০১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত জলপ্রপাত: আড়াআড়ি স্রোত, উল্টো ধারা আর কুয়াশার জলপ্রপাতের বিস্ময় বিবাহবিচ্ছেদের পর একাকী জীবনের কঠিন বাস্তবতা: আয় কমে খরচ বেড়ে বদলে যাচ্ছে জীবনধারা এজেএল ৪০: নবাগত তারকারা নতুন সুরে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত ফ্লেমিঙ্গো ছানার জীবনচক্র ও গোলাপি রঙে বদলের অবাক করা রহস্য সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট তালিকাভুক্তির পরিকল্পনায় থাই হসপিটালিটি জায়ান্ট ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রে একের পর এক রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু: আতঙ্ক ছড়াচ্ছে উপকূলজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়: ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কা ও স্লিপার সেল আতঙ্কে বিশ্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি ২৩ কোটি রিঙ্গিত আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: এনজিও কেলেঙ্কারিতে বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ হরমুজ সংকটে ভারতে গ্যাসের তীব্র সংকট, রাস্তায় নেমেছে শ্রমিকদের ক্ষোভ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 126

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রাসঙ্গিক (Formal) সাক্ষীদিগের কথা ছাড়িয়া দিলে, ফরিয়াদীর পক্ষ হইতে কমল উদ্দীন, তাহার ভৃত্য হোসেন আলি, খাজা পিক্রস, সদর উদ্দীন, মোহনপ্রসাদ, নবকৃষ্ণ, সহবৎ পাঠক এবং কৃষ্ণজীবন দাস এই আটজন প্রধান সাক্ষীকে উপস্থিত করা হয়। ফরিয়াদীপক্ষ হইতে এরূপ প্রমাণ করিতে চেষ্টা করা হয় যে, বুলাকীদাসের অঙ্গীকার-পত্রে যে তিন জন সাক্ষী ছিল, তাহাদের মধ্যে শীলাবতের মৃত্যু হইয়াছে, মাতাব রায় নামে কোন লোকই ছিল না ও মহম্মদ কমল, কমল উদ্দীন খাঁ ব্যতীত আর কেহই নহে।

আসামী পক্ষ হইতে প্রমাণ করিতে চেষ্টা করা হয় যে, অঙ্গীকার-পত্রের তিন জন সাক্ষীরই মৃত্যু ঘটিয়াছে। আমরা এই সাক্ষীদিগের মধ্য হইতে দুই চারি জনের সাক্ষ্যের সংক্ষিপ্ত মর্ম্ম প্রদান করিতেছি। পূর্ব্বে উল্লিখিত হইয়াছে যে, বুলাকীদাসের অঙ্গীকার-পত্রে মাতাব রায় ও মহম্মদ কমল মোহর করে ও শীলাবৎ নাম স্বাক্ষর করিয়া দেয়। কমল উদ্দীনের সাক্ষ্য হইতে প্রমাণ করিতে চেষ্টা করা হইয়াছিল যে, অহম্মদ কমলের মোহরই তাহার নিজের মোহর। এই কমল উদ্দীনই আমাদিগের পূর্ব্বোল্লিখিত সেই শয়তান-প্রকৃতি হিজলীর ইজারদার।

কমল উদ্দীন বলিতে আরম্ভ করে যে, ১৯৬৩খৃঃ অব্দে যখন নন্দকুমার নবাব মীর জাফরের সহিত মুঙ্গেরে অবস্থান করিতেছিলেন, সেই সময় সে মুঙ্গেরে মহারাজের নিকট তাহার মোহর পাঠাইয়া দেয়। মোহর পাঠাইবার এইরূপ কারণ উপস্থিত হয়। এক সময়ে কমল উদ্দীন কোন কারণে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হইয়াছিল; পরে কারাগার হইতে মুক্তি লাভ করিলে, সে নবাব মীর জাফরের নিকট এক আর্জি দাখিল করিবার ইচ্ছা করে। নন্দকুমারকে সে কথা জানাইলে, তিনি আজি লিখাইয়া কমলের মোহরসংযুক্ত করিবার জন্য তাহা চাহিয়া পাঠান।

এইজন্য সে নবাবকে > স্বর্ণ মোহর ও ৪ টাকা নজর এবং নন্দকুমারকে সেইরূপ এক স্বর্ণ মোহর ও ৪ টাকা নজর পাঠাইয়া সেই সঙ্গে তাহার নামের মোহরও পাঠাইয়া দেয়। অঙ্গীকার-পত্রের মোহরে আবদুল মহম্মদ কমল লেখা থাকায় এবং তাহার নাম কমল উদ্দীন হওয়ায় উভয়ের পার্থক্যের কথা জিজ্ঞাসা করিলে, কমল উত্তর দেয় যে, পূর্ব্বে তাহার নাম মহম্মদ কমল ছিল; পরে নবাব নজম উদ্দৌলার সময় যে কমল উদ্দীন আলি খ। এই উপাধি পাইয়াছে এবং তদবধি সে সেই নামের একটি মোহর ব্যবহার করিয়া থাকে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২২৪)

১১:০০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রাসঙ্গিক (Formal) সাক্ষীদিগের কথা ছাড়িয়া দিলে, ফরিয়াদীর পক্ষ হইতে কমল উদ্দীন, তাহার ভৃত্য হোসেন আলি, খাজা পিক্রস, সদর উদ্দীন, মোহনপ্রসাদ, নবকৃষ্ণ, সহবৎ পাঠক এবং কৃষ্ণজীবন দাস এই আটজন প্রধান সাক্ষীকে উপস্থিত করা হয়। ফরিয়াদীপক্ষ হইতে এরূপ প্রমাণ করিতে চেষ্টা করা হয় যে, বুলাকীদাসের অঙ্গীকার-পত্রে যে তিন জন সাক্ষী ছিল, তাহাদের মধ্যে শীলাবতের মৃত্যু হইয়াছে, মাতাব রায় নামে কোন লোকই ছিল না ও মহম্মদ কমল, কমল উদ্দীন খাঁ ব্যতীত আর কেহই নহে।

আসামী পক্ষ হইতে প্রমাণ করিতে চেষ্টা করা হয় যে, অঙ্গীকার-পত্রের তিন জন সাক্ষীরই মৃত্যু ঘটিয়াছে। আমরা এই সাক্ষীদিগের মধ্য হইতে দুই চারি জনের সাক্ষ্যের সংক্ষিপ্ত মর্ম্ম প্রদান করিতেছি। পূর্ব্বে উল্লিখিত হইয়াছে যে, বুলাকীদাসের অঙ্গীকার-পত্রে মাতাব রায় ও মহম্মদ কমল মোহর করে ও শীলাবৎ নাম স্বাক্ষর করিয়া দেয়। কমল উদ্দীনের সাক্ষ্য হইতে প্রমাণ করিতে চেষ্টা করা হইয়াছিল যে, অহম্মদ কমলের মোহরই তাহার নিজের মোহর। এই কমল উদ্দীনই আমাদিগের পূর্ব্বোল্লিখিত সেই শয়তান-প্রকৃতি হিজলীর ইজারদার।

কমল উদ্দীন বলিতে আরম্ভ করে যে, ১৯৬৩খৃঃ অব্দে যখন নন্দকুমার নবাব মীর জাফরের সহিত মুঙ্গেরে অবস্থান করিতেছিলেন, সেই সময় সে মুঙ্গেরে মহারাজের নিকট তাহার মোহর পাঠাইয়া দেয়। মোহর পাঠাইবার এইরূপ কারণ উপস্থিত হয়। এক সময়ে কমল উদ্দীন কোন কারণে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হইয়াছিল; পরে কারাগার হইতে মুক্তি লাভ করিলে, সে নবাব মীর জাফরের নিকট এক আর্জি দাখিল করিবার ইচ্ছা করে। নন্দকুমারকে সে কথা জানাইলে, তিনি আজি লিখাইয়া কমলের মোহরসংযুক্ত করিবার জন্য তাহা চাহিয়া পাঠান।

এইজন্য সে নবাবকে > স্বর্ণ মোহর ও ৪ টাকা নজর এবং নন্দকুমারকে সেইরূপ এক স্বর্ণ মোহর ও ৪ টাকা নজর পাঠাইয়া সেই সঙ্গে তাহার নামের মোহরও পাঠাইয়া দেয়। অঙ্গীকার-পত্রের মোহরে আবদুল মহম্মদ কমল লেখা থাকায় এবং তাহার নাম কমল উদ্দীন হওয়ায় উভয়ের পার্থক্যের কথা জিজ্ঞাসা করিলে, কমল উত্তর দেয় যে, পূর্ব্বে তাহার নাম মহম্মদ কমল ছিল; পরে নবাব নজম উদ্দৌলার সময় যে কমল উদ্দীন আলি খ। এই উপাধি পাইয়াছে এবং তদবধি সে সেই নামের একটি মোহর ব্যবহার করিয়া থাকে।