১১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ এতিম ও আশ্রয়হীন তরুণদের ভোটাধিকার সংকটে ফেলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নতুন নিয়ম পাখির ফ্লু আতঙ্কে অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ুর সংক্রমণ ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা মেঘালয়ের অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত বেড়ে ২৭, এখনও নিখোঁজ শ্রমিক মেদারামে ভক্তির মহাসমুদ্র, সাম্মাক্কা–সারালাম্মা যাত্রার কোটি মানুষের সমাগম পটুয়াখালীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত শেয়ারবাজারে সপ্তাহের প্রথম দিনে পতন, কমেছে লেনদেন লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা পাশে থাকবে: বাংলাদেশ নিয়ে মোহন ভাগবতের সতর্কবার্তা বাংলাদেশে ভোট বয়কটের ডাক পাঁচ পেশাজীবী সংগঠনের ডনের প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশে পুনরুত্থিত জামায়াত

নরওয়ের প্রাকৃতিক স্যামনের সংকট: মাছ চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

  • Sarakhon Report
  • ১২:১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০২৪
  • 101

সারাক্ষণ ডেস্ক 

প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে, পশ্চিম নরওয়ের ওর্কলা নদীর তীরে অবস্থিত গ্রিনডাল স্যামন লজে মাছ শিকারিরা আটলান্টিক স্যামন ধরার আকাঙ্ক্ষায় ভিড় করে। জুন মাসে শুরু হওয়া এই মৌসুমে স্যামন নদী থেকে সমুদ্রে এবং সেখান থেকে আবার উজানে ফিরে আসে। তবে, এ বছর জুনে মৌসুম শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই ওর্কলা নদী এবং ৩২টি অন্যান্য নরওয়েজিয়ান জলপথে স্যামন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কারণ, স্যামনের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে গিয়েছে।

স্যামন মাছের সংখ্যা হ্রাসের পেছনের কারণ

পৃথিবীর প্রাকৃতিক আটলান্টিক স্যামন মাছের সংখ্যা কয়েক দশক ধরে হ্রাস পাচ্ছে, যেখানে ২০২১ এবং ২০২৩ সালের রেকর্ডকৃত পরিসংখ্যান ছিল সর্বনিম্ন। মূল সমস্যা শুধু কম সংখ্যক স্যামন উজানে পৌঁছানোর নয়, বরং তাদের ডিম পাড়ার অক্ষমতা। ২০২৪ সালের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ডিম পাড়ার জন্য ফিরে আসা পরিপক্ক স্যামনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

স্যামন মাছের জীবনচক্র অনুযায়ী, তারা মিঠা পানিতে ডিম পাড়ে এবং সমুদ্রে বড় হতে যায়। সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তারা ডিম পাড়তে ফিরে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, পরিণত ডিম পাড়া স্ত্রী স্যামনের পরিবর্তে অল্পবয়সী পুরুষ মাছ বেশি দেখা যাচ্ছে।

মাছ চাষ এবং প্রাকৃতিক স্যামনের উপর প্রভাব

নরওয়ের বহু-বিলিয়ন ডলারের মাছ চাষ শিল্প প্রাকৃতিক স্যামনের সংখ্যা হ্রাসের একটি বড় কারণ। চাষ করা মাছের মধ্যে পরজীবী এবং রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, যা প্রাকৃতিক মাছের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, চাষ করা মাছ পালিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক স্যামনের সাথে সংকরায়িত হয়, যা প্রাকৃতিক প্রজাতির গুণমান হ্রাস করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা

পরিপক্ক স্যামনের মৃত্যুর পেছনে মাছ চাষের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। উষ্ণ সমুদ্র এবং পরিবর্তিত স্রোত খাদ্য শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলছে।

টেকসই সমাধানের প্রয়োজন

পরিস্থিতি সামাল দিতে গবেষকরা মাছ চাষের পুরোনো প্রযুক্তি বাদ দিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক স্যামনের সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

প্রাকৃতিক আটলান্টিক স্যামনকে মাছ চাষ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং অম্লবৃষ্টির মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী লড়াই, যেখানে টেকসই পদক্ষেপই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি সংরক্ষণ করতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বমঞ্চে মুরাকামি—আন্তর্জাতিক দর্শককে মাথায় রেখে নতুন নাট্যরূপ

নরওয়ের প্রাকৃতিক স্যামনের সংকট: মাছ চাষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

১২:১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০২৪

সারাক্ষণ ডেস্ক 

প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে, পশ্চিম নরওয়ের ওর্কলা নদীর তীরে অবস্থিত গ্রিনডাল স্যামন লজে মাছ শিকারিরা আটলান্টিক স্যামন ধরার আকাঙ্ক্ষায় ভিড় করে। জুন মাসে শুরু হওয়া এই মৌসুমে স্যামন নদী থেকে সমুদ্রে এবং সেখান থেকে আবার উজানে ফিরে আসে। তবে, এ বছর জুনে মৌসুম শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই ওর্কলা নদী এবং ৩২টি অন্যান্য নরওয়েজিয়ান জলপথে স্যামন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কারণ, স্যামনের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে কমে গিয়েছে।

স্যামন মাছের সংখ্যা হ্রাসের পেছনের কারণ

পৃথিবীর প্রাকৃতিক আটলান্টিক স্যামন মাছের সংখ্যা কয়েক দশক ধরে হ্রাস পাচ্ছে, যেখানে ২০২১ এবং ২০২৩ সালের রেকর্ডকৃত পরিসংখ্যান ছিল সর্বনিম্ন। মূল সমস্যা শুধু কম সংখ্যক স্যামন উজানে পৌঁছানোর নয়, বরং তাদের ডিম পাড়ার অক্ষমতা। ২০২৪ সালের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে ডিম পাড়ার জন্য ফিরে আসা পরিপক্ক স্যামনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

স্যামন মাছের জীবনচক্র অনুযায়ী, তারা মিঠা পানিতে ডিম পাড়ে এবং সমুদ্রে বড় হতে যায়। সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তারা ডিম পাড়তে ফিরে আসে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, পরিণত ডিম পাড়া স্ত্রী স্যামনের পরিবর্তে অল্পবয়সী পুরুষ মাছ বেশি দেখা যাচ্ছে।

মাছ চাষ এবং প্রাকৃতিক স্যামনের উপর প্রভাব

নরওয়ের বহু-বিলিয়ন ডলারের মাছ চাষ শিল্প প্রাকৃতিক স্যামনের সংখ্যা হ্রাসের একটি বড় কারণ। চাষ করা মাছের মধ্যে পরজীবী এবং রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, যা প্রাকৃতিক মাছের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, চাষ করা মাছ পালিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক স্যামনের সাথে সংকরায়িত হয়, যা প্রাকৃতিক প্রজাতির গুণমান হ্রাস করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা

পরিপক্ক স্যামনের মৃত্যুর পেছনে মাছ চাষের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। উষ্ণ সমুদ্র এবং পরিবর্তিত স্রোত খাদ্য শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলছে।

টেকসই সমাধানের প্রয়োজন

পরিস্থিতি সামাল দিতে গবেষকরা মাছ চাষের পুরোনো প্রযুক্তি বাদ দিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক স্যামনের সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

প্রাকৃতিক আটলান্টিক স্যামনকে মাছ চাষ, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং অম্লবৃষ্টির মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী লড়াই, যেখানে টেকসই পদক্ষেপই পারে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি সংরক্ষণ করতে।