০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ড্রোনের যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়ী স্থিতাবস্থা ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ: এক ইঞ্চি এগোনোর লড়াই ক্রামাটর্স্কে যুদ্ধের মাঝেই প্রেমের সাক্ষাৎ — সামনের লাইনের শহরে মিলন ও বিদায়ের গল্প চীনে নীরব সহায়তায় রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে: ন্যাটো’র তীব্র উদ্বেগ শিন পেনের রাজনৈতিক যাত্রা: এক অভিনয়শিল্পীর কণ্ঠে সত্য এবং সাহস খুলনার বাইটুন নূর শপিং কমপ্লেক্সে আগুনে পাঁচ দোকানের সম্পদ ধ্বংস ঢাকায় বাতাস ‘অত্যন্ত দূষিত’, স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে রাশিয়ার রণনীতি ব্যর্থতার দাম গুণছে ইউক্রেন যুদ্ধ চীনের অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ সংঘে যোগদানের পথে: ৩০ বছরের ওয়াসেনার ব্যবস্থা কি চীনকে স্বাগত জানাবে? শৈত্যপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্র উত্তরপূর্বাঞ্চল থমকে গেছে তুষারঝড়ে: স্কুল বন্ধ, বিমান চলাচল স্থগিত

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
  • 101

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়াদের মধ্যে ছেলেরা মধু দিয়ে একটি বিশেষ ধরনের পানীয় তৈরি করত। এই পানীয় তৈরির কৌশলটি হল এরকম: প্রথমে বালচে গাছের ছাল ছেঁটে বার করা হয়, এই চালচেকে নরম করে টাটকা মধু এর সঙ্গে যত্ন করে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই মধু মেশানোর সময় আর টাটকা থাকে না। কেননা মধুকে দু’একদিন মোটামুটি গরম আবহাওয়ায় রেখে কিছুটা মজিয়ে বা পচিয়ে নেওয়া হয়।

এই পচা মধু বালচের (Balche) সঙ্গে মেশানোর পর অনেকটা এখনকার বাংলা মদ বা আদিবাসীদের হাড়িয়ার মত খেতে লাগে। এই বিশেষ ধরনের পানীয় প্রস্তুত করার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে পুরুষদের অংশগ্রহণ এক ধরনের সমবেত আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। এই ধরনের কাজে অনেক সময় যেমন পরিবারের সদস্য/ সদস্যরা নিযুক্ত হয়। আবার অন্যদিকে পেশা বা টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেবার প্রথাও ছিল।

অর্থাৎ আর্থ-বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার ধরন দেখে আমরা বুঝতে পারি মায়া জনসমাজে পেশা বা জীবিকার গোটা আদলটাই ছিল এই কৃষিকাজ বা গবাদি পশু বা ভুট্টা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে। পেশা বলতে বা জীবিকা অর্থে আমরা আধুনিককালের চাকরি বা শিল্পকেন্দ্রিক নগরাঞ্চলের রুটি-রোজগারের পথ বুঝি তা মায়াযুগে একদম ছিল না বললেই চলে।

একথার যাথার্থ্যতা আমরা অনুভব করতে পারব গ্রামাঞ্চলে মায়াদের ইঁদুর, হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণী শিকার করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে। অবশ্য অনেক সময় হাঁস, বড় আকারের পাখি, কুকুর এদের গৃহপালিত পশু হিসেবেও রাখা হয়।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ: ড্রোনের যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়ী স্থিতাবস্থা

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৩)

০৬:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়াদের মধ্যে ছেলেরা মধু দিয়ে একটি বিশেষ ধরনের পানীয় তৈরি করত। এই পানীয় তৈরির কৌশলটি হল এরকম: প্রথমে বালচে গাছের ছাল ছেঁটে বার করা হয়, এই চালচেকে নরম করে টাটকা মধু এর সঙ্গে যত্ন করে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই মধু মেশানোর সময় আর টাটকা থাকে না। কেননা মধুকে দু’একদিন মোটামুটি গরম আবহাওয়ায় রেখে কিছুটা মজিয়ে বা পচিয়ে নেওয়া হয়।

এই পচা মধু বালচের (Balche) সঙ্গে মেশানোর পর অনেকটা এখনকার বাংলা মদ বা আদিবাসীদের হাড়িয়ার মত খেতে লাগে। এই বিশেষ ধরনের পানীয় প্রস্তুত করার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে পুরুষদের অংশগ্রহণ এক ধরনের সমবেত আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। এই ধরনের কাজে অনেক সময় যেমন পরিবারের সদস্য/ সদস্যরা নিযুক্ত হয়। আবার অন্যদিকে পেশা বা টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেবার প্রথাও ছিল।

অর্থাৎ আর্থ-বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার ধরন দেখে আমরা বুঝতে পারি মায়া জনসমাজে পেশা বা জীবিকার গোটা আদলটাই ছিল এই কৃষিকাজ বা গবাদি পশু বা ভুট্টা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে। পেশা বলতে বা জীবিকা অর্থে আমরা আধুনিককালের চাকরি বা শিল্পকেন্দ্রিক নগরাঞ্চলের রুটি-রোজগারের পথ বুঝি তা মায়াযুগে একদম ছিল না বললেই চলে।

একথার যাথার্থ্যতা আমরা অনুভব করতে পারব গ্রামাঞ্চলে মায়াদের ইঁদুর, হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণী শিকার করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে। অবশ্য অনেক সময় হাঁস, বড় আকারের পাখি, কুকুর এদের গৃহপালিত পশু হিসেবেও রাখা হয়।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)