি।

১ম মহাযুদ্ধ পরবর্তীকালে সুন্দরবনের গ্রামাঞ্চলে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল মধ্যসত্ত্বভোগীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে আর সেই সঙ্গে জমিহারা খেতমজুরের সংখ্যা বাড়ছে, এ সময়ে খুলনা জেলায় শতকরা ১১ জন মানুষের বাস্তুজমি থাকলেও চাষের কোন জমি নেই; এর পাশাপাশি ২৪ পরগনা জেলার কতকগুলি থানাতে লক্ষ করা গেল, ক্ষেতমজুরদের সংখ্যা ৮-৯ শতাংশে পৌঁছে গেছে। খেতমজুরদের উপস্থিতি কৃষির ক্ষেত্রে ১৮৭০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে সর্বপ্রথম সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে; তার আগে অবশ্য সরকারি নথিপত্রে উল্লেখিত হচ্ছে না। উনিশ শতকের শেষের দিকে প্রতি বছর গোরুর মড়ক লেগেই থাকত তার ফলে চাষিরা গোরু হারালে ঋণ জালে জর্জরিত থাকার জন্য জমি চাষ করতে পারত না, বাধ্য হত জমি ছেড়ে দিতে, গোরুর দাম এ সময়ে প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

১৮৬৯-৭০ এ গবাদি পশুর মৃত্যুর হার।

২৪ পরগনা জেলা ১৭.৬%

হুগলীজেলা ২৮.৫%

যশোর ২২.৪%

১৮৫০-৭০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে গোরুর দামের ঊর্দ্ধগতি লক্ষ করা যাচ্ছিল। ২৪ পরগনা জেলায় ৮৭.৫% থেকে ১৩০% পর্যন্ত বেড়েছে। নদীয়া জেলায় ১০০% থেকে ১৫০% পর্যন্ত বেড়েছে। গোরু কিনতে না পারার ফলে চাষির খেতমজুর হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা ছিল না। এজন্যই বহুলপরিচিত এই প্রবাদটির জন্ম-অভাগার গোরু মরে ভাগ্যবানের বউ মরে’।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ড্রোনের যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়ী স্থিতাবস্থা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৮১)

১২:০০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

সুন্দরবনে বর্ষা শুরু হত একটু আগে। উত্তরের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য কুটির শিল্পী ইংরেজের শিল্প বাণিজ্যনীতির ফলে পুরনো পেশা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল, এসব উদ্বৃত্ত লোকেদের সুন্দরবনের জমি সহজে আকৃষ্ট করেছিল। ১৮৬০ থেকে ১৯০৫-এর মধ্যে বাখরগঞ্জ জেলার ৫২৬ বর্গ মাইল বনভূমিকে সঙ্কুচিত করে ১৮৬ বর্গ মাইলে পরিণত করা হলো যার ফলে এ সময়ে এই জেলায় অতিরিক্ত চাষযোগ্য জমি বেড়ে গেলে ২৩.১ শতাংশ (৩) সরকার দ্রুত বন থেকে চাষযোগ্য জমি উদ্ধার করার প্রয়োজনে বড় বড় ধনীব্যক্তিদের জমিদারি দিতে লাগলেন কোথাও ছোট মালিকদের নিয়োগ করা হলেও ভূমি রাজস্বের শর্ত ছিল খুবই কঠোর। এই সময়ের মধ্যে ২৪ পরগনার সুন্দরবনাঞ্চল থেকে উদ্ধার করে জমিকে চাষযোগ্য করার জন্য যে সব জমিদারি দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাগর আইল্যান্ড সোসাইটি, পোর্ট ক্যানিং ল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, গোসাবা হ্যামিলটন স্টেট প্রভৃতি।

১ম মহাযুদ্ধ পরবর্তীকালে সুন্দরবনের গ্রামাঞ্চলে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল মধ্যসত্ত্বভোগীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে আর সেই সঙ্গে জমিহারা খেতমজুরের সংখ্যা বাড়ছে, এ সময়ে খুলনা জেলায় শতকরা ১১ জন মানুষের বাস্তুজমি থাকলেও চাষের কোন জমি নেই; এর পাশাপাশি ২৪ পরগনা জেলার কতকগুলি থানাতে লক্ষ করা গেল, ক্ষেতমজুরদের সংখ্যা ৮-৯ শতাংশে পৌঁছে গেছে। খেতমজুরদের উপস্থিতি কৃষির ক্ষেত্রে ১৮৭০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে সর্বপ্রথম সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে; তার আগে অবশ্য সরকারি নথিপত্রে উল্লেখিত হচ্ছে না। উনিশ শতকের শেষের দিকে প্রতি বছর গোরুর মড়ক লেগেই থাকত তার ফলে চাষিরা গোরু হারালে ঋণ জালে জর্জরিত থাকার জন্য জমি চাষ করতে পারত না, বাধ্য হত জমি ছেড়ে দিতে, গোরুর দাম এ সময়ে প্রচণ্ডভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

১৮৬৯-৭০ এ গবাদি পশুর মৃত্যুর হার।

২৪ পরগনা জেলা ১৭.৬%

হুগলীজেলা ২৮.৫%

যশোর ২২.৪%

১৮৫০-৭০ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে গোরুর দামের ঊর্দ্ধগতি লক্ষ করা যাচ্ছিল। ২৪ পরগনা জেলায় ৮৭.৫% থেকে ১৩০% পর্যন্ত বেড়েছে। নদীয়া জেলায় ১০০% থেকে ১৫০% পর্যন্ত বেড়েছে। গোরু কিনতে না পারার ফলে চাষির খেতমজুর হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা ছিল না। এজন্যই বহুলপরিচিত এই প্রবাদটির জন্ম-অভাগার গোরু মরে ভাগ্যবানের বউ মরে’।