০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নগদকে ব্যক্তিখাতে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের নীতির ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ উপলক্ষে নগদ সংকটে পড়া পোশাক রপ্তানিকারকদের সমর্থনের অঙ্গীকার করল ঢাবি শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ, পুলিশি হামলার প্রতিবাদ বাংলাদেশ আবারও নিশ্চিত করল সার্ক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ডিএসইতে পতনের মধ্যেও ডিএস৩০ বেড়ে গেছে; সিএসই সীমিত লাভে বন্ধ ট্রাম্পের শুল্ক নীতি বন্ধ! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিভাজন শক্তির জয় আলী হোসেন ফকির বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান হিসেবে নিযুক্ত সৌদি আরবের রমজান খাদ্য সহায়তা পৌঁছালো বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বীমা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৯৫)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 82
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

এর পরে অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে বর্গাদারের সংখ্যাও বেড়েছে। বর্গাদাররা আধুনিক উন্নত কৃষির সুযোগ নিতে পারেনি এবং সারা বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি একরে কমেছে। কৃষিতে প্রযুক্তিগত চিন্তা প্রয়োগের পথে বাধা জোতদার সে উন্নত ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজী নয়। উৎপাদনের কোন ঝুঁকি সে নিতে রাজী নয়। বর্গাদারদের বছরে ৬ মাসের জন্য খাদ্যশস্য ঋণ গ্রহণ করতে হয় এবং এর ফলে তার জীবন ধারণ পদ্ধতি দুর্বিষহ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তাকে দিন কাটাতে হয়। গ্রামের মানুষের ঋণের একটা বড় অংশ ছিল সেদিন খাদ্যশস্যের জন্য ঋণ। গ্রামের সুদখোর মহাজনরা এই ধান চালের ব্যবসার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল।

এরই পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে বিশেষত কৃষির ক্ষেত্রে এক ব্যাপক সঙ্কট লক্ষ করা ‘ল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফজলুল হক সাহেবের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কৃষকেও সমস্যা সমাধান করার জন্য কিছু সাময়িক ব্যবস্থা নিলেন। সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে বৃটিশ রাজত্বের অধীন ফজলুল হক সরকার কৃষকদরদী সরকার হিসাবে সেদিন বাংলার চাষিদের মনে নতুন আশার সৃষ্টি করে। ১৯৩৮ এ প্রজাসত্ব আইনের কিছু পরিবর্তন করে রায়ত চাষিদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হল। আইনে বলা হল খাইখালাসী সম্পর্কে যে চুক্তি তা পনের বছর পার হয়ে গেলে খাতকের দেনা শোধ হয়ে যাবে এবং সে জমি ফেরত পাবে। ঋণসালিসী বোর্ড সে যুগে সাধারণ কৃষকের মধ্যে দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি করে যদিও ঋণ সালিসি বোর্ডের এক্তিয়ার ছিল না খেতমজুর ও ভাগচাষিদের ঋণ মুকুবের। বিশ্বজোড়া মন্দা, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, গ্রামাঞ্চলে কৃষিব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ১৯৩৮ সালের দিকে জমিদাররা তাদের চুক্তি অনুযায়ী খাজনা সরকারি দপ্তরে জমা দিতে পারছে না- প্রতিনিয়ত বড় বড় জমিদারিগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল।

শতচেষ্টা করেও জমিদার খাজনা আদায় করতে পারছে না। বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষের প্রকাশ ঘটছিল- নানাস্থানে কৃষকরা সংঘবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ করছে তা লক্ষ করা যাচ্ছিল- এরকম পরিস্থিতিতে ফজলুল হক সরকার ফ্লাউডকে সভাপতি করে Land Revenue Commission গঠন করার কথা ঘোষণা করলেন। দীর্ঘ দুবছর ধরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাউড কমিশন যে বিশাল রিপোর্ট পেশ করলেন তাতে বর্গাদারের স্বপক্ষে লেখা হল।

Our recommendation is to treat as tenants bargadars who supply the plough cattle and agricultural implements. We also recommended that the share of the crop legally recoverable from them should be one third instead of half.”

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নগদকে ব্যক্তিখাতে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের নীতির ওপর নির্ভর করবে

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৯৫)

১২:০০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

এর পরে অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে বর্গাদারের সংখ্যাও বেড়েছে। বর্গাদাররা আধুনিক উন্নত কৃষির সুযোগ নিতে পারেনি এবং সারা বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের পরিমাণ প্রতি একরে কমেছে। কৃষিতে প্রযুক্তিগত চিন্তা প্রয়োগের পথে বাধা জোতদার সে উন্নত ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাজী নয়। উৎপাদনের কোন ঝুঁকি সে নিতে রাজী নয়। বর্গাদারদের বছরে ৬ মাসের জন্য খাদ্যশস্য ঋণ গ্রহণ করতে হয় এবং এর ফলে তার জীবন ধারণ পদ্ধতি দুর্বিষহ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তাকে দিন কাটাতে হয়। গ্রামের মানুষের ঋণের একটা বড় অংশ ছিল সেদিন খাদ্যশস্যের জন্য ঋণ। গ্রামের সুদখোর মহাজনরা এই ধান চালের ব্যবসার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিল।

এরই পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে বিশেষত কৃষির ক্ষেত্রে এক ব্যাপক সঙ্কট লক্ষ করা ‘ল। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফজলুল হক সাহেবের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কৃষকেও সমস্যা সমাধান করার জন্য কিছু সাময়িক ব্যবস্থা নিলেন। সীমাবদ্ধ ক্ষমতা নিয়ে বৃটিশ রাজত্বের অধীন ফজলুল হক সরকার কৃষকদরদী সরকার হিসাবে সেদিন বাংলার চাষিদের মনে নতুন আশার সৃষ্টি করে। ১৯৩৮ এ প্রজাসত্ব আইনের কিছু পরিবর্তন করে রায়ত চাষিদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা হল। আইনে বলা হল খাইখালাসী সম্পর্কে যে চুক্তি তা পনের বছর পার হয়ে গেলে খাতকের দেনা শোধ হয়ে যাবে এবং সে জমি ফেরত পাবে। ঋণসালিসী বোর্ড সে যুগে সাধারণ কৃষকের মধ্যে দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি করে যদিও ঋণ সালিসি বোর্ডের এক্তিয়ার ছিল না খেতমজুর ও ভাগচাষিদের ঋণ মুকুবের। বিশ্বজোড়া মন্দা, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, গ্রামাঞ্চলে কৃষিব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ১৯৩৮ সালের দিকে জমিদাররা তাদের চুক্তি অনুযায়ী খাজনা সরকারি দপ্তরে জমা দিতে পারছে না- প্রতিনিয়ত বড় বড় জমিদারিগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল।

শতচেষ্টা করেও জমিদার খাজনা আদায় করতে পারছে না। বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষের প্রকাশ ঘটছিল- নানাস্থানে কৃষকরা সংঘবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ করছে তা লক্ষ করা যাচ্ছিল- এরকম পরিস্থিতিতে ফজলুল হক সরকার ফ্লাউডকে সভাপতি করে Land Revenue Commission গঠন করার কথা ঘোষণা করলেন। দীর্ঘ দুবছর ধরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ফ্লাউড কমিশন যে বিশাল রিপোর্ট পেশ করলেন তাতে বর্গাদারের স্বপক্ষে লেখা হল।

Our recommendation is to treat as tenants bargadars who supply the plough cattle and agricultural implements. We also recommended that the share of the crop legally recoverable from them should be one third instead of half.”