০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ড্রোনের যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়ী স্থিতাবস্থা ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ: এক ইঞ্চি এগোনোর লড়াই ক্রামাটর্স্কে যুদ্ধের মাঝেই প্রেমের সাক্ষাৎ — সামনের লাইনের শহরে মিলন ও বিদায়ের গল্প চীনে নীরব সহায়তায় রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে: ন্যাটো’র তীব্র উদ্বেগ শিন পেনের রাজনৈতিক যাত্রা: এক অভিনয়শিল্পীর কণ্ঠে সত্য এবং সাহস খুলনার বাইটুন নূর শপিং কমপ্লেক্সে আগুনে পাঁচ দোকানের সম্পদ ধ্বংস ঢাকায় বাতাস ‘অত্যন্ত দূষিত’, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে রাশিয়ার রণনীতি ব্যর্থতার দাম গুণছে ইউক্রেন যুদ্ধ চীনের অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ সংঘে যোগদানের পথে: ৩০ বছরের ওয়াসেনার ব্যবস্থা কি চীনকে স্বাগত জানাবে? শৈত্যপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্র উত্তরপূর্বাঞ্চল থমকে গেছে তুষারঝড়ে: স্কুল বন্ধ, বিমান চলাচল স্থগিত

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৮৪)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০২৪
  • 62
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

– ইছামতীর দু-পারের শান্ত নিস্তরঙ্গ জীবনে কামানের গর্জন শোনা গেল ১৮৩১ এর ১৮ই নভেম্বর। তৎকালীন বারাসত ও নদীয়া জেলার অধীন ২০/২৫ মাইল এলাকা জুড়ে ইছামতী-যমুনা নদীর তীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন মির নিসার আলী ইতিহাসে তিতুমির নামে পরিচিত। অনেক ঐতিহাসিক ব্রীটিশ স্বার্থ প্রণোদিত হয়ে এই বিদ্রোহকেধর্মীয় উন্মাদনা বলে বর্ণনা করেছেন। তৎকালীন সমাজে কৃষকের প্রতিবাদের ভাষা অনেক সময় ধর্মীয় আধারে প্রকাশিত হত। তিতুমিরের বিদ্রোহ অনেক পিছুটান সত্ত্বেও ইংরেজ শাসন ও শোষণ, জমিদার নীলকুঠির সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকের দাবি ও বিক্ষোভকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

তিতুমিরের, অতীত অনেকটা কুয়াশায় ঢাকা। যতটুকু জানা গেছে তা হল ১৭৮২ খ্রীষ্টাব্দের ১৪ই মাঘ তার জন্ম নারকেলবেড়িয়ার কয়েক মাইল দূরে চাঁদপুর গ্রামে সাধারণ এক কৃষক পরিবারে। শৈশবে সামান্য কিছু লেখাপড়া গ্রাম্য মক্তবে করেন। পরবর্তীকালে বিবাহসূত্রে হাড়োয়ার বিখ্যাত জমিদার মুন্সী আমিরের আত্মীয় হন। নদীয়ার জমিদার পালচৌধুরীদের আমডাঙার কাছারির পাইক হিসাবে প্রথম জীবনে নিয়োজিত হন। জমিদারের হয়ে কাজিয়া করতে গিয়ে আহত হন এবং বেশ কিছুদিন বারাসত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্য দুই একজন গবেষক এ ব্যাপারে গোবরডাঙার জমিদার কালীপ্রসন্নের নাম করেছেন। তিতুর বিদ্রোহের ৮/১০ বৎসর পূর্বে তিনি হজ করতে মক্কায় যান।

ওয়াহাবি প্রচারক সৈয়দ আহমদের সাহচর্যে এসে তিনি ওয়াহাবি আন্দোলনে অংশ নেন। দেশে ফিরে বাকিটা জীবনধর্মীয় শিক্ষক ও প্রচারক হিসাবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। কলকাতায় কিছুদিন কাটিয়ে নারকেলবেড়িয়ার নিকটে চাঁদপুরে তার নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। স্থানীয় গরিব মুসলমান ও জোলা সম্প্রদায়ের তাঁতিরা তার শিষ্য হলেন। ইসলাম ধর্মের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য তার শিষ্যদের তিনি অনুপ্রাণিত করেন। তাঁর শিষ্যরা মাথা নেড়া করত এবং দীর্ঘ দাড়ি রাখত। মহরম অনুষ্ঠান, আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুর পরের অনুষ্ঠান, পীরদের স্মৃতিস্তম্ভে নানারকম উপহার প্রদান রীতিকে তিনি নস্যাৎ করে নিজ সম্প্রদায়কে মুসলমান সম্প্রদায় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেললেন; বিদ্রোহের সময় তিতুর বয়স ছিল প্রায় ৫০ বছর।

নারকেলবেড়িয়ার মৈজুদ্দিন বিশ্বাসের বাড়ি তার প্রধান কর্মকেন্দ্র হিসাবে তিনি নির্বাচিত করলেন। তাঁর পরিবারের প্রায় সকলেই এই লড়াই-এ অংশ নিয়েছিল। তাঁর তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল এবং বন্দী হয়। তাঁর ভাইপো গোলাম মাসুম তাঁর প্রধান সেনাপতি। তাঁর বিশিষ্ট অনুচরদের মধ্যে প্রধান ছিল বলাই জোলা, ডাকু কারিগর, দৈয়ান কারিগর, পূজৎ মল্লিক; এরা সকলেই নারকেল- বেড়িয়ার তাঁতি ও চাষি সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রচারের মধ্য দিয়ে প্রচুর গরিব মুসলমান তিতুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করল।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ড্রোনের যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়ী স্থিতাবস্থা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৮৪)

১২:০০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

– ইছামতীর দু-পারের শান্ত নিস্তরঙ্গ জীবনে কামানের গর্জন শোনা গেল ১৮৩১ এর ১৮ই নভেম্বর। তৎকালীন বারাসত ও নদীয়া জেলার অধীন ২০/২৫ মাইল এলাকা জুড়ে ইছামতী-যমুনা নদীর তীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন মির নিসার আলী ইতিহাসে তিতুমির নামে পরিচিত। অনেক ঐতিহাসিক ব্রীটিশ স্বার্থ প্রণোদিত হয়ে এই বিদ্রোহকেধর্মীয় উন্মাদনা বলে বর্ণনা করেছেন। তৎকালীন সমাজে কৃষকের প্রতিবাদের ভাষা অনেক সময় ধর্মীয় আধারে প্রকাশিত হত। তিতুমিরের বিদ্রোহ অনেক পিছুটান সত্ত্বেও ইংরেজ শাসন ও শোষণ, জমিদার নীলকুঠির সাহেবদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকের দাবি ও বিক্ষোভকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

তিতুমিরের, অতীত অনেকটা কুয়াশায় ঢাকা। যতটুকু জানা গেছে তা হল ১৭৮২ খ্রীষ্টাব্দের ১৪ই মাঘ তার জন্ম নারকেলবেড়িয়ার কয়েক মাইল দূরে চাঁদপুর গ্রামে সাধারণ এক কৃষক পরিবারে। শৈশবে সামান্য কিছু লেখাপড়া গ্রাম্য মক্তবে করেন। পরবর্তীকালে বিবাহসূত্রে হাড়োয়ার বিখ্যাত জমিদার মুন্সী আমিরের আত্মীয় হন। নদীয়ার জমিদার পালচৌধুরীদের আমডাঙার কাছারির পাইক হিসাবে প্রথম জীবনে নিয়োজিত হন। জমিদারের হয়ে কাজিয়া করতে গিয়ে আহত হন এবং বেশ কিছুদিন বারাসত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্য দুই একজন গবেষক এ ব্যাপারে গোবরডাঙার জমিদার কালীপ্রসন্নের নাম করেছেন। তিতুর বিদ্রোহের ৮/১০ বৎসর পূর্বে তিনি হজ করতে মক্কায় যান।

ওয়াহাবি প্রচারক সৈয়দ আহমদের সাহচর্যে এসে তিনি ওয়াহাবি আন্দোলনে অংশ নেন। দেশে ফিরে বাকিটা জীবনধর্মীয় শিক্ষক ও প্রচারক হিসাবে নিজেকে নিয়োজিত করেন। কলকাতায় কিছুদিন কাটিয়ে নারকেলবেড়িয়ার নিকটে চাঁদপুরে তার নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। স্থানীয় গরিব মুসলমান ও জোলা সম্প্রদায়ের তাঁতিরা তার শিষ্য হলেন। ইসলাম ধর্মের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য তার শিষ্যদের তিনি অনুপ্রাণিত করেন। তাঁর শিষ্যরা মাথা নেড়া করত এবং দীর্ঘ দাড়ি রাখত। মহরম অনুষ্ঠান, আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুর পরের অনুষ্ঠান, পীরদের স্মৃতিস্তম্ভে নানারকম উপহার প্রদান রীতিকে তিনি নস্যাৎ করে নিজ সম্প্রদায়কে মুসলমান সম্প্রদায় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেললেন; বিদ্রোহের সময় তিতুর বয়স ছিল প্রায় ৫০ বছর।

নারকেলবেড়িয়ার মৈজুদ্দিন বিশ্বাসের বাড়ি তার প্রধান কর্মকেন্দ্র হিসাবে তিনি নির্বাচিত করলেন। তাঁর পরিবারের প্রায় সকলেই এই লড়াই-এ অংশ নিয়েছিল। তাঁর তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিল এবং বন্দী হয়। তাঁর ভাইপো গোলাম মাসুম তাঁর প্রধান সেনাপতি। তাঁর বিশিষ্ট অনুচরদের মধ্যে প্রধান ছিল বলাই জোলা, ডাকু কারিগর, দৈয়ান কারিগর, পূজৎ মল্লিক; এরা সকলেই নারকেল- বেড়িয়ার তাঁতি ও চাষি সম্প্রদায়ের মানুষ। দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রচারের মধ্য দিয়ে প্রচুর গরিব মুসলমান তিতুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করল।