০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল শাকের পাতায় লুকিয়ে থাকা প্রোটিন, খাদ্য জগতে নতুন সম্ভাবনার নাম রুবিসকো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নবম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী হামলায় আতঙ্ক, ঘরবন্দি ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাপক বন উজাড় হয়েছে’, মন্তব্য প্রতিমন্ত্রী টুকুর ওনাকে কিনে নিচ্ছে ওপেনএআই, এআই বাজারে নতুন সংযোজন ঢাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রান৪আর্থ ম্যারাথন, জলবায়ু সচেতনতার বার্তা ইনভিক্টাস গেমসের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছেন আহত সেনারা: প্রিন্স হ্যারির স্বপ্ন আরও বড় অলিম্পিক সোনা জয়ের পরও আলোচনায় অ্যালিসা লিউ, আনন্দেই খুঁজে পেলেন সাফল্যের নতুন অর্থ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৯৫)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 112
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

এর পরে অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে বর্গাদারের সংখ্যাও বেড়েছে। বর্গাদাররা আধুনিক উন্নত কৃষির সুযোগ নিতে পারেনি এবং সারা বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি একরে কমেছে। কৃষিতে প্রযুক্তিগত চিন্তা প্রয়োগের পথে বাধা জোতদার সে উন্নত ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজী নয়। উৎপাদনের কোন ঝুঁকি সে নিতে রাজী নয়। বর্গাদারদের বছরে ৬ মাসের জন্য খাদ্যশস্য ঋণ গ্রহণ করতে হয় এবং এর ফলে তার জীবন ধারণ পদ্ধতি দুর্বিষহ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তাকে দিন কাটাতে হয়। গ্রামের মানুষের ঋণের একটা বড় অংশ ছিল সেদিন খাদ্যশস্যের জন্য ঋণ। গ্রামের সুদখোর মহাজনরা এই ধান চালের ব্যবসার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল।

এরই পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে বিশেষত কৃষির ক্ষেত্রে এক ব্যাপক সঙ্কট লক্ষ করা ‘ল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফজলুল হক সাহেবের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কৃষকেও সমস্যা সমাধান করার জন্য কিছু সাময়িক ব্যবস্থা নিলেন। সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে বৃটিশ রাজত্বের অধীন ফজলুল হক সরকার কৃষকদরদী সরকার হিসাবে সেদিন বাংলার চাষিদের মনে নতুন আশার সৃষ্টি করে। ১৯৩৮ এ প্রজাসত্ব আইনের কিছু পরিবর্তন করে রায়ত চাষিদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হল। আইনে বলা হল খাইখালাসী সম্পর্কে যে চুক্তি তা পনের বছর পার হয়ে গেলে খাতকের দেনা শোধ হয়ে যাবে এবং সে জমি ফেরত পাবে। ঋণসালিসী বোর্ড সে যুগে সাধারণ কৃষকের মধ্যে দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি করে যদিও ঋণ সালিসি বোর্ডের এক্তিয়ার ছিল না খেতমজুর ও ভাগচাষিদের ঋণ মুকুবের। বিশ্বজোড়া মন্দা, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, গ্রামাঞ্চলে কৃষিব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ১৯৩৮ সালের দিকে জমিদাররা তাদের চুক্তি অনুযায়ী খাজনা সরকারি দপ্তরে জমা দিতে পারছে না- প্রতিনিয়ত বড় বড় জমিদারিগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল।

শতচেষ্টা করেও জমিদার খাজনা আদায় করতে পারছে না। বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষের প্রকাশ ঘটছিল- নানাস্থানে কৃষকরা সংঘবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ করছে তা লক্ষ করা যাচ্ছিল- এরকম পরিস্থিতিতে ফজলুল হক সরকার ফ্লাউডকে সভাপতি করে Land Revenue Commission গঠন করার কথা ঘোষণা করলেন। দীর্ঘ দুবছর ধরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাউড কমিশন যে বিশাল রিপোর্ট পেশ করলেন তাতে বর্গাদারের স্বপক্ষে লেখা হল।

Our recommendation is to treat as tenants bargadars who supply the plough cattle and agricultural implements. We also recommended that the share of the crop legally recoverable from them should be one third instead of half.”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওবায়দুল কাদেরকে জেনারেল সেক্রেটারি করাই ছিলো আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় ভুল

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৯৫)

১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

এর পরে অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে বর্গাদারের সংখ্যাও বেড়েছে। বর্গাদাররা আধুনিক উন্নত কৃষির সুযোগ নিতে পারেনি এবং সারা বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি একরে কমেছে। কৃষিতে প্রযুক্তিগত চিন্তা প্রয়োগের পথে বাধা জোতদার সে উন্নত ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজী নয়। উৎপাদনের কোন ঝুঁকি সে নিতে রাজী নয়। বর্গাদারদের বছরে ৬ মাসের জন্য খাদ্যশস্য ঋণ গ্রহণ করতে হয় এবং এর ফলে তার জীবন ধারণ পদ্ধতি দুর্বিষহ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তাকে দিন কাটাতে হয়। গ্রামের মানুষের ঋণের একটা বড় অংশ ছিল সেদিন খাদ্যশস্যের জন্য ঋণ। গ্রামের সুদখোর মহাজনরা এই ধান চালের ব্যবসার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল।

এরই পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে বিশেষত কৃষির ক্ষেত্রে এক ব্যাপক সঙ্কট লক্ষ করা ‘ল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফজলুল হক সাহেবের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কৃষকেও সমস্যা সমাধান করার জন্য কিছু সাময়িক ব্যবস্থা নিলেন। সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে বৃটিশ রাজত্বের অধীন ফজলুল হক সরকার কৃষকদরদী সরকার হিসাবে সেদিন বাংলার চাষিদের মনে নতুন আশার সৃষ্টি করে। ১৯৩৮ এ প্রজাসত্ব আইনের কিছু পরিবর্তন করে রায়ত চাষিদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হল। আইনে বলা হল খাইখালাসী সম্পর্কে যে চুক্তি তা পনের বছর পার হয়ে গেলে খাতকের দেনা শোধ হয়ে যাবে এবং সে জমি ফেরত পাবে। ঋণসালিসী বোর্ড সে যুগে সাধারণ কৃষকের মধ্যে দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি করে যদিও ঋণ সালিসি বোর্ডের এক্তিয়ার ছিল না খেতমজুর ও ভাগচাষিদের ঋণ মুকুবের। বিশ্বজোড়া মন্দা, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, গ্রামাঞ্চলে কৃষিব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ১৯৩৮ সালের দিকে জমিদাররা তাদের চুক্তি অনুযায়ী খাজনা সরকারি দপ্তরে জমা দিতে পারছে না- প্রতিনিয়ত বড় বড় জমিদারিগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল।

শতচেষ্টা করেও জমিদার খাজনা আদায় করতে পারছে না। বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষের প্রকাশ ঘটছিল- নানাস্থানে কৃষকরা সংঘবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ করছে তা লক্ষ করা যাচ্ছিল- এরকম পরিস্থিতিতে ফজলুল হক সরকার ফ্লাউডকে সভাপতি করে Land Revenue Commission গঠন করার কথা ঘোষণা করলেন। দীর্ঘ দুবছর ধরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাউড কমিশন যে বিশাল রিপোর্ট পেশ করলেন তাতে বর্গাদারের স্বপক্ষে লেখা হল।

Our recommendation is to treat as tenants bargadars who supply the plough cattle and agricultural implements. We also recommended that the share of the crop legally recoverable from them should be one third instead of half.”