০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, দুই জেলার দ্বন্দ্বে ভোগান্তি চরমে এসএসসির প্রথম দিনেই ২৫ হাজারের বেশি অনুপস্থিত জাপানে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর আরও বড় কম্পনের আশঙ্কা, বিশেষ সতর্কতা জারি দুই দশকের অপেক্ষার অবসান, গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় আইন পাস করল ইন্দোনেশিয়ার সংসদ বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ৭৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল ইসলামি ব্যাংকিংয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী শরিয়াহ শাসনের ওপর জোর মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালে টেন্ডার বিরোধ: উপ-পরিচালককে ছুরিকাঘাত, আটক ৫ রাজস্ব ঘাটতি ৯৮ হাজার কোটি টাকা: বাজেটের আগে শুল্ক কমানোর জোর দাবি ব্যবসায়ীদের জিল্লুর রহমানের স্ত্রীকে বিএনপির এমপি মনোনয়ন নিয়ে ব্যাখ্যা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পেলেন অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম

ভিয়েতনামের জন্য কঠিন চার বছর অপেক্ষা করছে

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪
  • 122

 প্রিয়াঙ্কা কিশোর

ভিয়েতনামের নতুন প্রেসিডেন্ট লুওং কুয়াং সম্প্রতি পেরুতে এপেক সিইও সামিটে বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “নির্বাসনবাদ, সুরক্ষাবাদ এবং বাণিজ্য যুদ্ধ কেবল মন্দা, সংঘাত এবং দারিদ্র্যের দিকে নিয়ে যায়।”

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রস্তাবিত নীতিগুলো, বিশেষ করে আমদানিতে ৬০% শুল্ক এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (আইপিইএফ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার, ভিয়েতনামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

২০১৬-২০২৩ সময়কালে ভিয়েতনামের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দ্বিগুণ বেড়ে ৮৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চীনের ওপর ভিয়েতনামের আমদানি নির্ভরতা ২৯% থেকে বেড়ে ৩৮%-এ পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের নজর কাড়তে পারে।

চীনের সঙ্গে সংযুক্তি এবং উদ্বেগ

ভিয়েতনাম চীন+১ কৌশলের বড় সুবিধাভোগী হিসেবে $২৬১ বিলিয়ন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। তবে, চীনা কোম্পানিগুলোও ভিয়েতনামে তাদের কার্যক্রম দ্রুত প্রসারিত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

২০২৩ সালে চীন ভিয়েতনামের চতুর্থ বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠে, যা ২০১৫ সালের $৭৩৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে $৪.৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের চীন-বিরোধী মনোভাবের কারণে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য প্রভাব

ভিয়েতনামের অর্থনীতির জন্য ট্রাম্পের শুল্ক একটি বড় ধাক্কা হবে। ২০২৩ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৫৮% অংশই বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। শুল্ক আরোপিত হলে রপ্তানিতে মন্দা দেখা দিতে পারে, যা কর্মসংস্থান এবং আয় কমাবে।

বিদ্যমান ফ্রি ট্রেড চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ভিয়েতনাম নতুন বাজারে রপ্তানি পুনর্নির্দেশ করতে পারে। তবে চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ভিয়েতনামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ভিয়েতনামের করণীয়

ভিয়েতনামের সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণ এবং উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশটির শ্রম সংকট, কম উৎপাদনশীলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে একটি উৎপাদনশীল কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা ভিয়েতনামকে চীন+১ কৌশলের সুবিধা নিতে এবং ট্রাম্পের নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস বন্ধ, দুই জেলার দ্বন্দ্বে ভোগান্তি চরমে

ভিয়েতনামের জন্য কঠিন চার বছর অপেক্ষা করছে

০৩:৫৮:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

 প্রিয়াঙ্কা কিশোর

ভিয়েতনামের নতুন প্রেসিডেন্ট লুওং কুয়াং সম্প্রতি পেরুতে এপেক সিইও সামিটে বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “নির্বাসনবাদ, সুরক্ষাবাদ এবং বাণিজ্য যুদ্ধ কেবল মন্দা, সংঘাত এবং দারিদ্র্যের দিকে নিয়ে যায়।”

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রস্তাবিত নীতিগুলো, বিশেষ করে আমদানিতে ৬০% শুল্ক এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক (আইপিইএফ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার, ভিয়েতনামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

২০১৬-২০২৩ সময়কালে ভিয়েতনামের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দ্বিগুণ বেড়ে ৮৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চীনের ওপর ভিয়েতনামের আমদানি নির্ভরতা ২৯% থেকে বেড়ে ৩৮%-এ পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের নজর কাড়তে পারে।

চীনের সঙ্গে সংযুক্তি এবং উদ্বেগ

ভিয়েতনাম চীন+১ কৌশলের বড় সুবিধাভোগী হিসেবে $২৬১ বিলিয়ন বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। তবে, চীনা কোম্পানিগুলোও ভিয়েতনামে তাদের কার্যক্রম দ্রুত প্রসারিত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

২০২৩ সালে চীন ভিয়েতনামের চতুর্থ বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠে, যা ২০১৫ সালের $৭৩৫ মিলিয়ন থেকে বেড়ে $৪.৫ বিলিয়নে পৌঁছেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের চীন-বিরোধী মনোভাবের কারণে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য প্রভাব

ভিয়েতনামের অর্থনীতির জন্য ট্রাম্পের শুল্ক একটি বড় ধাক্কা হবে। ২০২৩ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের ১৫৮% অংশই বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। শুল্ক আরোপিত হলে রপ্তানিতে মন্দা দেখা দিতে পারে, যা কর্মসংস্থান এবং আয় কমাবে।

বিদ্যমান ফ্রি ট্রেড চুক্তিগুলোর মাধ্যমে ভিয়েতনাম নতুন বাজারে রপ্তানি পুনর্নির্দেশ করতে পারে। তবে চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ভিয়েতনামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ভিয়েতনামের করণীয়

ভিয়েতনামের সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যকরণ এবং উৎপাদন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশটির শ্রম সংকট, কম উৎপাদনশীলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে একটি উৎপাদনশীল কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা ভিয়েতনামকে চীন+১ কৌশলের সুবিধা নিতে এবং ট্রাম্পের নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে।