০৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বগুড়ায় এসআইকে কুপিয়ে মামলার নথি ছিনতাই, তদন্তে পুলিশ মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে, ইরান যুদ্ধের জ্বালানি ধাক্কায় বাড়ছে মার্কিন অর্থনীতির চাপ ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শক্তির সংজ্ঞা যদি পুরুষতন্ত্র লিখে দেয়, তবে নারীরা জিতবে কীভাবে? নতুন বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকার লড়াই: প্রযুক্তি, জ্ঞান ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের সময় নেহরুর উত্তরাধিকার মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন মোদি: দীর্ঘতম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দিনে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ নেহরুকে ছাড়িয়ে টানা সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোদি, মন্ত্রিসভার অভিনন্দন কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
  • 132

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়াদের মধ্যে ছেলেরা মধু দিয়ে একটি বিশেষ ধরনের পানীয় তৈরি করত। এই পানীয় তৈরির কৌশলটি হল এরকম: প্রথমে বালচে গাছের ছাল ছেঁটে বার করা হয়, এই চালচেকে নরম করে টাটকা মধু এর সঙ্গে যত্ন করে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই মধু মেশানোর সময় আর টাটকা থাকে না। কেননা মধুকে দু’একদিন মোটামুটি গরম আবহাওয়ায় রেখে কিছুটা মজিয়ে বা পচিয়ে নেওয়া হয়।

এই পচা মধু বালচের (Balche) সঙ্গে মেশানোর পর অনেকটা এখনকার বাংলা মদ বা আদিবাসীদের হাড়িয়ার মত খেতে লাগে। এই বিশেষ ধরনের পানীয় প্রস্তুত করার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে পুরুষদের অংশগ্রহণ এক ধরনের সমবেত আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। এই ধরনের কাজে অনেক সময় যেমন পরিবারের সদস্য/ সদস্যরা নিযুক্ত হয়। আবার অন্যদিকে পেশা বা টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেবার প্রথাও ছিল।

অর্থাৎ আর্থ-বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার ধরন দেখে আমরা বুঝতে পারি মায়া জনসমাজে পেশা বা জীবিকার গোটা আদলটাই ছিল এই কৃষিকাজ বা গবাদি পশু বা ভুট্টা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে। পেশা বলতে বা জীবিকা অর্থে আমরা আধুনিককালের চাকরি বা শিল্পকেন্দ্রিক নগরাঞ্চলের রুটি-রোজগারের পথ বুঝি তা মায়াযুগে একদম ছিল না বললেই চলে।

একথার যাথার্থ্যতা আমরা অনুভব করতে পারব গ্রামাঞ্চলে মায়াদের ইঁদুর, হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণী শিকার করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে। অবশ্য অনেক সময় হাঁস, বড় আকারের পাখি, কুকুর এদের গৃহপালিত পশু হিসেবেও রাখা হয়।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় এসআইকে কুপিয়ে মামলার নথি ছিনতাই, তদন্তে পুলিশ

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৩)

০৬:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়াদের মধ্যে ছেলেরা মধু দিয়ে একটি বিশেষ ধরনের পানীয় তৈরি করত। এই পানীয় তৈরির কৌশলটি হল এরকম: প্রথমে বালচে গাছের ছাল ছেঁটে বার করা হয়, এই চালচেকে নরম করে টাটকা মধু এর সঙ্গে যত্ন করে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই মধু মেশানোর সময় আর টাটকা থাকে না। কেননা মধুকে দু’একদিন মোটামুটি গরম আবহাওয়ায় রেখে কিছুটা মজিয়ে বা পচিয়ে নেওয়া হয়।

এই পচা মধু বালচের (Balche) সঙ্গে মেশানোর পর অনেকটা এখনকার বাংলা মদ বা আদিবাসীদের হাড়িয়ার মত খেতে লাগে। এই বিশেষ ধরনের পানীয় প্রস্তুত করার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে পুরুষদের অংশগ্রহণ এক ধরনের সমবেত আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। এই ধরনের কাজে অনেক সময় যেমন পরিবারের সদস্য/ সদস্যরা নিযুক্ত হয়। আবার অন্যদিকে পেশা বা টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেবার প্রথাও ছিল।

অর্থাৎ আর্থ-বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার ধরন দেখে আমরা বুঝতে পারি মায়া জনসমাজে পেশা বা জীবিকার গোটা আদলটাই ছিল এই কৃষিকাজ বা গবাদি পশু বা ভুট্টা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে। পেশা বলতে বা জীবিকা অর্থে আমরা আধুনিককালের চাকরি বা শিল্পকেন্দ্রিক নগরাঞ্চলের রুটি-রোজগারের পথ বুঝি তা মায়াযুগে একদম ছিল না বললেই চলে।

একথার যাথার্থ্যতা আমরা অনুভব করতে পারব গ্রামাঞ্চলে মায়াদের ইঁদুর, হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণী শিকার করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে। অবশ্য অনেক সময় হাঁস, বড় আকারের পাখি, কুকুর এদের গৃহপালিত পশু হিসেবেও রাখা হয়।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)